আপডেট: ডিসেম্বর ৩১, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৫৭ বার

চার লাখ মানুষের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে যশোরে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন

এম. জিহাদ ও আজিজুর রহমান জিকো : চার লাখ মানুষের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে যশোরে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্নশনিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে তিনদিনব্যাপী যশোরের আঞ্চলিক বিশ^ ইজতেমা। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শুরু হয়ে এ মোনাজাত। শেষ হয় ১২টা ২০ মিনিটে। মুসলিম উম্মাহর সুদৃঢ় ঐক্য, দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও দেশের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন ঢাকা কাকরাইল মুসজিদের মুরব্বি মাওলানা মোশাররফ হোসেন। আখেরি মোনাজাতে কমপক্ষে চার লাখ মানুষ অংশ নেয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
আখেরি মোনাজাতে আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফের পাশাপাশি দুনিয়ার সব বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করার জন্যে দু’হাত তুলে প্রার্থনা করা হয়। এ সময় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আমিন আমিন ধ্বনিতে ইজতেমা ময়দান ও আশেপাশের এলাকা মুখরিত করে লাখ লাখ মুসল্লি। আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে অনেক মুসল্লি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন যশোর-৩ (সদর) আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন, যশোর-২ আসনের এমপি এডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনির, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ বিশিষ্ট অনেকেই। এছাড়া রাজনৈতিক ব্যক্তি, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। চার লাখ মানুষের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে যশোরে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্ন
এর আগে ফজর নামাজবাদ বয়ান করেন মুফতি আতাউর রহমান। মোনাজাতের আগে বয়ান করেন ঢাকার মুরব্বি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন। বক্তারা বলেন, দ্বীন ও ইসলামের দাওয়াত আল্লাহ পাকের অসীম রহমত ও অনুগ্রহে তাবলিগ জামাতের মাধ্যমে পৃথিবীর সকল নর-নারীর কাছে পৌঁঁছে দিতে হবে। হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর উম্মতের জিম্মাদার হিসেেেব জানমাল আল্লাহর রাস্তায় ছেড়ে দিয়ে চার লাখ মানুষের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে যশোরে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্নজিন্দেগিতে কিছু সময় দাওয়াত, তালিম, জিকির, নামাজে মশগুল হওয়ার আহ্বান জানান ইসলামী চিন্তাবিদগণ। এ বয়ানের পর লাখ লাখ মুসল্লির প্রতীক্ষার অবসান ঘটে বেলা ১১ টা ৫০ মিনিটে। শুরু হয় আখেরি মোনাজাত। শনিবার ভোর থেকেই ইজতেমা ময়দানে মানুষের ঢল নামে। বেলা ১০টার দিকে ইজতেমা মাঠে মুসল্লিদের উপচেপড়া ভীড়ে আশেপাশের খোলা জায়গা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না কোথাও। অনেকেই মোনাজাতে অংশ্রগহণের জন্যে মূল মাঠে পৌঁছাতে পারেননি। মাঠে স্থান না পেয়ে মুসল্লিরা বিভিন্ন সড়ক, অলি-গলিসহ যে যেখানে পেরেছেন পাটি, বস্তা, পলিথিন, খবরের কাগজ এমনকী খালি জায়গায় মাটির উপর বসে মোনাজাত ধরেন।
মোনাজাতের সময় ইজতেমার মাঠ পেরিয়ে দক্ষিণে বাবলাতলা, উত্তরে সারথী মিল এবং পূর্বে উপশহর ট্রাক স্ট্যান্ড পর্যন্ত যে যেখানে ছিলেন সেখানেই দু’হাত তোলেন আল্লাহর দরবারে। এসময় ইজতেমার আশেপাশের বাড়িতে মহিলাদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। ইজতেমার ময়দানে নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় মহিলাদের সমস্যায় পড়তে হয়। তারা আখেরি মোনাজাত ধরার উদ্দেশে এসেও বসার চার লাখ মানুষের আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে যশোরে আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা সম্পন্নজায়গা না পেয়ে বাড়ি ফিরে যায়। একবছর বাদ দিয়ে এবার যশোরের আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমা বৃহস্পতিবার যোহর নামাজের পর আমবয়ানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। কোনোপ্রকার অসুবিধা ছাড়াই এবারের ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান, ইজতেমার জিম্মাদার মাওলানা রেজাউল ইসলাম রাজু। আখেরি মোনাজাতের পরপরই মুসল্লিরা যে যার গন্তব্যে পা বাড়ান। আর এ কারণে খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে পালবাড়ি এবং যশোর-মাগুরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে ছুটে আসেন হাজারো নারী
যশোর আঞ্চলিক বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে উপস্থিত হন হাজার হাজার নারী। ময়দানে নারীদের বসার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা অবস্থান নেন আশেপাশের বাসা বাড়িতে। গতকাল বেলা ১১ টা ৫০ মিনিটে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, যশোর ছাড়াও মাগুরা, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়াসহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে হাজার হাজার নারী আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। বাসা বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় কেউ কেউ অবস্থান নেন রাস্তার পাশে। আবার কেউ কেউ জায়গা না পেয়ে বাড়িতে ফিরে যান।। ঝিকরগাছা থেকে আসা এক নারী বলেন, ‘আল্লাহর সন্তুষ্টি, ইহকালে শান্তি ও পরকালে মুক্তি পাওয়ার জন্যে এসেছি। শুনেছি আখেরি মোনাজাতে আল্লাহ দোয়া কবুল করেন। তাই একটু কষ্ট হলেও এ সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইনি।’

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj