আপডেট: জানুয়ারী ২৭, ২০১৮   ||   ||   মোট পঠিত ৮৭ বার

চৌগাছায় ৭৫০ হেক্টর জমির বেশির ভাগ বীজতলা কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত : বোরো আবাদে ফলন তির আশঙ্কা

এম এ রহিম,চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় কোল্ড ইঞ্জুরিতে বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় প্রচণ্ড শীতে উপজেলার বোরো ধানের বীজতলা কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষকেরা বীজতলায় ওষুধ ব্যবহার করেও রা করতে পারছেন না। ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধান আবাদে চারা সঙ্কটে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৭৫৫ হেক্টর। সে লক্ষ্যে তেজগোল্ড, এসি আই-২, হাইব্রিড ১২০৩, সুবল লতা, মিনিকেট, ব্রি ধান-২৮, ৫০, ৫৮ ব্রিধান ৬৩ জাতের বীজতলা তৈরী করা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এ সকল বীজ তলার মধ্যে বেশির ভাগ বীজতলা কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ের কৃষকদের অভিযোগ কৃষি কর্মকর্তারা তাদের এই দুর্যোগে সেরকম কিছু করছেন না। এ অবস্থায় কৃষকেরা বোরো আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। এদিকে কৃষি অফিস থেকে বলা হচ্ছে, তারা কৃষকদের পাশে রয়েছেন এবং এ অবস্থার উন্নতি করতেই তারা রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন। শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেই বীজতলা স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। ফলে বোরো উৎপাদনে কোনো প্রভাব পড়বে না।
এ ব্যাপারে উপজেলার ছোটকুলি গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, সাম্প্রতিক শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রা নেমে আসে ৫-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। সেইসঙ্গে প্রকৃতি ঢেকে যায় ঘন কুয়াশায়। তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশা সহ্য করতে পারেনি ধানের চারা। ঠান্ডায় বীজতলার বেশির ভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষাণী ইতি রাণী জানান, আমন মওসুমে বার-বার ভারী বৃষ্টির কারণে ধানে লোকসান গুণতে হয়েছে। তাই সেই লোকসান পুষিয়ে নিতেই বেশি করে বোরো আবাদ করতে বেশি দামে ধান বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করেছিলাম। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার ফলে তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যদি আবহাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবর্তন না হয় এ এলাকায় ইরি-বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্র অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রোববার সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে কিছু এলাকায় ইরি-বোর রোপণের কাজও শুরু হয়েছে। এ সময় কথা হয় ছোট কাকুড়িয়া গ্রামের কৃষক তরিকুল ইসলামের সাথে, তিনি বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে গ্রামের ৫০ জন শ্রমিককে নিয়ে একটি দল গঠন করেছি। আমরা প্রতিদিন ১২/১৫ বিঘা জমি রোপণ করে থাকি। তবে সাম্প্রতিক শৈত্যপ্রবাহ প্রচণ্ড শীতে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। মাঠে এখনো পুরোপুরি রোপণের কাজ শুরু হয়নি। শীত কমলে পুরোপুরি রোপণের কাজ শুরু হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রইচ উদ্দীন বলেন শৈত্যপ্রবাহ ও প্রচণ্ড শীতে উপজেলার কোল্ড ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হয়ে কিছু বীজতলা নষ্ট হয়েছে। বীজতলা ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কৃষি বিভাগের প থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এলাকার অনেক কৃষক আদর্শ বীজতলা তৈরি করায় তাদের তি কম হচ্ছে। বীজতলাকে কোল্ড ইনজুরি থেকে রা করতে সন্ধ্যায় সেচ দিয়ে সকালে সে পানি জমি থেকে বের করে দিয়ে বীজতলা পলিথিলিন দিয়ে ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়লে কৃষকের চিন্তার কোনো কারণ থাকবে না।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj