আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪১ বার

বকচরের গৃহবধূ ফারহানা বাড়ির ছাদে ঘটিয়েছেন সবুজ বিপ্লব

মিনা বিশ্বাস : বকচরের গৃহবধূ ফারহানা বাড়ির ছাদে ঘটিয়েছেন সবুজ বিপ্লবফুলে ফলে ঘেরা ছবির মতো সুন্দর বাগানটি। যেন শিল্পীর রঙ-তুলিতে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। কোনো সারিতে ফুল গাছ, কোনো সারিতে ফল গাছ। আছে ঔষধি গাছ ও মশলা গাছের সারি। পরিপাটি সাজানো প্রতিটি লন। নিজ সন্তানের মতো করে লালন-পালন করে ফারহানা ইয়াসমিন বাড়ির ছাদে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের সবুজ উদ্যান। সেই সঙ্গে ছাদ কৃষিতে যশোরে অনেকের রোল মডেলে পরিণত হয়েছেন তিনি।
যশোর শহরের বকচরে র‌্যাব-৬ অফিস রেখে মুড়লীর দিকে একটু এগোলেই বায়ে বকচর চৌধুরীপাড়ার জামে মসজিদের পাশে সৈয়দ আকরাম হোসেনের বাড়ি। তার স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন। স্বামী আর ২মেয়ে নিয়ে তার সুখের সংসার। বিশেষত্বের জন্য বললেই যে কেউ চিনিয়ে দেবে সবুজের সমারোহ ঘেরা এই বাড়িটি। এগোলেই যেতে যেতে প্রথমে চোখে পড়বে ছাদে সবুজের বিশাল সমারোহ। ফুল, ফল, সবজি আর ঔষধী বৃক্ষরাজির বিশাল এ রাজ্যে তাকাতেই চোখ খানিকটা বিশ্রাম পাবে। অ™ভুত এক প্রশান্তিতে মন প্রাণ ভরে উঠবে যে কারো। নগর জীবনে বাড়ির ছাদে সবুজ বৃক্ষের এ রাজ্য এটি, পরিকল্পিত কোনো কৃষি উদ্যান নয়। সাধারণ এক গৃহবধূ ফারহানা ইয়াসমিন। যিনি কোনো ধরণের প্রশিক্ষণ ছাড়াই পরম মমতায় গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের কৃষি উদ্যানটি।
বর্তমান সময়ে চারপাশে যখন ভেজাল আর ফরমালিনে ভরা খাদ্যদ্রব্যে মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে। অসহায়ত্ব আত্মসমর্পণ করে এসব খাবার খেয়েই যখন তারা জীবন ধারণ করছে। তখন ফারহানা ইয়াসমিনের এ উদ্যান ফরমালিনের বিরুদ্ধে এক নীরব আন্দোলন। সেই সঙ্গে এটি হতে পেরেছে সবার জন্য অনুপ্রেরণা।
নিজ উদ্যোগে অনেকেই পারেন তাদের পড়ে থাকা ছাদটিতে এমন সুন্দর উদ্যান তৈরী করতে, এমনটাই মনে করেন এ গৃহবধূ। বেদানা, আপেল, কমলা, আমড়া, জামরুল, মাল্টা, কাগুজী লেবু, আঙ্গুর, চেরি, পেয়ারা, ছবেদা, বাতাবী লেবু, মেওয়া, আমসহ ১৪প্রজাতির ফলের গাছ আছে। ফুলের মধ্যে আছে গোলাপ, জবা, গন্ধরাজ, টগর, কনকচাঁপা, মৌচন্দ্রা, এডেনিয়া, কাঁঠালী চাঁপা, বেলী, গাঁদা, ডালিয়া, দোপাটি, টাইম ফুল, রঙ্গনসহ ১৫ এর বেশী প্রজাতির ফুল গাছ। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ক্যাকটাস ও অর্কিড আছে। পুঁইশাক, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রুকলি, বেগুন, কাঁচামরিচ, ওলকপি, টমেটো, পেঁয়াজসহ ১০প্রজাতির সবজি আছে এ বাগানে। আছে মশলা গাছ আদা, জায়ফল। শোভা বর্ধনে আছে ১০টি শাপলা, ১টি ক্রিসমাসট্রি, ১০টি লতাবাহারসহ ২শ’৪০টি প্রজাতির বৃক্ষ।
ছোটবেলা থেকেই ফারহানা ইয়াসমিনের গাছ লাগানোর প্রতি আলাদা একটা আগ্রহ জন্মে। বাবার বাড়ি থাকতে বিভিন্ন সময় গাছ লাগান তিনি। বিয়ের পর ২০১২সাল থেকে নিজ ছাদে সবুজ বিপ্লবের কথা ভাবেন এবং কাজ শুরু করেন। ‘যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে’ কথাটি ফারহানা ইয়াসমিনের ক্ষেত্রে পুরোপুরি খাটে। সবুজ উদ্যান তৈরীর পাশাপাশি তিনি শখের বশে নিজ পরিবার ও আত্মীয় পরিজনের জন্য আরো তৈরী করেন কাপড়ের তৈরী বিভিন্ন ধরণের শো-পিছ। তবে এ সম্পর্কে কোনো ধরণের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছাড়াই তিনি এসব কাজ করেন।
ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, নিজের একটা বাগানের খুব শখ ছিল। সে শখ থেকেই আজকের এ উদ্যান। তিনি বলেন, ফলজ, বনজ, ঔষধী, ফুল গাছ দিয়ে ছাদটা সাজাই। আজকাল বাজারেতো বিষমুক্ত সবজি ও ফল পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। ফরমালিন আর ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ আতংকে থাকতে হয়। অনেকেরই বাড়ির সুন্দর ছাদটি পড়ে আছে। তাদের হাতে সময়ও আছে। কিন্তু তারা হয়তো তা কাজে লাগাচ্ছেন না। ইচ্ছা করলেই তারা নিজ বাড়ির ছাদে বিষমুক্ত সবজি ও ফলের বাগান করতে পারেন।
ফারহানা বলেন, ঘর সংসারের কাজের পর অনেকেরই খানিকটা সময় থাকে। অনেকেরই বাড়ির ছাদটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। তারা সেটি কাজে লাগান না। ইচ্ছা করলেই তারা সেটি কাজে লাগাতে পারেন। খুব বড় পরিসরে না হলেও চাইলেই শুধুমাত্র পরিবারের সবার জন্য বিষমুক্ত সবজি ও ফলের একটি বাগান তারা ছাদে করতে পারেন। সবাই মিলে আমরা পারি নিজ ছাদে বিষমুক্ত ফল ও সবজির সবুজ একটি উদ্যান বা শখের একটি বাগান করতে।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj