আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১০৩ বার

জলের ঘাটে বাঁশি বাজে গো কমলা পরিবেশনায় মুগ্ধ হলভর্তি দর্শকরা

জলের ঘাটে বাঁশি বাজে গো কমলা পরিবেশনায় মুগ্ধ হলভর্তি দর্শকরা“জলের ঘাটে বাঁশি বাজে গো কমলা, আমরা জলে যাই, কেউ হাঁটে রহিয়া রহিয়া, কেউ হাঁটে ধাইয়া...।” ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা শিল্পকলা একাডেমীর মঞ্চে লোকজ এই গানের সাথে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে জাতীয় পর্যায়ে দলীয় শ্রেণীতে লোকনৃত্য বিষয়ে সেরা দল নির্বাচিত হয়েছে চাঁদের হাট যশোরের নৃত্যশিল্পীরা।
দলনেতা জারিন তাসনিয়া রূপকথার সাথে স্রিজা শ্যারন অধিকারী, উদিতা আক্তার নিতু, তাওহিদা আক্তার জেনি, মহুয়া জান্নাত মহুয়া ও ছামিনা আফরিন রিয়ার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা মুগ্ধ করে হলভর্তি দর্শকদের। আর বিজ্ঞ বিচারকদের মূল্যায়নে জিতে নেয় দলগত বিভাগে দেশসেরার খ্যাতি। ৩৫ টি জেলার দলীয় প্রতিযোগিতায় চাঁদের হাট যশোরের ক্ষুদে নৃত্যশিল্পীদের জয়ের সাথে সাথে জেলা পর্যায়ে যশোরেরও বিজয় এটি।
বিজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণার সাথে সাথে আনন্দে কেঁদে ফেলে ক্ষুদে এ সব নৃত্যশিল্পী। চোখের জলের সে আনন্দ অশ্রুর আবেগ ছুঁয়ে যায় সাথে যাওয়া অভিভাবকদেরও। আবেগময় এক সন্ধ্যা তখন ঢাকা শিল্পকলা একাডেমিতে।
বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে বয়স ও বিষয়ভিত্তিক নৃত্য প্রতিযোগিতায় আয়োজন করে। একক বিষয়ে ছিল কত্থক, ভরতনাট্যম, মনিপুরী, ওড়িষী। দলীয় বিষয়ে ছিল দেশপ্রেম ও লোক নৃত্য। ৬ থেকে ১০ বছর ‘ক’ গ্রুপ, ১১ থেকে ১৫ বছর ‘খ’ গ্রুপ, ১৬ থেকে ২০ বছর ‘গ’ গ্রুপ। সারা দেশের ৬৪ জেলা থেকে প্রাথমিক বাছাইকৃত প্রতিযোগী নিয়ে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয় মূল প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে প্রতিযোগিতা চলতো রাত আটটা অব্দি। খ গ্রুপের প্রতিযোগিদের মাধ্যমে ১৭ সেপ্টেম্বর শেষ হয় প্রতিযোগিতা।
১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় নাট্যশালায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক, সদস্য সচিব সাজু আহমেদ, সদস্য গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
দলের সাথে থাকা অভিভাবক সদস্য অনিন্দিতা বিশ্বাস জানান, নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় অর্জন। এ বয়সে জাতীয় পর্যায়ে পারফর্ম করতে পারা যেখানে গৌরবের, সেখানে বিজয়ী হবার অনুভূতি আসলে ভাষায় অনুদিত করার ক্ষমতা নেই। মেয়ে ¯্রজিার চোখের পানি দেখে তিনিও নিজেকে সামলাতে পারেননি। তিনি আপ্লুত কণ্ঠে জানান, এ বিজয় শুধু চাঁদের হাটের নয়, এ বিজয় যশোরের সবার।
চাঁদের হাট যশোরের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম বিজয়ীদলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, চাঁদের হাট শিশু কিশোরদের সুন্দর হবার পথ দেখায়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়ায় আমরা শুধু আনন্দিতই নই, এটা অনুপ্রেরণাদায়কও। তাদের এ বিজয় অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। ছোটদের জন্য অনেক অনেক শুভাশীষ রইলো। নৃত্যের পাশাপাশি সংগীত, আবৃতি ও যন্ত্রসংগীতেও চাঁদের হাটের শিল্পীরা আগামীতে শুধু যশোর নয়, দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

 

 

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj