আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৩৯ বার

যশোরে চাকরি মেলায় প্রার্থীদের ঢল

যশোর শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে দিনব্যাপী চাকরি মেলায় প্রার্থীদের ঢল নেমেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার চাকরি প্রার্থী জীবনবৃন্তান্ত নিয়ে হাজির হন। বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম ঘটায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, মেলায় অংশ নেওয়া ৩১টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের স্টলে জীবনবৃন্তান্ত জমা দিতে পারেনি বিপুল সংখ্যক প্রার্থী। পুলিশি বাধায় পার্ক চত্বরে জীবনবৃন্তান্ত জমা নেওয়া হয়। তবে কেউ কেউ সরাসরি জমা দিতে পেরেছেন। বিপুল সংখ্যক প্রার্থী বাইরে জীবনবৃন্তান্ত জমা দিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের শঙ্কা আদৌ তা জমা পড়বে কিনা। 

তবে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গেটের সামনে নির্ধারিত জায়গায় জীবনবৃন্তান্ত জমা দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তীতে তারা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এগুলো পৌঁছে দেবেন।

এর আগে সকালে মেলার উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, কর্মকর্তারা।

 

দিনব্যাপী চাকরি মেলায় ৩১টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ডিজিকন টেকনোলজিস, সাজ টেলিকম, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স কনসোর্টিয়াম লিমিটেড, স্টেলার ডিজিটাল লিমিটেড, এম্বার আইটি লিমিটেড, অগ্নি সিস্টেমস লিমিটেড, দোহাটেক নিউ মিডিয়া, অগমেডিক্স বাংলাদেশ লিমিটেড, এমসিসি, অন এয়ার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, কাজী আইটি সেন্টার, ফিফোটেক, ই-জেনারেশন লিমিটেড, বাক্য, ওয়ালটন কম্পিউটার্স, ব্রিলিয়ান্ট আইডিয়া লিমিটেড, যশোর আইটি, প্রিনিয়ার ল্যাব, এনআরবি জবস, ওয়াটার স্পিড, উৎসব টেকনোলজিস লিমিটেড, ডি নেট ইত্যাদি।

 

জীবনবৃন্তান্ত জমা দিতে আসা কেশবপুরের জাহাঙ্গীর আলম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, পুলিশের বাধায় চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি জীবনবৃন্তান্ত জমা দিতে পারিনি। বাধ্য হয়ে গেটের সামনে বক্সে জমা দিয়ে চলে এসেছি। জানি না আদৌ তা পৌঁছবে কিনা।

যশোরের রাশেদ খান জানান, কয়েকজন বন্ধু মিলে সিভি জমা দিতে এসেছেন। প্রচুর লোক সমাগম হওয়ায় পুলিশ স্টলে যেতে দিচ্ছে না।

 

শুধু জাহাঙ্গীর আলম কিংবা রাশেদ খান নন তাদের মতো কয়েক হাজার চাকরি প্রার্থী সিভি জমা দিতে এসে বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

এদিকে, পার্কের আশপাশের এলাকায় জমজমাট ফটোকপি, কম্পিউটার দোকান ও খাম, কলম বিক্রি হয়েছে।

মেলার স্টল ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ স্টলে চাকরি প্রার্থীর সমাগম কম। অথচ বাইরে হাজার হাজার চাকরি প্রার্থী দাঁড়িয়ে আছে।

 

কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল সরাসরি সিভি জমা না দিলে তাদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হবে। এজন্য একটু দেরিতে হলেও সরাসরি সিভি জমা দেওয়া ভালো। তবে বিপুল সংখ্যক চাকরি প্রার্থীর সাড়ায় খুশি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানতে চাইলে ডিজিকন’র ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) আশরাফুজ্জামান রাসেল বলেন, চাকরি মেলায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুল সংখ্যক প্রার্থী মেলায় এসেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠান আরো বৃহৎ পরিসরে এখানে কাজ করতে চায়। সেক্ষেত্রে বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থান হবে বলে আশাবাদী।

তথ্যসূত্রঃ Poriborton