আপডেট: অক্টোবর ১২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৪ বার

প্রশ্নপত্র ফাঁস করল যশোর বোর্ডের কর্মকর্তারা !

সার্ভার সমস্যায় আধা ঘণ্টা আগে ওয়েবসাইটে আপলোড * বিভিন্ন স্থানে তোলপাড়
এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রের প্রশ্নপত্র যশোর শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফাঁস হয়েছে! বুধবার সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান শিক্ষকরা প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে পরীক্ষা নিয়েছেন। একদিকে প্রশ্ন ফাঁস, অন্যদিকে দেরিতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এদিকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা নিয়ে চুয়াডাঙ্গাসহ বিভিন্ন স্থানে তোলপাড় হয়েছে।

 এ বোর্ডের আওতাধীন ১০ জেলায় প্রায় আধা ঘণ্টা দেরিতে পরীক্ষা শুরু হয়। নতুন পদ্ধতিতে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তবে বোর্ডের চেয়ারম্যান বলছেন, গুগল সার্ভারের সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে ওয়েবসাইটে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়েছে। এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র অনলাইনে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ এবারই প্রথম নেয় যশোর শিক্ষা বোর্ড। প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতির অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে সার্ভারে প্রশ্নপত্র আপলোড করা যায়নি। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও প্রশ্নপত্র হাতে পাননি। এরপর বোর্ডে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, সার্ভার সমস্যায় বোর্ডের ওয়েবসাইটের উন্মুক্ত নোটিশ বোর্ডে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়েছে। সেখান থেকে ডাউনলোড করে প্রিন্ট দিয়ে পরীক্ষা নিতে হবে। গোপনীয়ভাবে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করার নিয়ম থাকলেও এবার তার ব্যত্যয় ঘটেছে। শিক্ষা বোর্ড নিজেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, বোর্ডের চরম অব্যবস্থাপনার একটি দৃষ্টান্ত এটি। নতুন পদ্ধতি চালুর আগে বিষয়টি নিয়ে আরও সচেতন হওয়া জরুরি ছিল। প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেখানে বোর্ড নিজেই প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিল!

যশোর এমএসটিপি কলেজিয়েট স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ খায়রুল আনাম বলেন, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৭টা থেকে ৯টার মধ্যে সার্ভারে প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা। সার্ভারে ঢুকতে চাইলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মোবাইল ফোন নম্বরে একটি পাসওয়ার্ড আসবে। সেটি দিলে প্রশ্নপত্র ওপেন হবে। কিন্তু সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সার্ভারে কেউ ঢুকতে পারেননি। বোর্ডে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, ওয়েবসাইটের নোটিশ বোর্ডে আপলোড করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রশ্নপত্র ডাউনলোড করে প্রিন্ট দিয়েছি। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে পরীক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন দিতে পেরেছি। যথাসময়ে প্রশ্ন না পাওয়ায় টেনশনে ছিলাম।

বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল আলীম বলেন, গুগল সার্ভারে সমস্যা থাকায় বাধ্য হয়ে ওপেন নোটিশ বোর্ডে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা প্রশ্নপত্র প্রিন্ট করে পরীক্ষা নিয়েছে। দেরিতে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় সময় পুষিয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার অল্প সময় আগে প্রশ্নপত্র আপলোড করা হয়। সেই সময় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা হলে ছিল। এজন্য তারা ফাঁস প্রশ্ন হাতে পায়নি।

 

উল্লেখ্য, যশোর শিক্ষা বোর্ড প্রশ্নব্যাংক পদ্ধতি চালু করেছে। সার্ভারে আপলোড করা প্রশ্নপত্র নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা পাসওয়ার্ড ও মোবাইল ফোনের মেসেজের মাধ্যমে ওপেন করে প্রিন্ট দিতে পারেন। মূলত প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই প্রশ্নপত্র অভিভাবকদের হাতে চলে যায়। ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের হাতে দেয়া হয়। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র সাজাতে অদক্ষতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষা বোর্ডের অদক্ষতা ও খামখেয়ালিকেই দায়ী করছেন অভিভাবকরা। অভিভাবকরা জানান, বাংলা প্রথমপত্রের সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী প্রশ্নপত্র বোর্ডের নোটিশ বোর্ডে দেয়ায় সেগুলো মুহূর্তে মোবাইল ফোনে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর হাতে চলে যায়।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা সরকারি বালক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার বিশ্বাস, সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আরজু রহমানসহ অনেক শিক্ষক আধাঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা স্বীকার করেন।

 

সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মালা রানি বিশ্বাস বলেন, পদ্ধতিটি পরীক্ষামূলক। সার্ভারের ত্রুটির জন্য প্রথম পরীক্ষায় কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন হবে না বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তথ্যসূত্রঃ Jugantor