আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৮ বার

দিনভর ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ কর্মসূচি : যবিপ্রবি থেকে ছাত্রলীগ নেতা শামীমসহ ৭ শিক্ষার্থী বহিস্কার

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম শামীম হাসানসহ ৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রলীগের একটি গ্রুপের হল দখল করার চেষ্টার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ডের সভায় এ বহিস্কার আদেশের সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে বিক্ষোভ সমাবেশ, কাসবর্জন এবং সাতদফা দাবি আদায়ের আল্টিমেটামের মধ্যে দিয়ে গতকাল শনিবার দিনভর শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করেছেন।
অন্যদিকে বহিস্কৃত নেতা শামীম হাসান গতকাল দুপুরে প্রেসকাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ৫ অক্টোবর রাতের ঘটনায় সভাপতি সুব্রত বিশ্বাস ও তার অনুসারীদের দোসী সাব্যস্ত করেছেন এবং জেলা আওয়ামী লীগ ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক প্রভাবশালী নেতার কারণে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) অশান্ত হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন। তবে দুই নেতার নাম বলতে রাজি হননি তিনি। অবশ্য যে সময় তিনি সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন, সেই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে রিজেন্ট বোর্ডের সভায় শামীম হাসানসহ ৭ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়। গত বৃহস্পতিবারের ঘটনায় শামীম পক্ষীয়দের দোষী সাব্যস্ত করে ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর সম্মেলন কে রিজেন্ট বোর্ডের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন। বহিষ্কৃতরা হলেন-জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের শিার্থী এস এম শামীম হাসান ও বিপ্লব কুমার দে (শান্ত), পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিার্থী তানভির ফয়সাল, শারীরিক শিক ও ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের শিার্থী মো. আল মামুন সিমন ও মো. মাসুদুর রহমান রনি এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিার্থী তানভির আহমেদ তানিন ও আশিক খন্দকার। এরা সকলেই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসান গ্রুপের বলে জানা গেছে।
এদিকে বৃহষ্পতিবারের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. নাসিম রেজাকে। অন্য সদস্যরা হলেন-শেখ হাসিনা ছাত্রী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আনিছুর রহমান, রিজেন্ট বোর্ডের সদস্য ড. মো. ওমর ফারুক ও বিএনসিসির পরিচালক প্রভাস চন্দ্র রায়। সদস্য সচিব করা হয়েছে সহকারী পরিচালক (প ও উ) ড. আবদুর রউফকে। কমিটিকে আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জড়িতদের বিরুদ্ধে চুড়ান্ত ব্যবস্থা নেবেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপ।
প্রেসকাবে এস এম শামীম হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘৫ অক্টোবরের জন্য সুব্রত গ্রুপ দায়ী। তার গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত। হোস্টেলেও উঠতে পারছেন না। লেখাপড়ার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। ১০ অক্টোবর বিভিন্ন সেমিস্টারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই কারণে শহীদ মশিয়ূর রহমান হলে উঠতে চেয়েছিলেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতার ইন্ধনে সভাপতি গ্রুপের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা করে। সুব্রত গ্রুপের লোকজন আমাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং বোমা মারে।’ সংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে উত্তর প্রথম থেকেই কৌশলে দেন এসএম শামীম হাসান। অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়েও যান। তিনি দাবি করেন, সুব্রত গ্রুপের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্ত করে রেখেছে। তাদের অত্যাচারে বহু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে পারছেন না। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠভাবে ফিরিয়ে আনতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যবিপ্রবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম শামীম হাসান। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিপ্লব কুমার দে শান্ত, শিলা আক্তার, আল মামুন শিমন, মাসুদুর রহমান রনি, তানভির তামিম, কামরুজ্জামান সনি, গোবিন্দ মল্লিক, খন্দকার আশিক, তানভির ফয়সাল প্রমুখ। এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফয়সাল খান উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ছাত্রলীগের সভাপতি সুব্রত গ্রুপের সদস্যরা শনিবার দিনভর বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তারা ৫ অক্টোবর রাতের ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি জানান এবং সাতদফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো-বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার সাথে জড়িত ছাত্রদের স্থায়ী বহিস্কার, লুট হয়ে যাওয়া মালামাল ফেরত, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রক্টর ড. শেখ মিজানুর রহমানকে বহিস্কার, হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা, দায়িত্ব অবহেলার জন্য পুলিশকে অভিযুক্ত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস প্রভৃতি। প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, ছাত্রলীগ নেতা সোহেল হাসান, অয়ন আহমেদ, ইলিয়াস হোসেন প্রমুখ। পরে তাদের সাথে কথা বলেন ভিসি ড. মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসার আহবান জানান এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj