আপডেট: ফেব্রুয়ারী ১, ২০১৮   ||   ||   মোট পঠিত ৯৭ বার

রাতে ফরম পূরণ করে সকালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ

তুষার আহসান: নবম শ্রেণিতে উঠেই করতে হয় এসএসসি’র রেজিস্ট্রেশন। এরপর ১০ম শ্রেণির টেস্টে উত্তীর্ণ হয়ে ফরম পূরণের মাধ্যমে এসএসসির প্রবেশপত্র নিয়ে অংশ নিতে হয় পরীক্ষায়। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার আগের দিন বিকালে কিংবা সন্ধ্যারাতে রেজিস্ট্রেশন শেষে ফরমপূরণ করে প্রবেশপত্র সংগ্রহ এবং পরদিন সকালে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনা অবিশ্বাস্য। কিন্তু সেই অবিশ্বাস্য ঘটনাই ঘটেছে যশোর বোর্ডে। আজ এসএসসি পরীক্ষা হলেও গতকাল রাতেও রেজিস্ট্রেশন ও ফরমপূরণ করে প্রবেশপত্র নিতে দেখা গেছে। আর রেজিস্ট্রেশন, প্রবেশপত্র সংশোধন চলেছে রাত অবধি। শিক্ষা বোর্ডে সরেজমিনে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।
গতকাল বুধবার রাত তখন সাড়ে সাতটা। যশোর শিক্ষা বোর্ডের ৬০১ নম্বর কক্ষে তখনও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নতুন রেজিস্ট্রেশনের কাজ চলছিলো। চলছিলো ফরম পূরণের কার্যক্রম। অবশ্য সাংবাদিকদের কাছে এসব বিষয় স্কুল শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা লুকানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলেছে, গতকাল তারা ২২জনের মতো এসএসসি পরীক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহের সুযোগ দিয়েছে।
জানা যায়, যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার পাঠান পাইকপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩ জন প্রকৃত শিক্ষার্থী বোর্ডের নিয়ম অনুয়ায়ী রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণ করেছিলো। কিন্তু ওই স্কুলের শিক্ষকরা অবহেলায় করে এসব শিক্ষার্থীর তথ্য অনলাইনে পূরণ হয়নি। ফলে তারা এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র না পেলে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক উজ্জ¦ল কুমারের নজরে আসে। শুধু উজ্জ্বল কুমারই নন, বোর্ডের অধীনের কুষ্টিয়ার খোকশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মাগুরা এবং যশোর সদর, নওয়াপাড়া ও বাঘারপাড়ার কয়েকটি স্কুলে একই ধরণের সমস্যা গোচরে আসে সংশ্লিষ্টদের।
পাঠান পাইকপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উজ্জ্বল কুমার বলেন, ‘আমরা অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করেছিলাম। কিন্তু কীভাবে এমন হয়েছে আমরা জানি না।’
যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, ‘শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবনের কথা চিন্তা করে প্রকৃত পরীক্ষার্থী যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হচ্ছে। শিক্ষকদের ভুলে এইসব শিক্ষার্থীর জীবন যেনো ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে, আমরা সে ব্যবস্থাই করেছি।’
যশোর শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ আব্দুল আলিম বলেন, ‘এ ধরণের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত। একটি স্কুলের প্রধানের অবহেলায় কয়েকজন ছাত্রী পরীক্ষার প্রবেশপত্র পায়নি। তখন ওই প্রধান শিক্ষক আমাকে জানান। কোমলমতি ওই সব মেয়ের জীবন আমার কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হয়েছে। তাছাড়া একজন শিক্ষকের ভুলের বলি তারা হবে- এটা মেনে নেয়া যায় না। মানবিক কারণেই আমার বিশেষ ক্ষমতা বলে তাদের রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের আবেদন মঞ্জুর করি। একই সাথে ওই প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কারের জন্য ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে নির্দেশ দিই।’
তিনি আরও বলেন, ‘অন্যান্য স্কুলে যেসব ভুল ছিলো তা অতি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
‘এই সব পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা কেন্দ্র কোথায় হবে’-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কেন্দ্রে তেমন সমস্যা না। প্রশ্নপত্র নিয়ে একটু সমস্যা মনে করেছি আমরা। তবে কেন্দ্রে কয়েকটি প্রশ্ন আমরা বেশি দিয়ে থাকি। সেক্ষেত্রে সমস্যা হবে না বলে আমরা মনে করছি। তাছাড়া স্ব-স্ব জেলায় ওই বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে এই তথ্য জানিয়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
এদিকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি দুই স্কুলছাত্র গতকাল রাত সাড়ে ৯টার আগে জানতে পরেনি তারা পরীক্ষা অংশ নিতে পারছে কিনা। তারা কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র। মোস্তফা আবির ও আসিফ নামের ওই দুই শিক্ষার্থী একটি হত্যা মামলার আসামি হিসেবে কেন্দ্র বন্দি। রাত ৯টার দিকে যশোর কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. শাহাবুদ্দীন দৈনিক সমাজের কথাকে বলেন, ‘আমি এখন বোর্ডে আছি। পরীক্ষায় বসার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে।’
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, মোস্তফা আবির কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র। ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ১৩৬৪০৫। নিবন্ধন নম্বর ১৫১৩৫৯৩৪০৩। আর কেন্দ্র নম্বর কুষ্টিয়া ৪৭৭। কিন্তু বন্দি থাকার কারণে সে তার নির্ধারিত কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে পারছে না। তার পরীক্ষা নেওয়া হবে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে। আর তার হাজিরা স্বাক্ষর হবে যশোরের পুলেরহাট ৩৮৬ নম্বর কেন্দ্রে। এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে। তবে অপর পরীক্ষার্থী আসিফের পরীক্ষা নিয়ে কোন নোটিশ তখনও আপলোড করা হয়নি।
উল্লেখ্য, সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপ্রত্রে আজ যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২৬৯টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬ জন পরীক্ষার্থী এসএসসি’তে অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯১ হাজার ৮২০ জন এবং ছাত্রী ৯১ হাজার ২৩৬ জন। এছাড়া অনিয়মিত আরও ১৫ হাজার ২৫০ জন ছাত্র এবং ১০ হাজার ৮২৩জন ছাত্রী এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। যশোর জেলা থেকে অংশ নেবে ৩১ হাজার ৮৩৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ১৫৯১৯ ছাত্র এবং ১৫৯১৫ ছাত্রী রয়েছে। এছাড়া অনিয়মিত শিক্ষার্থী রয়েছ ৪৩৭১জন।

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha