আপডেট: অক্টোবর ৩০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১২৯ বার

জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে টিআইবির মানববন্ধন

জলবায়ু সম্মেলন উপলক্ষে টিআইবির মানববন্ধন আসন্ন ২৩তম জলবায়ু সম্মেলন (কপ ২৩) উপলক্ষে মানববন্ধন করেছে টিআইবি যশোর সনাক। জলবায়ু অর্থায়নে সমতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, জনঅংশগ্রহণ এবং শুদ্ধাচার নিশ্চিতের দাবিতে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রোববার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন আয়োজন করা হয়।
এতে উন্নত দেশসমূহের কার্বন নি:সরণের ফলে উন্নয়নশীল দেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে যে সকল ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তা পূরণে ঋণ না দিয়ে অনুদান প্রদানের জন্য উন্নত দেশসমূহের প্রতি আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেন, জলবায়ু তহবিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
এসডিজি লক্ষ্যমাত্রার নিরিখে দারিদ্র বিমোচনের উদ্যোগসমূহ অব্যাহত রাখা এবং একইসাথে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ‘ক্ষয়-ক্ষতি’ হ্রাসে অভিযোজনের অতিরিক্ত হিসাবে পৃথক অর্থ বরাদ্দসহ উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ জলবায়ু তহবিল যোগানের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট এবং সময়াবদ্ধ পরিকল্পনা উপস্থাপনে বাংলাদেশের পক্ষে যে প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য দাবী করা হয় তা হল-দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান’ নীতি বিবেচনা করে ঋণ নয়, শুধু সরকারি অনুদান, যা উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রতিশ্রুতি হবে, কে স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞায়ন করতে হবে; ২০১৮ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময়কালে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলার জলবায়ু তহবিল প্রদানে অভিযোজন বাবদ চাহিদা মাফিক সহায়তা প্রদানে একটি সুনির্দিষ্ট, সময়াবদ্ধ চাহিদামাফিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে;অগ্রসর অর্থনীতি’র দেশগুলোর প্রস্তাবিত ‘১০০ বিলিয়ন ডলার এর রুপরেখা’য় অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নশীল দেশসমূহের চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জলবায়ু তহবিল বরাদ্দে অভিযোজন ও প্রশমন বাবদ অনুমোদিত ৫০:৫০ অনুপাত বজায় রাখতে হবে;তহবিল সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় প্রতিশ্রুত ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা হতে অভিযোজনের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে অভিযোজন কমিটিকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে যার মধ্যে কারিগরি সহায়তার অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে; স্বল্পোন্নত দেশে অভিযোজন বাবদ অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় তহবিল গঠন এবং অর্থায়নে ‘ফিজি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ’ গ্রহণ করতে হবে; জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতে জিসিএফ এবং অভিযোজন তহবিল থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; একটি স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি অথবা বৈশি^কভাবে গ্রহণযোগ্য একটি হিসাবরক্ষণ সফটওয়ার তৈরী করতে হবে; সবুজ জলবায়ু তহবিলের ট্রাস্টিবোর্ডের কাঠামো পুন: মূলায়নের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ এবং কার্যকর ট্রাস্টিবোর্ড গঠন করতে হবে।
এতে বক্তব্য দেন সনাক সহ সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস, সনাক সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, সনাক সদস্য ও প্রেসক্লাব যশোরের সেক্রেটারী এস এম তৌহিদুর রহমান, টিআইবি’র খুলনা বিভাগীয় প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজেশ অধিকারী, প্রবীন শিক্ষক তারাপদ দাস, প্রশান্ত দেবনাথ, জয়তী সোসাইটির’র সহকারি ম্যানেজার লিপি চৌধুরী, ইয়েস দলনেতা সাবরিনা আফরোজ মেঘলা, ইয়েস সদস্য আশিফুল ইসলাম প্রমুখ।
ইউনাইটেড নেশনস ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (ইউএনএফসিসিসি) কর্তৃক ৬-১৭ নভেম্বর জার্মানির বন শহরে দ্বীপরাষ্ট্র ফিজি’র সভাপতিত্বে ২৩তম জলবায়ু সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্যারিস চুক্তির আলোকে প্রতিশ্রুত জলবায়ু অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট, বাস্তবভিত্তিক, সুনির্দিষ্ট রুপরেখা প্রস্তুত এবং সুশাসন নিশ্চিত করা এ সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj