আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪১ বার

যশোরে আগাম শিম চাষে মারাত্মক ফলন বিপর্যয় বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান

আগাম শিম চাষ করে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন যশোরের কয়েক শ কৃষক। বিরূপ আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণে ফলন বিপর্যয়ে তারা বিঘাপ্রতি ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান গুনছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, সাময়িক সমস্যা কৃষকদের কিছুটা হতাশ করলেও খুব দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে আসলে এ বছর শিম উৎপাদন নিকট-অতীত সকল রেকর্ড অতিক্রম করবে।
সবজি উৎপাদনে খ্যাত যশোর জেলার একই জমিতে বিশেষ ব্যবস্থায় সারা বছরই শিম ও মাছ চাষ করে আসছেন চাষিরা। কৃষি বিভাগের হিসেবে চলতি বছরে যশোরের বিভিন্ন এলাকায় ১৩৬৭ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের শিম চাষ হয়েছে। যশোরের বারীনগর, মানিকদিহি, হৈবতপুর, খাজুরা, তীরেরহাট, চুড়ামনকাঠি, শাহবাজপুর ও চৌগাছা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পর মাঠ শিমের ফুলে ভরে গেছে। পুরো মাঠ জুড়ে সবুজ আর বেগুনি রঙের বাহার। তবে এ বছর অসময়ে বৃষ্টিপাত ও তীব্র তাপমাত্রার কারণে শিমের মারাত্মক ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
সাতমাইলের শিম চাষি আব্দুল আলীম জানান, তিনি চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছেন। গত এক মাস আগে প্রতিটি গাছে প্রচুর ফলন আসে। তবে বর্তমান গাছে কোনো ফুল ও ফল দাঁড়াচ্ছেনা। ফলে বিঘাপ্রতি দুই থেকে তিন কেজিও শিম পাওয়া যাচ্ছে না। একই কথা জানান, শিম চাষি রহমত আলী। তিনি বলেন, এ বছর আমাদের শিম চাষ করে লাভতো দূরের কথা পুঁজি রক্ষা করতেও পারছি না। রহমত আলী জানান, অন্যান্য বছরে এই মৌসুমে শিম চাষ করে বিঘাপ্রতি তারা এক থেকে দুই লাখ টাকা আয় করলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে এখন একবিঘা জমিতে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করতে পারছেন না। ফলে শিম চাষ করে তাদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, দিনে-রাতে তাপমাত্রা একই রকম থাকায় শিম চাষের জন্য মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। শিম চাষের জন্য রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কম থাকলে ভালো হয়। কিন্তু বর্তমান আবহাওয়া শিম চাষের জন্য মোটেও অনুকূলে নয়।
একই এলাকার চাষি মোবারক কাজী জানান, ‘এবছর অতিরিক্ত বৃষ্টি ও তাপমাত্রার কারণে সবজি চাষে আমরা কয়েক দফা লোকসান গুনেছি। আশা করেছিলাম শিম চাষ করে ক্ষতি পুষিয়ে নেবো। তবে ফলন বিপর্যয় আমাদের সে স্বপ্ন ধুলিস্যাত করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘বাজারে শিমের দাম কৃষকের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। কিন্তু পোকার আক্রমণে ফলন না থাকায় শিম তুলতে পারছি না। অথচ এই মৌসুমে একবিঘা জমিতে আমরা দুই থেকে তিন মণ পর্যন্ত শিম পেয়েছি।’
এ পরিস্থিতির জন্য পরিবর্তিত আবহাওয়াকে দায়ী করেছে কৃষিবিভাগ। এ অবস্থায় পোকা দমনে কৃষকদের জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শও তাদের। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কাজী হাবিবুর রহমান, বর্তমান যে আবহাওয়া চলছে তা শিম চাষের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়। অসময়ে মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় শিমের ফলন কম হচ্ছে। এ অবস্থায় কৃষকদের পোকামাকড় দমনে জৈব প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন থেকে আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। খুব তাড়াতাড়ি তাপমাত্রা কমে গেলে শিমের ফলন বৃদ্ধি পাবে এবং ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj