আপডেট: ডিসেম্বর ২০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৩২ বার

‘সম্মান না দেখালে আগামীর গুণীদের বিকাশ হয় না’

‘সম্মান না দেখালে আগামীর গুণীদের বিকাশ হয় না’জেলা পর্যায়ে সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পাঁচগুণীজনকে ‘জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা’ প্রদান করেছে যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাউনহল মাঠের রওশন আলী মঞ্চে পঞ্চম বারের মতো এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সম্মাননাপ্রাপ্ত পাঁচ গুণীজন হলেন- অনন্ত কুমার দাস (যাত্রাশিল্প), গোলক চন্দ্র বর্মন (সঙ্গীতশিল্পী), অজিত ঘোষ মন্টু (নাট্যকলা), মাহবুব জামাল শামীম (চারুকারু) এবং জন সঞ্জীব চক্রবর্ত্তী (নৃত্য)।
যশোর জেলা প্রশাসক ও শিল্পকলা একাডেমির সভাপতি আশরাফ উদ্দিন গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান করেন। সম্মাননা প্রাপ্ত প্রত্যেক গুণীজনকে একটি করে মেডেল, সনদপত্র, উত্তরীয় এবং ১০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প কলার সহ সভাপতি আবু সালেহ তোতা, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, যুগ্ম সম্পাদক দীপংকর দাস রতন, কালচারাল অফিসার ও কোষাধ্যক্ষ হায়দার আলী, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহবুবুর রহমান মজনু, হারুন অর রশীদ, সুকুমার দাস, সাজ্জাদ গণি খাঁন রিমন এবং রওশন আরা রাসু।
সম্মাননা বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, গুণীজনদের সম্মাননা প্রদান ও অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের মাধ্যমে হাজারো গুণীজনের সৃষ্টি হবে। কেননা সম্মান না দেখালে আগামীর গুণীদের বিকাশ হয় না। শিল্পকলার সভাপতি হিসেবে বিশেষ এ ব্যক্তিত্বদের তিনি সম্মাননা প্রদান করতে পেরে গর্বিত। যশোরের সাংস্কৃতিক বিকাশে তাদের ভূমিকার প্রতি অতল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন তিনি।
এদিকে এ সম্মাননা পেয়ে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করে সংবর্ধিত গুণীজনেরা বলেন নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষায় তারা নিজ থেকে কাজ করে গেছেন এখনও তা অব্যাহত আছে। এ সম্মাননা তাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। যতদিন জীবন প্রদীপ জ্বলবে নিজেদের সাধ্যমত তারা কাজ করে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সরকার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু বলেন, দেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তবে ধর্মের নামে বিভিন্ন অপকর্ম চলছে যা ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র। এ ধর্মীয় উগ্রগোষ্ঠির বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। এ সময় দেশের সামগ্রীক পরিস্থিতিতে আরো বেশি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা দরকার। গুণীজনদের এ সম্মাননা অনুষ্ঠানের সাথে সংস্কৃতি কর্মীদের মিলনমেলা প্রমাণ করে দেশের শত্রুদের আমরা পরাজিত করবোই।
কামরুল হাসান রিপনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সুরবিতান, শিল্পকলা, সুরধুনী, নৃত্য বিতান, উদীচী, কিংশুক, বিবর্তন, চাঁদের হাট, তীর্যক এবং শেকড়ের নির্বাচিত শিল্পীবৃন্দ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন।

তথ্যসূত্রঃ Gramarkagoj