আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৫৩ বার

শতভাগ পাসের ঐতিহ্য ধরে রাখলেও চমক নেই

তুষার আহসান: জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলে শতভাগ পাসের ঐতিহ্য ধরে রাখলেও গতবারের মতো চমক দেখাতে পারেনি যশোর জিলা স্কুল, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তিনটি স্কুলেই কমেছে জিপিএ-৫। গণিত প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ায় এমন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
গতকাল দুপুরে জেএসসি ও প্রাথমিক সমাপনীর ফল প্রকাশ হয়। ফলাফল প্রকাশের পর জানা যায়, ১৮০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোর জিলা স্কুলে জেএসসি’তে ২৭৮ জনের মধ্যে ১৫৮জনই জিপি-৫ পেয়েছে। গত বছর ২৬৪ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০৮জন। গতবারের তুলনায় জিপিএ-৫’র পরিমাণ শতকরা কমেছে ২১ দশমিক ৯৫ ভাগ। এই স্কুলে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৭৮ জনের মধ্যে ১৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৫৬ জন পেয়েছে ‘এ’।
সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা ১৮০। মোট পরীক্ষা দিয়েছিল ২৭৬ জন। গত বছর ২৪৫ জনের মধ্যে জিপিএ-৫’র সংখ্যা ছিল ১৯৪। এই স্কুলটিতেও জিপিএ-৫’র পরিমাণ শতকরা ১৩ দশমিক ৯৭ ভাগ কমেছে। এ বছর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক সমাপনীতে ২২৪ জন ছাত্রীর ১৮৭জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
পুলিশ লাইন স্কুলে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা শতকরা ৮৩ দশমিক ৬৩ ভাগ। গতবারের তুলনায় এই পরিমান শতকরা ৪ দশমিক ২৪ ভাগ কমেছে। এবার স্কুলের ১১০ জনের ৯২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। গতবার ১৩২ জনের মধ্যে ১১৬জনেরই ছিল জিপিএ-৫। এই স্কুল থেকে প্রাথমিক সমাপনীতে ৮০শিক্ষার্থীর ৬৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বাকিরা ‘এ’ গ্রেডে উত্তীর্ণ হয়েছে।
গতকাল ফল প্রকাশের পর স্বনামধন্য এই তিন স্কুলের ক্যম্পাসে জিপিএ অর্জনকারীদেরকে যেমন ব্যান্ড-বাঁশি আর হর্ষধ্বনিতে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়, তেমনই কাক্সিক্ষত রেজাল্ট করতে না পারায় অশ্রুসিক্ত ছিলো অনেকে।
অভিভাবকরা জানান, ‘বোর্ডের প্রশ্নপত্র গোছানো ও শিক্ষার্থীদের গড় মেধার উপরে নির্ভর করে তৈরি হয়। কিন্তু প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতিতে নির্বাচনী পরীক্ষাতে খুব কঠিন করে প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়েছিল। এরপর থেকেই কোমলমতি শিশুদের মধ্যে ফাসট্রেশন তৈরি হয়েছিলো। নির্বাচনীর পরে মূল পরীক্ষার জন্য খুব কম সময় পাওয়া যায়। এই সময়টুকুতে বিশেষ কী-পয়েন্টের দিকে পরীক্ষার্থীদেরকে নজর দিতে হয়। কিন্তু নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফলের ফাসট্রেশন থেকে শিক্ষার্থীরা ও তাদের শিক্ষকগণ তাদের সন্তানদেরকে কী-পয়েন্ট ও অধ্যায় থেকে সরিয়ে ভিন্নভাবে তৈরি করার চেষ্টা করেন। আর এতেই বিপত্তি ঘটেছে।’
যশোর জিলা স্কুল থেকে জেএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জনকারী সানজিদ মাহমুদ রাহীবের মা রেকসোনা ফারজানা বলেন, ‘এই স্কুলের জেএসসির সব ছেলেরাই আমার সন্তানের মতো। তাদের সবার মুখে খুশি দেখতে পেলে ভালো লাগতো। শিক্ষকরা যথেষ্ট কেয়ার নিয়েছেন। তবে গণিতের প্রশ্নটা একটু কঠিনই ছিলো।’ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জান্নাতুল মাওয়া তোয়া জিপিএ-৫’র আনন্দে হাসিমুখে জানায়, ‘সহপাঠীদের অনেকেরই গণিতে পরীক্ষা খারাপ হয়েছিলো। সম্ভবত এজন্য জিপিএ-৫ পায়নি। তবে শিক্ষকগণ আমাকে যেভাবে বলেছেন সেভাবে প্রস্তুতি নেয়ায় আমি শতভাগ সফলতা অর্জন করেছি।’
বড় হয়ে সামরিক অফিসার হওয়ার স্বপ্নে জেএসসি’র পথ পাড়ি দেয়া ইয়াকুব ইবনে ইসহাক, ইঞ্জিনিয়ার হতে চাওয়া নূর নাসিম ফুয়াদ, তৌফিক হাসান স্বাধীন পরবর্তী জেএসসি’র শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জানায়, ‘মূল বই বেশি করে পড়তে হবে। নৈর্ব্যত্তিকের জন্য খুঁটিনাটি সব মাথায় রাখতে হবে। তাহলেই ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে।’ ইয়াকুব, ফুয়াদ, স্বাধীন যশোর পুলিশ লাইন থেকে জেএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রাথমিক সমাপনীতে জিপিএ-৫ অর্জনকারী বালিকা বিদ্যালয়ের সূচনা করিম তার দাদীর (ওই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক সুফিয়া খাতুনের ) মতো শিক্ষক হতে চাই। জিপিএ-৫ পেয়ে সে ও তার বন্ধুরা আনন্দ প্রকাশ করে।
যশোর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক এ কে এম গোলাম আযম, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফৌজিয়া আক্তার এবং পুলিশ লাইন মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল আজিজের জিপিএ কমে যাওয়া প্রসঙ্গে বলেন, ‘বোর্ডের সার্বিক রেজাল্টের প্রভাব স্কুলগুলোতে পড়েছে। গণিতের প্রশ্নপত্র অনেক শিক্ষার্থী বুঝতে পারেনি। আমাদের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না।’

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha