আপডেট: অক্টোবর ৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৩ বার

কেশবপুরে পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট বন্ধ করে মাছের ঘের : অনাবাদি হয়ে পড়েছে কৃষকের ফসলি জমি

কেশবপুর (যশোর) ॥ যশোরের কেশবপুরে কালকেতলা ছোট পদ্মবিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র সরকারি খাল দখল করে প্রভাবশালী এক ব্যক্তি মাছের ঘের করে পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে ওই বিলের পাঁচ শতাধিক কৃষকের কয়েক শ বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে।
সরকারি খাল দখলে নিয়ে মাছের ঘের করার কারণে পানিবদ্ধতা দেখা দেয়ায় বিলের ওপর নির্র্ভশীল কৃষকেরা নিয়মিত ফসল ফলাতে না পেরে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ৫ অক্টোবর সরেজমিন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফতেপুর ,ধর্মপুর ও কাস্তা গ্রাম পরিদর্শনকালে জানা যায়, প্রায় ৬শ বিঘা জমি নিয়ে কালকেতলা পদ্মবিলের অবস্থান। ওই বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য কপোতাক্ষ নদের বুক চিরে একটি সরকারি খাল রয়েছে। যেটি কালকেতলা পদ্মবিলের ভেতর প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ খাল দিয়ে বৃষ্টি মৌসুমে পানি নিষ্কাশিত হয়। কিন্তু কেশবপুরের আলতাপোল গ্রামের মাছের ঘের ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বিশ্বাস ও শহিদুল ইসলাম বিলের কৃষকদের কাছ থেকে জমি বিশেষ বিঘা প্রতি আড়াই হাজার ও ১৬ হাজার টাকা হারির মাধ্যমে সাত বছরের ডিড নিয়ে বিগত পাঁচ বছর যাবত মাছ চাষ করে আসছেন। কিছু কৃষকের পানি নিষ্কাশন করে আবাদ করার ব্যবস্থা করার কথা থাকলেও তিনি বাঁশবাড়িয়া কালকেতলা পদ্মবিলের সরকারি খালে কুমিরা পুলেরহাট সড়কের ব্রিজে কপাট দিয়ে বিলের পানি নিষ্কশনের পথ বন্ধ করে দেন। ফলে শ শ কৃষক ফসল করতে পারছেন না। এছাড়া তাদের নিয়মিত হারি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দিচ্ছেন না এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক কৃষক। কৃষক বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার মৃধা, আবুল শেখ, ধর্মপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও শেখ রেজাউল ইসলাম বলেন কামরুল তাদের নিয়মিত হারির টাকা পরিশোধ করেন না, এবং পানি আটকে দেওয়ায় তারা ফসল করতে পারছেন না। সরকারি খাল দখলে নেয়ার বিষয়ে ঘের মালিক কামরুল ইসলাম বিশ্বাসের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পানি নিষ্কাশন মূলত পদ্মবিল দিয়ে হয়। ঘেরের ভেতর খাল থাকতে পারে। কালভার্টের মুখ বন্ধ না রাখলে মাছ চলে যাবে। এ বছর মাছের চাষ করে ঘেরটি ছেড়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছি। ভুক্তভোগী কৃষকেরা বিলের খাল দখল মুক্ত করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj