আপডেট: অক্টোবর ৯, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৯৩ বার

চৌগাছায় আলু চাষিদের মাথায় হাত বস্তা প্রতি লোকসান ৪০০ টাকা

এম.এ.রহিম, চৌগাছা (যশোর) ॥ উৎপাদন এবং সংরণ খরচের থেকে বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় যশোরের চৌগাছায় আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন। বস্তাপ্রতি (৮০ কেজি) তাদের লোকসান হচ্ছে ৪শ টাকা। উপজেলার আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা কোল্ডস্টোরেজে রাখা আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার কৃষকেরা আলু চাষে ঝুঁকে পড়েন। তারা অন্য আবাদ বাদ দিয়ে বেশি বেশি করে আলুর আবাদ করেছিলেন।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গেল মৌসুমে উপজেলায় ডায়মন্ড, কার্ডিনাল ও দেশী জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ২শ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছিল ৩শ ৭২ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১শ ৭২ হেক্টর বেশি জমিতে আলুর চাষ করা হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় মৌসুমের শুরুতে দাম কম থাকায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় আলু কোল্ডস্টোরেজে রেখেছিলেন। উৎপাদন, স্টোর ভাড়া, শ্রমিক খরচ ইত্যাদিসহ যে আলুর কেজি পড়েছে প্রায় ১৬/১৭ টাকা, সেই আলু বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২/১৩ টাকা। ফলে অর্ধেকের বেশি টাকা লোকসান হবে এমনটি ভেবে স্টোর থেকে তারা আলু তুলে বাজারে বিক্রি করতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
কৃষক আজগর আলী, রহমত আলী, আব্দুল আলিম, শফিউদ্দীন, ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম, আমানত আলী, সিরাজুল ইসলামসহ আরো অনেকে জানান, লাভের আশায় তারা মৌসুমের শুরুতে এক বস্তা আলু (৮০ কেজি) ৯ শ ২০ টাকাও স্টোর ভাড়া ৩শ ৫০ টাকা দেন, যার মূল্য পড়ছে ১ হাজার ২শ ৭০ টাকা। সেই আলু বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬শ ৭০ টাকা। ফলে বস্তাপ্রতি তাদের ৫শ ৭০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি বছর তারা আলু কিনে কোল্ডস্টোরেজে রাখেন। দাম বাড়লে বিক্রি করে লাভবান হন। কিন্তু এ বছর দাম না থাকায় মহাবিপাকে পড়েছেন আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
চৌগাছা ডিভাইন কোল্ডস্টোরেজের ম্যানেজার এ.এস.এম হাদিউজ্জামান সাগর জানান, ২০১৭ সালের চলতি মৌসুমে উপজেলার আলু চাষি ও ব্যবসায়ীরা ৭৩ হাজার ৭শ ২২ বস্তা আলু রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্টোরজাত করেন। আলু স্টোর ভাড়া পরিশোধ করে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তুলে নেয়ার কথা। কিন্তু আলুর দাম কম থাকার ফলে এ পর্যন্ত মাত্র ১৮ হাজার ৩শ ১৮ বস্তা আলু স্টোর থেকে উত্তোলন করেছেন। মৌসুমের প্রায় শেষ তার পরেও এখনও সিংহভাগ আলু স্টোরে পড়ে রয়েছে।
ডিভাইন কোল্ডস্টোরেজের সিনিয়র কর্মকর্তা আমানুর রসুল খোকা জানান,আলু ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ৪ হাজার বস্তা, আব্দুর রাজ্জাক ১২শ বস্তা, কামাল হোসেন ১ হাজার বস্তা, আব্দুর রশিদ ১২শ বস্তা, রাসের হোসেন ১৮ হাজার ৬শ বস্তা, আকরাম বাণিজ্যালয় ৭শ বস্তা এবং আলু চাষি রহমত হোসেন, শাওন রহমান, কামাল হোসেন, শহিদুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেনসহ অনেকে লাভের আশায় স্টোরে আলু রেখেছিলেন। বাজারে আলুর ন্যায্যমূল্য না থাকায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা স্টোর থেকে আলু তুলছেন না। বর্তমান বাজারে দাম নেই তবুও ব্যবসায়ী ও চাষিরা আশায় বুক বেধে আছেন আলুর দাম এখনো হয়তো বাড়তে পারে।
রোববার সরেজমিনে গিয়ে চোখে পড়ে আলু বাছাই কাজে নিয়োজিত শ শ নারী শ্রমিক স্টোরের সামনে বসে বেকার সময় পার করছেন। নারী শ্রমিক রাবেয়া বেগম, সুবিতা রানী, গৌরীবালা, ছবিরোন নেসা, আয়রন বিবি, জবেদা বেগম, সুন্দরী বেগম, সুনিতা দাস জানান, স্টোর থেকে আলু না তুলায় বেকার হয়ে পড়েছেন এখান কার শ শ নারী ও পুরুষ শ্রমিক। কাজ না থাকায় মানবেতর জীবন-যাপন করছে এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের পরিবারগুলো। আলু ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন জানান ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আলু কিনে কোল্ডস্টোরেজ ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন ভাড়াসহ ইত্যাদি খরচ বহন করে বস্তা প্রতি প্রায় ৫শ ৭০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj