আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৮ বার

কয়েকটি বাড়িতে ফাটল, বালি উত্তোলন বন্ধে একের পর এক আবেদন

নিজাম উদ্দিন শিমুল : ভৈরব থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন চলছেইযশোর শহরের প্রানকেন্দ্র দড়াটানার পাশেই ভৈরব নদ থেকে মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন চলছেই। কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না এ অবৈধ কর্মকান্ড। গ্রামের কাগজে সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হয়েছে এ কর্মকান্ড বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
তারা আরো জানান, অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে তাদের কারো কারো বাড়ি ফাটল ধরেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
গত ৫ অক্টোবর গ্রামের কাগজে দড়াটানা এলাকায় ভৈরব নদ থেকে অবৈধ বালি উত্তোলন চলছে শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর কয়েকদিন বন্ধ থাকে কার্যক্রম। মেশিন দুটি ১০০ গজ দুরেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে স্বস্তি ফিরে আসে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মনে। বালি উত্তোলন নিয়ে জেলা আইন শৃংখলা কমিটির মাসিক মিটিং-এও আলোচনা হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শুধু নদী নয়, নিজের বাড়ি থেকেও কেউ বালি উত্তোলন করতে পারবে না। অথচ তার পরদিন থেকেই ১০০ গজ সরিয়ে নেওয়া মেশিন গুলো আবার আগের জায়গায় নিয়ে আসা হয়। যা দিয়ে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে বালি উত্তোলন শুরু করা হয় বলে এলাকাবাসী জানান।
এলাকাবাসী বলছেন, অবৈধভাবে বালি উত্তোলনের ফলে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে যশোর পৌর এলাকার ৩ নং ওয়ার্ডের বিরাট একটি অংশ। এর মধ্যেই কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়াও নদীর পাড়ের কয়েকটি বাড়ি ধসে যাওয়া শুরু করেছে। বালি উত্তোলনে আশপাশের বিল্ডিংগুলোর ফাউন্ডেশন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে ধারণা তাদের। তারা আরো বলেন, বালির মেশিনের শব্দে কান ঝালাপালা হয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতির ভারসাম্য হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। ঘোপের এ অংশে শত শত জনবসতী রয়েছে, রয়েছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালসহ অসংখ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান। রয়েছে বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিক সেন্টার। এ এলাকায় রয়েছে হাজার হাজার পথচারীর চলাচল। শহরের এমন একটি গুরুত্বপূর্ন স্থান থেকে বালি উত্তোলন কিছুতেই মানতে পারছেন না তারা।
এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ অবৈধ স্বীকার করেও মুখে কুলুপ এটে বসে আছেন। একই স্থান থেকে বালি তোলার বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলছে নানা ধরণের কানাঘুষা। গ্রামের কাগজে ৫ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশের পর ওই দিনই বালি উত্তোলনের মেশিন দুটো একশ গজ দুরে সরিয়ে নিয়ে যায়। এরপর একদিন কাজ বন্ধ থাকে। ৮ অক্টোবর থেকে আবারো ওই জায়গায় মেশিন এনে বালি উত্তোলন শুরু করে। গতকাল ওই এলাকায় গিয়ে দুটি মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন করতে দেখা যায়। কর্মচারীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, এ কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সামছুজ্জামান। ওই প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে এ বালি উত্তোলনের কাজ চলছে। আর এ সম্পর্কে জানতে হলে সেন্টু, নুর হোসেন ও কাজলের সাথে কথা বলতে বলেন তারা। তারা কারা সে বিষয়ে কোনো পরিচয় দেননি কর্মচারীরা।
উল্লেখ্য, এর আগে এ অবৈধ বালি উত্তোলন বন্ধের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে বদরুল আলম, এমদাদুল হক, লাইলা মোকাদ্দিস খান, আছাদুল হোসেন সবুজ, রোজলিন এহসান, সহিদুর রহমান, রোবাইয়া সাথী, জেবুন নিসা, আব্দুস সাত্তার, মুন্না, মিরাজ হোসেনসহ এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষর যুক্ত কয়েকটি আবেদন পত্র জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। এছাড়াও আইন শৃংখলা কমিটির মিটিংএ কঠোর নিষেধাজ্ঞা দেয়া সত্বেও বালু উত্তোলন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবৈধভাবে বালি উত্তোলন হচ্ছে সেটা আমার জানা ছিল না। পরে জেনেছি। জানার পর আমার ইন্সপেক্টরকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। তিনি এসে জানিয়েছেন, এখন আর বালি তোলা হচ্ছে না। তবে মেশিনের সন্ধান মিলেছে বলে স্বীকার করেন। তিনি আরো বলেন, কে বা কারা এর সাথে জড়িত এ বিষয়ে আমরা কোন তথ্য পাইনি। উপযুক্ত তথ্য পেলে পুলিশকে সাথে নিয়ে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj