আপডেট: জানুয়ারী ১৪, ২০১৮   ||   ||   মোট পঠিত ৪২ বার

ব্রকলি চাষে সফল মণিরামপুরের চাষীরা

মনিরুজ্জামান টিটো, মণিরামপুর (যশোর) : ব্রকলি চাষে সফল মণিরামপুরের চাষীরাশীতকালীন ফসলের মধ্যে ব্রকলি একটি জনপ্রিয় ও পুষ্টিগুণে ভরপুর সবজি জাতীয় ফসল। দেখতে ফুলকপির মতোই, তবে রঙে ভিন্ন। গাঢ় সবুজ ব্রকলি পুষ্টি মানে সেরা সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ ও এন্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পুষ্টি গুণে সেরা তালিকাভুক্ত ব্রকলি অর্থনৈতিকভাবেও বেশ এগিয়ে রয়েছে। এর রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। পুষ্টিবিদদের মতে ডায়াবেটিস ও হার্টের অসুখে ব্রকলি বেশ কার্যকরী সবজি। দেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় মণিরামপুরেও এর চাষ শুরু হয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে ব্রকলি চাষ করে সফল মণিরামপুরের চাষীরা।
সরেজমিন উপজেলা রোহিতা ইউনিয়নের পলাশী গ্রামে দেখা যায় একাধিক ব্রকলির ক্ষেত। বছর তিনেক আগে ওই গ্রামের সৌখিন চাষী প্রদীপ বিশ্বাস সর্বপ্রথম চাষ শুরু করেন ব্রকলির। প্রথম বছরেই সফলতার মুখ দেখে আবারো শুরু করেন এ সবজির চাষ। এবারও প্রায় আড়াই হাজার ব্রকলির চারা রোপণ করেছেন তিনি। প্রতিটি গাছেই ইতিমধ্যে ফুল এসেছে। তার দেখা দেখি ওই এলাকার শুকুমার মন্ডল, রতন বিশ্বাস, তাপস মন্ডল, মিজানুর রহমান, শ্রীনিবাস বিশ্বাসসহ অনেকেই ঝুকে পড়েছেন এ ফসল চাষে। প্রায় এক একর জমিতে চাষ করা হয়েছে ব্রকলি।
আমাদের দেশে সাধারণত শীতকালে হরেক রকমের সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। এসময় ফুলকপি অধিকহারে বাজারের আসায় অনেকটা দাম কমে যায়। ফলে চাষীরা দাম না পেয়ে হতাশায় পড়েন। যে কারণে একই রকম ফসল হিসেবে ব্রকলি চাষকে লাভজনক মনে করছেন চাষীরা।
কথা হয় ব্রকলি চাষী প্রদীপ বিশ্বাসের সাথে। জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন এনজিওর চাকরি শেষ করে বাড়িতে ফিরে এসে শুরু করেন ড্রাগন চাষ। তার প্রায় ৬০ টির অধিক ড্রাগন গাছে ফল দিয়েছে। এর পর তিনি একটি বেসরকারি সংস্থার পরামর্শে শুরু করেন ব্রকলি চাষ। প্রথমে তাদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে অক্টোবর মাসে বীজ তলায় ছিটিয়ে চারা তৈরি করেন। এর পর চারা রোপণ করেন মূল জমিতে। পরবর্তী বছরে স্থানীয় কৃষি দপ্তরের সহায়তায় আবারো উন্নত মানের বীজ সংগ্রহ করে তিনি আবারো চাষ করেন। এবারও সফল তিনি। তার দেখাদেখি গ্রামের অন্যান্য চাষীরা তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেন। চারা তৈরি করে তিনি কৃষি অফিসের মাধ্যমে বাইরেও বিক্রি করেছেন বলে জানান।
চাষীরা জানান, এর বাজারদর বেশ ভালো। ফুলকপির মতো একই ফসল হওয়ার পরও ফুলকপির চেয়ে প্রায় তিনগুণ দামে তা বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে। পক্ষান্তরে ব্রকলি অনেকটা রোগ সহিষ্ণু হওয়ায় ফুলকপির চেয়ে তুলনামূলক ভাবে উৎপাদন খরচ কম।
তারা জানান, প্রায় সব গাছেই ফুল এসছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা সংগ্রহ করে বাজারজাত করা যাবে। শহরের কয়েকটি সুপার সপ থেকে অগ্রিম অর্ডার করে রাখা হয়েছে ব্রকলির। স্থানীয় কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন চাষীরা। তবে এচাষে আরোও সরকারি পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।
ব্রকলি ক্ষেতে দেখা মেলে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তুহিন কুমার বিশ্বাসের সাথে। তিনি জানান, আর্লি গ্রীন জাতের এর বীজ অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি বীজতলায় বপণ করা হয়। পরে নভেম্বরের শুরুতে তা মূল ক্ষেতে রোপণ করা হয়ে থাকে। বীজ বপণ হতে ৬০ দিনের মধ্যে এতে ফুল আসে। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে সম্পূর্ণ রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত পদ্ধতিতে ব্রকলি চাষ করা হচ্ছে। এর জমিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহার করা হচ্ছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিসার সুশান্ত কুমার তরফদার জানান, মেধা বিকাশ, চোখের দৃষ্টি বৃদ্ধি, ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণ, রক্তের সঞ্চালন বৃদ্ধিসহ মানবদেহের গৌণ পুষ্টি বজায় রাখার পাশাপাশি ব্রকলি উচ্চ অর্থনৈতিক লাভবান ফসল। এ উপজেলার প্রায় সব এলাকার মাটি এ ফসল চাষের উপযোগী। তাই আগামীতে ব্রকলি চাষের মাধ্যমে চাষীদের অর্থনৈতিক ভাবে সফল করতে কৃষি দপ্তর কাজ করে যাচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj