আপডেট: ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৮   ||   ||   মোট পঠিত ১০৫ বার

যশোরে ২৯৬ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নোটিশ

দেওয়ান মোর্শেদ আলম : ভাঙার সময় মাত্র ৭ দিনযশোরে ভৈরব নদের দু’পাড়ের ২৯৬ অবৈধ স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে ভেঙে নেয়ার চূড়ান্ত নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এসব অবৈধ স্থাপনার মধ্যে নদ খনন ইস্যূতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া ১১৮ টি ছাড়াও সড়ক ও জনপথ এবং জেলা প্রশাসন মিলিয়ে ১৭৬টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো ভেঙে না নিলে আগামি ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাইকিং করে উচ্ছেদ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসকের হুঁশিয়ারি, কোনো ওজর আপত্তি নয়, সময় মাত্র ৭ দিন।
এ নোটিশের পর জমি না থেকেও জমিদার সেজে বসা স্বার্থান্বেসী মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। অনেকের মধ্যে শুরু হয়েছে হা হুঁতাশ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্প ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দ্রুত ভৈরব নদ খননে একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দু’পাড়ের অবৈধ স্থাপনা। ১৯২৬ সালের রেকর্ডের আলোকে নদ সীমানার ১১৮ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হলে খনন কাজ তরান্বিত করা যাচ্ছে না। ওই ১১৮ স্থাপনা উচ্ছেদ প্রশাসনের সামনে অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থাপনা উচ্ছেদ করে দিতে জেলা প্রশাসনের কাছে পাউবো তালিকা দিলেও নির্ধারিত সময়ে উচ্ছেদ না হওয়ায় শহরের অংশে প্রথমে কাজ শুরু বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শেষমেশ কাজ শুরু হয়েছে শহরতলীর কনেচপুর থেকে। সেখানে কাজের পরিবেশ তৈরী না হওয়ায় পানি সেচের কাজ চলছে। সর্বোচ্চ সময় জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শহরের অংশে ভৈরব নদ খনন শুরুর টার্গেট থাকলেও বড় সমস্যা ভৈরবের দু’পাড়ের ১১৮টি কাচা পাকা অবৈধ স্থাপনা। আর দেরিতে হলেও জেলা প্রশাসন সরকারি মাপজোক ও আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র ও আইনী জটিলতা নিরসন করে গত ২৮ জানুয়ারি থেকে উচ্ছেদ নোটিশ দেয়া শুরু করেছে। তবে এই তালিকায় শুধু পাউবোর ১১৮টি অবৈধ স্থাপনা নয়, এতে যোগ হয়েছে সড়ক ও জনপথের সম্পত্তিসহ জেলা প্রশাসনের নিজস্ব বিপুল পরিমান সম্পত্তি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১১৮ অবৈধ স্থাপনার ছবি তুলে এবং অবৈধ দখলদারদের নাম ঠিকানা ও অবস্থান জেলা প্রশাসকের দপ্তরে দেয়া হয়। সড়ক ও জনপথের সম্পত্তির অবস্থান জেলা প্রশাসনে দেয়। আর সর্বোপরি জেলা প্রশাসনের নিজস্ব সম্পত্তির তালিকা ও মাপজোকে সময় লেগেছে। তবে উচ্ছেদে সময় নেয়া হচ্ছে খুবই কম।
যশোরবাসীর বহুকাঙ্খিত ভৈরব নদ খনন, অপরিকল্পিত নদী শাসন বন্ধ এবং শহরের পরিবেশ সুরক্ষা ও অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্য নিরসনে এবার হার্ড লাইনে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, যশোর শহর অংশের ভৈরব নদের পাড়ে শতাধিক বিল্ডিং গড়ে উঠেছে। আবার ১০টি কারখানার অবস্থানও ভৈরব পাড়ে। অনেকগুলো বইয়ের দোকান, কয়েকটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে নদের একাংশ দখল করে। বাণিজ্যিক মার্কেটও রয়েছে কতকগুলো। তীর ভূমি দখল করে ঘাট, গোডাউন, বাড়ি, নির্মাণও হয়েছে। সব মিলিয়ে এর সংখ্যা ২৯৬টি। এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকবার নোটিশ দেয়া হলে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা ঠুঁকে দেয়া হয়। বিশেষ করে ডিসিআরের নামে ভৈরবের পাড়ের যেসব বই দোকানী ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তাদের ডিসিআরটি ১৯৮৫ সালে বাতিল করা হয়। সেই থেকে ওই জমি সরকারের তত্ত্বাবধানে চলে আসে। এরপর সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ঠুকে দিয়ে অনৈতিকভাবে অনেক দোকানী তাদের ব্যবসা পরিচালনা অব্যাহত রাখেন। ৮০ নম্বর মৌজার ৯০ শতক জমির মধ্যে ৩০ শতকের মত রেকর্ড করে নেয়া হয় সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে। এগুলোও চূড়ান্ত উচ্ছেদের তালিকায় এসেছে। আবার সরকারি ও অন্য আরও কয়েকটি সরকারি বিভাগের সম্পত্তি জবর দখলে নিয়ে ভবন বানিয়ে তা আবার ভাড়া দিয়ে অর্থ লুটে নিচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে। সেগুলোকেও উচ্ছেদ তালিকায় রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে এবারের উচ্ছেদ নোটিশ দলমত নির্বিশেষে। যশোরবাসীর স্বার্থে উচ্ছেদ কার্যক্রম তরান্বিত করা হচ্ছে।
সূত্রটি আরও জানায়, ভৈরব নদের গভীরতা কমে যাওয়া ও নাব্যতা না থাকার প্রধান কারণ দু’পাশের অবৈধ দখলদাররা। অবৈধ স্থাপনার কারণে নদী অংশ খালে পরিণত হওয়ায় দীর্ঘদিন ¯্রােত ধারা বিঘিœত হয়ে আসছে। যশোরাঞ্চলের শহর, পাড়া-মহল্লা ও লোকালয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আসছে। এ নিয়ে এ অঞ্চলের গণমানুষের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সময়োপযোগী পদক্ষেপ হাতে নেন। ভৈরব নদের দৈনদশা উপলব্ধি করে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহন করেন। ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ভৈরব নদ পুন খননে ২৭২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১৮টি কাচা পাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ভৈরবের শহরের অংশ খনন তরান্বিত করা হবে। আর সড়ক ও জনপথের সম্পত্তি এবং জেলা প্রশাসনের সম্পত্তি থেকে অবৈধ স্থাপনা একই সাথে খালি করা হবে। এতে যশোর শহর নতুনভাবে প্রান পেতে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে যশোরের জেলা প্রশাসক আশরাফ উদ্দিন গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, ২৮ জানুয়ারি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে চুড়ান্ত নোটিশ জারি শুরু হয়েছে। অনেকের হাতে এই নোটিশ ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে। দু’একদিনের মধ্যে ২৯৬ অবৈধ স্থাপনার মালিকদের সবার হাতে এটা পৌছুবে। আর নোটিশ প্রদানের সাত দিনের মধ্যে ভেঙে নিতে বলা হয়েছে। সাত দিন পর থেকে শহরে মাইকিং করে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। আর কোনো সময় দেয়া হবেনা, এটাই চুড়ান্ত নোটিশ।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj