আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৩৩ বার

পাঁচ বছর বন্ধ ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ অবস্থান

পাঁচ বছর বন্ধ ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার দাবিতে বিক্ষোভ অবস্থান পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শহীদ অধ্যক্ষ সুলতান উদ্দীন ছাত্রাবাস। দীর্ঘ এ সময় ধরে কলেজের আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্ররা। দ্রুত ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে বুধবার মিডটার্ম এবং মূল্যায়ন পরীক্ষা বর্জন করে অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীরা। তবে সাধারণ অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ জোর পূর্বক পরীক্ষা বর্জন করে তাদের এ কর্মসূচী করতে বাধ্য করেছে। বুধবার সকাল সাড়ে আটটা, সাড়ে দশটা, দুপুর সাড়ে ১২ টা এবং বিকেল সাড়ে তিনটায় কলেজের প্রথম, তৃতীয় পর্বের শিক্ষার্থীদের মিডটার্ম এবং পঞ্চম ও সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।
এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি শাহেদ আলী পলাশ ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান শিকদার জোর পূর্বক কর্মসূচি পালনে বাধ্য করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা সবসময়ই ছাত্রাবাস খোলার দাবি জানিয়ে আসছি। গত ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন সময় ছাত্রবাসটি খুলে দেয়ার জন্য স্মারকলিপি প্রদান, ক্লাস বর্জনসহ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাতে কোন আশানুরূপ ফল আসেনি। হোস্টেল বন্ধ থাকায় অনেক ছাত্র আবাসন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমরা শুধুমাত্র ছাত্রদের স্বার্থে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আসছি।
কলেজ উপাধ্যক্ষ প্রকৌশলী বাবু সাহা বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছাত্রাবাসটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অধ্যক্ষ মহোদয় এখন ঢাকায় রয়েছেন তার সাথে এ বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন সংস্কার ছাড়া ছাত্রাবাস খুলে দেয়া যাবে না। অনেক আগেই ছাত্রাবাস খুলে দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নিয়েছে উল্লেখ করে উপাধ্যক্ষ আরো বলেন, এ জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর ভবন সংস্কারসহ আনুসাঙ্গিক চাহিদাপত্র দেয়া হয়েছে। এখন শুধু অপেক্ষা ছাত্রাবাস সংস্কারসহ তা বাসবাসের জন্য যথাউপযুক্ত করে তোলা। পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ স্যার যশোর এসে পৌছালে এ বিষয়ে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কেননা প্রথম ও তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের জন্য এ পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটাতে অকৃতকার্য হলে তারা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেনা।
এ বিষয়ে পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে হোস্টেল ইস্যুকে কেন্দ্র করে ছাত্রদের একটি চক্র কলেজে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। কিছুদিন আগে প্রকাশিত দ্বিতীয় পর্বের রেজাল্টে কিছু শিক্ষার্থী অত্যন্ত কম নম্বার পেয়েছে। তাদের পাশ করিয়ে দেয়ার অনৈতিক দাবী শিক্ষকদের নিকট করে আসছে। সে দাবী পূরণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতি। কেননা ছাত্রাবাসটি খুলে দেয়ার দাবী অযৌক্তিক নয়। সে বিবেচনায় ছাত্রাবাস চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শেষ সময়ে এসে আবার অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। পলিটেকনিক কলেজে বোর্ড নির্ধারিত একটি সময়ের মধ্যে সকল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নির্দিষ্ট এ সময়ে যদি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হয় তবে প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে একটি খারাপ প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং অভিভাবক মহলেও শংকার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিশেষ চিন্তা না করার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত ২০১২ সালের ১৪ মে দুপুরে ছাত্র হোস্টেলের শূন্য আসন পূরণ নিয়ে ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা তা-ব চালায় বলে অভিযোগ আছে। সেদিন ছাত্রলীগ ক্যাডাররা অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন ক্লাসরুম ও ল্যাবরেটরি ভাঙচুর করে এবং কয়েকজন শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করে জীবননাশের হুমকি দেন বলে গণমাধ্যমকে জানান তখনকার কলেজ প্রশাসন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলেও সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে ইনস্টিটিউট অনির্দিষ্টকালের জন্য সিলগালা করে দেয়। সেই থেকে এ ছাত্রাবাসটি বন্ধ রয়েছে।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj