আপডেট: জানুয়ারী ২৪, ২০১৮   ||   ||   মোট পঠিত ২১৮ বার

২০৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবন নির্মাণ পাল্টে গেছে যশোরের ২৮৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেহারা

তবিবর রহমান: পাড়া গাঁয়ের একটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যশোরের শার্শার পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজ। ক’বছর আগে সেখানে ছিল না কোন ভবন। চাঁচের বেড়া ও টিনেই ছাউনির ক্লাসরুমে পাঠ দান করা হতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে। শিক্ষার্থীরা এতে মনোকষ্টে ভুগলেও রেজাল্ট দেখে সব কষ্ট ভুলে যেত। এইচএসসির ফলাফলে বিগত কয়েক বছর কলেজটি উপজেলায় সেরা হলে সুদৃষ্টি পড়ে স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনের। তারই চেষ্টায় এ কলেজে এখন ৪তলা একটি ও দুই তলার আরও একটি ভবন নির্মিত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করছে। শহরের উপকন্ঠে অবস্থিত উপশহর মহিলা কলেজের অবকাঠামোগত অবস্থা পাকশিয়া কলেজের মতো না হলেও প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষ সংকট ছিল। সেখানে বর্তমানে ৫তলা একটি, ৪তলা একটি, ৩তলা একটি, দুতলা একটি, একতলা ভবন রয়েছে। অবকাঠামোগত এই উন্নয়ন যাত্রায় পাল্টে গেছে যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার চেহারা। সুদৃশ্য ভবনে পাঠদানে খুশি শিক্ষকরা। সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা।
যশোর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবকাঠামোগত পরিসংখ্যান দেখলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। এ দপ্তরটি গত ৯ বছর যশোরের ৮ উপজেলার ২৮৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করেছে। এজন্য সরকার ব্যয় করেছে ২০৭ কোটি ১৯ লক্ষাধিক টাকা। তাদের হিসেব অনুযায়ী জেলার ৪৮টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একাডেমি ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। ‘এডিবি’র অর্থায়নে সাহায্যপুষ্ট মাধ্যমিক শিক্ষাখাত উন্নয়ন’ প্রকল্পে ৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১১টি প্রতিষ্ঠানের ভবন। ৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬টি উপজেলা সদরে মডেল বিদ্যালয় করা হয়েছে। ‘নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পে জেলার ৬৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন করতে সরকার ব্যয় করেছে ৩৭ কোটি ৪৪ লক্ষাধিক টাকা। আর ১১ কোটি ১৭ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ব্যয়ে করা হয়েছে ১৯টি মাদ্রাসায় একাডেমি ভবন। এছাড়া বেসরকারি কলেজের দ্বিতল একাডেমিক ভবন, বিদ্যমান ভবনের তয় ও ৪র্থ তলা সম্প্রসারণ ও চারতলা একাডেমিক ভবন মিলে মোট ৩০টি কাজে খরচ হয়েছে ৬৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। একইভাবে অনুন্নত বাজেটের আওতায় অন্যান্য ভবন ও অবকাঠামো খাতের অধীনে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ/ সম্প্রসার করা হয়েছে ২৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এতে ১৭ কোটি ৫৫ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছে সরকার। আর সরকারি ১২ কলেজের ভবন বাবদ খরচ করেছে ১৩ কোটি ১২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এভাবে ২৮৬ প্রতিষ্ঠানে উন্নয়নের কাজ করেছে যশোর শিক্ষা প্রকৌশল।
জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির যশোর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ভবন নির্মাণ, সম্প্রসারণ প্রকল্পের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানে আইসিটি ল্যাব স্থাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। তাই নতুন শ্রেণিকক্ষে যেমন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ ফিরে এসেছে; তেমনি শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তি জ্ঞানে বিকশিত হতে পারছে। একই মতামত ব্যক্ত করেছেন শার্শার পাকশিয়া আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ আনিছুর রহমান। তিনি মুঠোফোনে বলেন, নতুন ভবনে পাল্টে গেছে শিক্ষার পরিবেশ। শিক্ষকরা স্বস্তির মধ্যে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছে। একই কথা বলেছেন উপশহর মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. শাহানাজ পারভীন। তিনি বলেন, তাদের কলেজে ল্যাব, ক্যান্টিন সবই আছে। মেয়েরা সেখানে উন্নত পরিবেশে লেখাপড়া শিখছে।

 

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha