আপডেট: অক্টোবর ২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৫ বার

ঝিনাইদহে যে পরিবারের কারোরই আঙ্গুল নেই

ঝিনাইদহ॥ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের আড়পাড়া এলাকায় আঙ্গুলবিহীন পরিবারের সন্ধান মিলেছে। ওই পরিবারের দুই সন্তান ও গৃহকর্তার কোন আঙ্গুল নেই। জন্মের পর থেকেই হাত ও পায়ে আঙ্গুল ছিল না গৃহকর্তা খোয়াজ উদ্দীনের। তার পিতা ও দাদারও আঙ্গুল ছিল না। বংশপরম্পরার অমোঘ নিয়মে তাই খোয়াজ উদ্দীনের মেয়ে সাবিনা খাতুন ও ছেলে মাসুদ হোসেন মুছার হাত পায়েও আঙ্গুল নেই। আঙ্গুলবিহীন অবস্থায় মেয়ে সাবিনা পড়ছেন কলেজে। আর ছেলে মাসুদ হোসেন মুছা পিতার দরিদ্র সংসারে হাল ধরতে কাজ করেন কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের ফারুক লাইব্রেরিতে। হাতে পায়ে আঙ্গুল না থাকায় খোয়াজ উদ্দীনকেও মানুষ কাজে ডাকে না। ফলে পরিবারটি আঙ্গুলবিহীন অবস্থায় সরকারি বস্তিতে অতিকষ্টে দিনযাপন করছেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, কালীগঞ্জের আড়পাড়ার ঘিঞ্জি পল্লীতে আঙ্গুলবিহীন পরিবারটির বসবাস। মাথা গোজার জন্য নিজস্ব কোন জমি নেই। সরকারি খাস জমিতে বিদ্যুতবিহীন পরিবেশে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করেন খোয়াজ উদ্দীন। দারিদ্রতার সব চিহ্ন লেগে আছে দিনমজুর খোয়াজ উদ্দীনের বাড়িতে। মেয়ে ও নিজের প্রতিবন্ধী ভাতার টাকায় সংসার চলে খোয়াজের। আর পরের বাড়িতে ঝি এর কাজ করেন স্ত্রী রিজিয়া। কলেজছাত্রী সাবিনা খাতুন কিছুটা অভিমানের সুরে জানালেন এ যাবত বহু ছবি দিয়েছি। কেউ একটি চাকরিও দেয় না। প্রতিবন্ধী খোয়াজের স্ত্রী রিজিয়া খাতুন জানান, প্রতিবন্ধী ভাতায় তাদের আর সংসার চলে না। ছেলে বা মেয়ের একটি সরকারি চাকরি হলে আমরা বেঁচে যেতাম। রিজিয়া জানালেন তার শ্বশুরসহ উর্ধ্বতন সব পূর্ব পুরুষের হাত পায়ে কোন আঙ্গুল ছিল না। সেই থেকে অভিশপ্ত জীবন বয়ে বেড়াচ্ছেন পরিবারটি। কালীগঞ্জ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুক্তার হোসেন জানান, পরিবারটি খুবই দরিদ্র। তাদের জন্য রাষ্ট্রের কিছু একটা করা উচিৎ। কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, আঙ্গুলবিহীন পরিবারের দুই সদস্যকে আমরা প্রতিবন্ধী ভাতা দিচ্ছি। তাছাড়া মেয়ে সাবিনা ও ছেলে মুছাও স্কুলজীবন থেকে স্কুলবৃত্তি পেয়ে আসছিলো। ছেলেকেও আমরা প্রতিবন্ধী ভাতা দেবার ব্যবস্থা করছি। তিনি আরো বলেন, সমাজসেবা অফিসের পক্ষ থেকে অসহায় পরিবারটির জন্য যা যা করার তাই করা হবে। আঙ্গুলবিহীন পরিবারের সাথে যোগাযোগঃ ০১৮৫২-৮৮৯৯০৩।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj