আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৫ বার

সর্বত্র আলোচনায় জঙ্গি মারজানের বোন খাদিজার আত্মসর্মপণ

দেওয়ান মোর্শেদ আলম : যশোরাঞ্চলে বিভিন্ন স্পটে গোয়েন্দা নজরদারিযশোর এলাকায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান, সাত ঘন্টার শ্বাসরুদ্ধকর রক্তপাতহীন অভিযান ও হলি আর্টিজান হামলার মাস্টার মাইন্ড জঙ্গি মারজানের ছোট বোন খাদিজার আত্মসমর্পণের পর যশোরাঞ্চলের বিভিন্ন স্পটে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যশোর শহরে তথা এ অঞ্চলে আর কোন আস্তানা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে এ নজরদারি চলছে।
কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত টিম কাজ করছে বলে তথ্য মিলেছে। একই সাথে খাদিজার বিরুদ্ধে দেয়া সন্ত্রাস বিরোধী মামলায় অজ্ঞাত ৪/৫ আসামিকে খোঁজা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে অচেনা লোকজনদের ব্যাপারে তথ্যগত সহায়তা চাওয়া হয়েছে। একইসাথে পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সংগ্রহ ও যাচাই করে বাসা ভাড়া দেয়ার ব্যাপারে মালিকদের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।
এদিকে গত দু’দিন ধরে সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের জামে মসজিদ পাড়ার জঙ্গি আস্তানা ও খাদিজার আত্মসমর্পণের খবরটি।
পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াতের তথ্যে গত ৮ অক্টোবর রাতে যশোর জেলা পুলিশ নিশ্চিত হয় যশোরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে জামে মসজিদের পেছনে পূর্বপাশের একটি চারতলা বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা আছে। সেখানে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার মাস্টার মাইন্ড নব্য জেএমবি নেতা নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের ছোট বোন পাবনা সদর উপজেলার আফুরি গ্রামের নিজাম উদ্দিন ওরফে বাটুল ফকিরের মেয়ে খাদিজা ভাড়া থাকে। সাথে তার স্বামী জয়পুরহাটের কয়রাপাড়ার হারুন অর রশিদের ছেলে হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে মশিউর। এরা জঙ্গি কর্মকান্ড পরিচালনা করেন এমন তথ্যও পান। এছাড়া খাদিজার স্বামী আনিসুর রহমান সাগর ওরফে মশিউর রহমান নব্য জেএমবির শামরিক প্রধান হিসেবেও কাজ করছে এমন তথ্য আসে। এরপর বাড়িটি কন্ডোন করে ৯ অক্টোবর “অপারেশন মেলটেড আইস” অভিযান পরিচালনা করে আত্মসমর্পণ করানো হয় খাদিজাকে। আস্তানা ঘটনাস্থল তল্লাসী করে ৩ টি সুইসাইডাল ভেস্ট উদ্ধার হওয়ায় পুলিশ আরও নিশ্চিত হয় খাদিজা সরাসরি জঙ্গি তৎপরতার সাথে জড়িত। এছাড়া তার পলাতক স্বামী হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে মশিউর নব্য জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক প্রধান এটাও নিশ্চিত হয় পুলিশ।
যশোর শহরের ঘোপ এলাকায় এ জঙ্গি আস্তানার সন্ধানের পর পুলিশ গোটা যশোরাঞ্চল খতিয়ে দেখছে জঙ্গি ইস্যুতে। অন্য কোথাও কোন আস্তানা আছে কিনা, কোথাও জঙ্গিরা ঘাপটি মেরে আছে কিনা এ বিষয়টিও জোরেসোরে আলোচনায় এসেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে।
থানা পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, যশোর শহরের অনেকগুলো স্পটসহ এ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যশোর শহরের বিমানবন্দর, শিক্ষা বোর্ড, রেল স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এলাকায় গোপন টহল চলছে বলে সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া জনগুরুত্বপূণ ও ব্যস্ত এলাকা দড়াটানা, নিউমার্কেট, মণিহার এলাকা, চাঁচড়া চেকপোস্ট, ধর্মতলা, আরবপুর মোড়, পালবাড়ী মোড়, মুজিব সড়ক, গাড়ীখানা রোড, এম.কে রোড, আর এন রোড, রেলরোড, সদর হাসপাতাল রোড, চিত্রামোড়, মনিহার মোড়, জর্জ কোর্ট মোড়, জেলখানা মোড়, কাঠেরপুল-বড়বাজার এলাকাসহ আরও কয়েকটি এলাকায়ও নজরদারি চলছে। এছাড়া এ অঞ্চলের আরও কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। ঘোপের জঙ্গি আস্তানা সন্ধানের পর এ অঞ্চলে জঙ্গি ইস্যুতে পুলিশের বিশেষায়িত টিম সোয়াত ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট সিটিইউ এর নজরদারি রয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা হয় যশোর কোতোয়ালী থানার ওসি ইন্টেলিজেন্স্ এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং তোফায়েল আহমেদের সাথে। তিনি গ্রামের কাগজকে জানান খাদিজার স্বামী নব্য জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক প্রধান হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে মশিউর ও অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে খোঁজার পাশাপাশি এ অঞ্চলে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আর কোথাও এ ধরণের আস্তানা আছে কিনা তা পুলিশ সতর্কতার সাথে খোঁজ খবর নিচ্ছে। অনেকগুলো স্পট চিহ্নিত করে এ নজরদারি চলছে।
তিনি আরও জানান, ভাড়াটে দেয়ার ব্যাপারে এখন থেকে আরও সতর্ক হওয়া জরুরী বাড়ি মালিকদের। ভাড়াটের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা যাচাই-বাছাই করে বাসা দেয়া উচিৎ। বাড়ির আশেপাশে বা পাড়ায় কোন অচেনা লোককে অযাতিত ঘোরাফেরা করলে পুলিশকে অবহিত করার আবান জানান তিনি। একই সাথে নিজের ছেলেমেয়ের গতিবিধির উপর নজর দেয়ার প্রয়োজন বলে অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানান তিনি।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj