আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৬ বার

পশুহাট নিয়ে ইউএনওর স্বেচ্ছাচারিতা

চৌগাছা (যশোর) : পশুহাট নিয়ে ইউএনওর স্বেচ্ছাচারিতা উপজেলা পশু হাট নিয়ে নির্বাহী অফিসারের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে গরু ব্যবসায়ীরা মহা বিপাকে পড়েছেন। মহেশপুরের পুড়াপাড়ার পশুহাট থেকে অর্থবাণিজ্য করে তিনি চৌগাছা পশুহাটকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছেন। শুধু তাই নয় মনগড়াভাবে মাইকে প্রচার চালিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। বুধবার বেলা ১২ টায় পৌরসভার সভাকক্ষে নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পৌর কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন প্যানেল মেয়র (১) সাইদুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চৌগাছার একমাত্র পশুহাট নিয়ে বিগত ছয় মাস ধরে চলছে টানাহেচড়া। পূর্বের পশুহাটের স্থান কালিতলায় ও আশেপাশে সরকারি ভূমি অফিস, মন্দির, পোস্ট অফিস, মসজিদ, বালিকা বিদ্যালয় থাকায় জায়গা সংকটে পড়েন পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর সেখানে সময়ের ব্যবধানে ব্যাপকভাবে বসতবাড়ি গড়ে উঠায় হাটের জায়গা আরও সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় বিপাকে পড়েন পশু ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এ অবস্থায় ব্যবসায়ী ও হাট মালিক চৌগাছা পশুহাটের স্থান দাবি করে পৌরসভায় লিখিত আবেদন করেন। বারবার দাবির মুখে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাট মালিক, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সাথে বৈঠকে মিলিত হন পৌর কর্তৃপক্ষ। সকলের মতামতের ভিত্তিতে পুরনো জায়গা থেকে স্থানান্তর, সপ্তাহের রোব এবং বুধবার হাট বসার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই সিদ্ধান্ত রেজুলেশনও করেন পৌর কর্তৃপক্ষ। তারই প্রেক্ষিতে পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের বেলেমাঠ এলাকায় চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল নতুন বছরের প্রথম হাট বসানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, কালিতলা থেকে পশুহাট বেলেমাঠে স্থানান্তর করা হলে হঠাৎ করেই মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া পশুহাটের মালিক এতে বাধ সাধেন। শুরু হয় এ নিয়ে মামলা জটিলতা। নতুন স্থানের হাটের পেরিফেরি না করার ফলে সেটি অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। আদালতের নির্দেশে হাটটি উচ্ছেদ করা হয়। তিনি বলেন পেরিফেরি করার উদ্দেশ্যে স্থানান্তরিত পশুহাটের জায়গা ২৪ জুলাই জেলা প্রশাসকের নামে দানপত্র রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। একই সাথে গত ২ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস পারভীন বরাবর পেরিফেরি করার জন্য লিখিত দরখাস্ত করা হয়। কিন্তু নির্বাহী কর্মকর্তা রহস্যজনক কারণে ওই দরখাস্তের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বেলেমাঠ থেকে স্থানান্তরিত জায়গা উচ্ছেদ করার ফলে পশুহাট নেয়া হয় চৌগাছার প্রধান বড় কাঁচা বাজারে। সেখানে বাধ সাধে প্রশাসন। পেরিফেরিভুক্তি না হওয়ায় হাট বসতে বাধা দেয়া হয়। ফলে পুনরায় নেয়া হয় সমস্যায় জর্জরিত পূর্বের সেই স্থানে অর্থাৎ কালিতলায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন চৌগাছার মানুষ।
চৌগাছা-ঝিকরগাছা পাকা সড়কের উপর শতশত গরু ছাগলে ভর্তি ট্রাক, পিকআপ, আলমসাধু অবস্থান করতে বাধ্য হয় ব্যবসায়ীরা। সৃষ্টি হয় চরম যানজট। কয়েক ঘন্টার মধ্যে চৌগাছা ভূমি অফিস ও মন্দির গো-খামারে পরিণত হয়। বন্ধ হয়ে যায় ভূমি অফিসের কার্যক্রম। প্রধান পোস্ট অফিসের কাজকর্মও ব্যহত হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এক প্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পৌর কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পুনরায় কাঁচা বাজারে পশুহাট বসানোর চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেয়া হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, পৌরকর্তৃপক্ষ সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গরু ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সকলের সুবিধার্থে রোব ও বুধবার হাট বসছে। এতে ক্রেতা সাধারণ বেশ সন্তুষ্ট। কারো কোন সমস্যা নেই। কিন্তু হঠাৎ করেই গত মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রচার মাইক বের করা হয় নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে। প্রচার মাইকে রোব ও বুধবার হাট বসানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এতে গরু ব্যবসায়ী ও হাটমালিকসহ চৌগাছাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো অভিযোগ করেন, আমরা মনে করি এই ঘোষণার কোন বৈধতা নেই। নির্বাহী কর্মকর্তা মহেশপুর পুড়াপাড়ার পশুহাটের পক্ষ নিয়ে এই ঘোষণা প্রচার করেছেন। এনিয়ে তিনি বারবার ব্যবসায়ী ও পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে দুর্ব্যবহার করেছেন। তার কথাবার্তায় আমরা আহত হয়েছি। বারবার তার কাছে কথা বলার জন্য গেলে তিনি কোন সহযোগিতা করেননি। পেরিফেরিভুক্তির জন্য আবেদন করলেও রহস্যজনক কারণে পদক্ষেপ নেননি।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল মেয়র (২) শাহিনুর রহমান শাহিন, কাউন্সিলর আতিয়ার রহমান, জিএম মোস্তফা, আনিছুর রহমান প্রমুখ। এদিকে বুধবার গরু ব্যবসায়ীরা হাটে গরু তুলতে না পারায় নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় কথা হয় গরু ব্যবসায়ী নূর ইসলাম, আব্দুল লতিফ, হামেদ আলী, আইনাল হক, হোসেন আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আব্বাস হোসেনের সাথে।
তারা অভিযোগ করেন, আমরা আর মহেশপুর পুড়াপাড়া হাটে যেতে চাই না। চৌগাছা পশুহাটেই ব্যবসা করতে চাই। ব্যবসায়ীরা বলেন নার্গিস ম্যাডাম পুড়াপাড়া পশুহাটের পক্ষ নিয়েছেন। সেকারণে তার ভূমিকা রহস্যজনক। বারবার তারে সাথে কথা বললেও তিনি আমাদের পাত্তা দেননি। তিনি আমাদেরকে জেলজুলুমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা সুষ্ঠুভাবে পশুহাট বসানোর দাবি জানান।
এদিকে নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস পারভীনের কথা বলার জন্য সাংবাদিকরা তার অফিসে যান। কিন্তু তিনি এ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কোন কথা বলতে চাননি। এমনকি তিনি ক্যামেরা বন্ধ করতে বলেন। একপর্যায় সাংবাদিকদের অনুরোধে তিনি বলেন, যা করেছি আইন মেনেই করেছি।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj