আপডেট: অক্টোবর ১৪, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১২৬ বার

১০ মিনিটে খাবার বিষমুক্ত করে সিরাজুলের ফুড কেয়ার

শাকসবজি কিংবা ফলমূলকে বিষমুক্ত করার যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন যশোরের কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম। তার যন্ত্রের সাহায্যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সবজি ও ফলমূল থেকে রোগজীবাণু ও রাসায়নিক পদার্থ দুর করা সম্ভব হবে। সিরাজুল ইসলাম তার উদ্ভাবিত যন্ত্রটির নাম দিয়েছেন ‘ফুড কেয়ার’।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ল্যাবে যন্ত্রটির কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষাও হয়েছে। যন্ত্রটি যথেষ্ট কার্যকর বলে পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছেন যবিপ্রবির বায়োলজিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ। আর এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে প্রথম বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ।


উদ্ভাবক সিরাজুল ইসলাম মৃধা জানান, উদ্ভাবিত যন্ত্রের মাধ্যমে বাতাস থেকে ইলেকট্রিক সার্কিটের সহযোগিতায় ওজন গ্যাস তৈরি হয়। যা যন্ত্রের বহির্গমন পাইপের মাধ্যমে স্বচ্ছ পানিতে রাখা শাকসবজি ও ফলমূলে থাকা সালমোনিলা ইকোলাইসহ বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ দুর করে। এছাড়াও মাংশের ভেতর থাকা অপ্রয়োজনীয় চর্বিও গ্যাসের মাধ্যমে পৃথক করা সম্ভব।

সিরাজুল ইসলাম আরও জানান, উন্নত দেশগুলোতে শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস থেকে ক্ষতিকর পদার্থ দুরীকরণে ওজন গ্যাস ব্যাবহার করা হয়। কিন্তু ওইসব দেশে ব্যবহৃত ভালো মানের যন্ত্রের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে মান অক্ষুণ্ন রেখে যন্ত্রটিকে সাধারণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ব্যবহার করা হয়েছে বেশকিছু সহজলভ্য প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে বাসাবাড়িতে ব্যবহারের জন্য প্রতিবারে ১শ গ্রাম থেকে ৪ কেজি পর্যন্ত শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুড কেয়ার যন্ত্রটির খরচ পড়বে প্রায় ৮ হাজার টাকা। তবে বড় পরিসরে প্রতিবারে ১ থেকে ৩০ কেজি পর্যন্ত জীবাণুমুক্ত করার জন্য নির্মিত যন্ত্রটির খরচ পড়বে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের বড় সমস্যা হলো নিরাপদ খাদ্য। আর এ নিরাপদ খাদ্যের অন্তরায় অধিক ফলনশীল খাদ্য উৎপাদনে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও সংরক্ষণ ও পরিবহনের জন্য ফরমালিনের ব্যবহার। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমার ফুড কেয়ার যন্ত্রের উদ্ভাবন।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি বড় বড় হোটেল রেস্টুরেন্টে যদি এই মেশিন দ্বারা খাদ্যের বিষমুক্ত করে নেওয়া যায় তাহলে দেশের মানুষ অনেকাংশে স্বাস্থ ঝুঁকি এড়াতে পারবে। আমার স্বপ্ন দেশের প্রত্যেক রান্না ঘরে এই ফুড কেয়ার পৌঁছে দেব যাতে মানুষ সুস্থ থাকতে পারে।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে তার ওজন গ্যাস জেনারেটর ফুড কেয়ার যন্ত্রের পরীক্ষাতে দেখা গেছে, যন্ত্রটি দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই ফল ও শাক সবজিকে বিষমুক্ত করা সম্ভব।

এ ব্যাপারে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজিক্যাল সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ড. মো. ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, আমি যন্ত্রটি দিয়ে পরীক্ষা নীরিক্ষা করে দেখেছি। যন্ত্রটি দ্বারা ওজন গ্যাসের মাধ্যমে অক্সিজেনে রূপান্তর করে যে ট্রিটমেন্ট হয় তাতে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ মাইক্রোঅর্গানিজম ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে যন্ত্রটি দিয়ে খুব সহজে ফল ও সবুজ শাক সবজি টাটকা করতে পারে।

তিনি বলেন, একই পদ্ধতি ব্যবহারে শাকসবজি, ফলমূল দ্রুত পচনের হাত থেকেও রক্ষা পাবে। আমাদের দেশে এ পদ্ধতি ব্যবহার হতে দেখা যায়নি। ভারত ও ইউরোপের দেশগুলোতে এর ব্যবহার হয়।

তিনি বলেন, সিরাজুল ইসলাম মৃধার উদ্ভাবনটি দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনবে বলে সরকারের কাছে তিনি নিজেই এ ব্যাপারটি তুলবেন। যাতে সিরাজুল ইসলাম মৃধা তার উদ্ভাবনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারেন।

যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, শাকসবজি কিংবা ফলমূল সংরক্ষণ অথবা পরিবহনের ক্ষেত্রে একটি বড় অংশই নষ্ট হয়। কিন্তু ওজন গ্যাস পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হবেন। যা কৃষি প্রধান এদেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করবে বলে মনে করেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়ে এ যন্ত্রটি বাজারজাত করা হলে কৃষক ও বাসাবাড়িতে ব্যবহার করা যাবে।

তথ্যসূত্রঃ jagonews24