আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১০৬ বার

যবিপ্রবি ছাত্রলীগের কোন্দলের নেপথ্য কারণ গ্রুপ পরিবর্তন

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান গ্রুপের দ্বন্দের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। হল দখলে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২০১৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচিত হয় ছাত্রলীগ। শুরুতে ছাত্রলীগের একটি ধারা থাকলেও সময়ের পরিক্রমা দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের নেপথ্যে ছাত্রলীগের দুই নেতার কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় গ্রুপ (লবিং) পরিবর্তনকে দায়ী করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একই গ্রুপের অনুসারী ছিলেন। সম্প্রতি একজন গ্রুপ পরিবর্তন করায় নিজের মধ্যে দ্বন্দটা বেড়েছে। এতে আরো সহিংসতার শঙ্কায় রয়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও শামীম হাসান ছিলেন একই গ্রুপের অনুসারী। যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও বর্তমান সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তারা। এমনকি ২০১৪ সালে যবিপ্রবি ছাত্র নাইমুল ইসলাম রিয়াদ হত্যা মামলার আসামি হিসেবে দুজন একসঙ্গে জেলও খেটেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তারা একসঙ্গে বহিষ্কারও হন। পরবর্তীতে বহিষ্কার আদেশ শিথিল হয়েছে। এক পর্যায়ে আবারো ক্যাম্পাসে যাওয়ার সুযোগ পান তারা। ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার করে শামীম গ্রুপ। শহীদ মশিয়ুর রহমান হল ও শেখ হাসিনা হলসহ পুরো ক্যাম্পাস নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন শামীম। চলতি বছরের প্রথম দিকে শামীম হাসান কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় লবিং পরিবর্তন করেন। তিনি স্থানীয় এমপি কাজী নাবিল আহমেদ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের অনুসারী হন। গ্রুপ পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ দেখা দেয়। এরপর সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও তার অনুসারীরা পুরো ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে চলতি বছরের মে মাসে তারা হল থেকে শামীম হাসানসহ তার অনুসারীদের বিতাড়িত করেন। পুরো হল দখলে নেন সভাপতি অনুসারীরা।
তবে সেই সময় সুব্রত বিশ্বাস দাবি করেন, নানা অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ শিক্ষার্থীরা শামীম হাসানকে হল থেকে বিতাড়িত করেছে। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসে বেশ কিছুদিন দেখা যায়নি শামীম হাসানকে। পুরো ক্যাম্পাসে সুব্রত বিশ্বাসের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) রাতে শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের হামলায় সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস গ্রুপের অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ, মোবাইল, টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতে হল দখলের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে পুলিশের সহায়তা ক্যাম্পাস ত্যাগ করে শামীম ও তার অনুসারীরা। দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি হামলায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ তবুও ২০১৪ সাল থেকে ছাত্রলীগ প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। ছাত্রলীগের রাজনীতির কারণে বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শনিবার রিজেন্ট বোর্ডের সভা ডেকেছে। সভায় পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে। জানতে চাইলে যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস বলেন, ‘ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসানকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা হল থেকে বিতাড়িত করেছিল। তার নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে ডাকাতি করা হয়েছে। অস্ত্রধারী বহিরাগত সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট চালিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেদম মারপিট করেছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে পুলিশ সহায়তা করেছে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হাসান বলেন, গত মে মাসে তাদের (সাধারণ সম্পাদক অনুসারী) হল থেকে বিতাড়িত করে দখল করে সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস অনুসারীরা। তার অনুসারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারেনি। এদের অনেকে সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। এ জন্য বর্ষ উন্নয়নে ব্যর্থ হয়েছে। প্রক্টর স্যারের অনুমতি নিয়ে তার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার হলে উঠেছিল। কিন্তু সভাপতি অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা কারো উপর হামলা কিংবা অস্ত্রবাজির ঘটনা ঘটাইনি। সভাপতি গ্রুপের লোকজন বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর শেখ মিজানুর রহমান বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে কিছু বহিরাগত রাতে শহীদ মশিয়ুর রহমান হলে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কিছু ছাত্র আহত হয়েছে। ছাত্রলীগের শামীম কিংবা তার অনুসারী কেউ অবহিত করে হলে উঠেনি। যদি দাবি করে অবহিত করেছে, সেটি সঠিক নয়। জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আজমল হুদা বলেন, হামলার খবর পেয়ে রাতে পুলিশ সেখানে যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ ক্যাম্পাসে কাজ করেছে। তাদের নির্দেশনার বাইরে পুলিশ কিছু করেনি।

তথ্যসূত্রঃ Dainik Kalyan