আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭৩ বার

জরুরী বিভাগে কুকুর থাকলেও ছিল না কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউই

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর) : ৯ ডাক্তারের মধ্যে দেখা মেলে একজনকেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনিয়ম, অবহেলা, দুর্ব্যবহার ও স্বজনপ্রীতির কারণে উপজেলার তিন লাখ মানুষের এ হাসপাতালটিতে বেহাল দশা বিরাজ করছে। ডাক্তার ও অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের সকাল আটটায় অফিসে যোগদান করে দুপুর আড়াইটায় কর্মস্থল ত্যাগ করার নিয়ম থাকলেও এ হাসপাতালে ঘটে তার উল্টো। মঙ্গলবার সকাল আটটায় সরেজমিনে এ চিত্র দেখা যায়। তবে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সকল ডাক্তারকে ফোন করে ডাকলেও একমাত্র তৌফিকুল ইসলাম ছাড়া কেউই ৯টা ৫ মিনিটের আগে কর্মস্থলে আসেননি।
স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কেশবপুর উপজেলার ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে। উপজেলার তিন লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নতুন করে নয়জন ডাক্তার যোগদান করেন এখানে। এতে রোগীদের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু হাসপাতাল কর্তার অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি, দুর্ব্যবহারের কারণে এখান থেকে একে একে ১০ জন ডাক্তার চলে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ২২ জন ডাক্তারের জায়গায় আছেন মাত্র নয়জন। স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সটি যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় কেশবপুরসহ মণিরামপুর, কলারোয়া, তালা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শ’ শ’ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন এখানে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, বহি:বিভাগে দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে এসেছেন সরসকাটির ফিরোজা বেগম (৩৫), শানতলার আব্দুল খালেক (৭৫) ও হাজরাকাটির রোস্তম মোড়ল (৭২)। তারা ডাক্তারের অপেক্ষায় বসে ছিলেন।
কেশবপুর পৌরসভার কাউন্সিলর শেখ আতিয়ার রহমান অভিযোগ করে বলেন, তার ভাইজি জেসমিন আরাকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করলেও ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, বন্যা পরবর্তী এলাকায় রোগব্যাধি দেখা দিলেও সময়মত ডাক্তার না পাওয়ায় লোকজনকে বেশি টাকা খরচ করে যশোর ও খুলনায় গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
বহি:বিভাগে ১০-১২টি টিউবলাইট থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র একটি। সেটিও বন্ধ দেখা যায়।
সকাল নয়টায় উপস্থিত হন হারবাল সহকারী আব্দুল হালিম। তখন স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সের অন্যান্য সকল বিভাগ বন্ধ ছিল। জরুরী বিভাগে ঢুকতেই সামনে কুকুর থাকতে দেখা যায়। জরুরী বিভাগে কুকুর থাকলেও কোনো লোকজনের দেখা মেলেনি। এ সময় হাসপাতাল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশের একটি ঘরে বসে থাকতে দেখা যায়। সকাল নয়টায় অন্যান্য ডাক্তারের চেম্বার ঘুরে দেখা যায়, একমাত্র ডাক্তার তৌফিকুল ইসলাম রোগী দেখছেন। অন্যান্য চিকিৎসকদের চেম্বার বন্ধ ছিল। নয়টা এক মিনিটে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তার রুমের সামনে দাঁড়িয়ে উপজেলা জনগণের প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও হাইজিন বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাক্তারদের ফোন করে ডেকে আনার চেষ্টা করেন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক আসেন নয়টা ছয় মিনিটে। স্যানেটারি ইন্সপেক্টরের ঘর খোলা থাকলেও তার দেখা মেলেনি ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কর্মচারী জানান, অফিস চলাকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অধিকাংশ দিন বিভিন্ন মিটিংয়ের কথা বলে উপজেলা পরিষদে সময় কাটান। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং না থাকলেও হাসপাতাল ফেলে তিনি সেখানে অবস্থান করায় অন্যান্য চিকিৎসকরা চলেন স্বাধীনভাবে।
জানাগেছে, ঠিকাদারের সাথে আঁতাতের কারণে রোগীদের নিম্নমানের খাদ্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিজে কোনো কোনো কর্মচারীর বাড়ির খাবার খেয়ে অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা দিয়ে থাকেন তাদের। তিনি নার্স ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি তার আস্থাভাজন কর্মকর্তা- কর্মচারীদের নিয়ম ভেঙে ইচ্ছামতো অফিস করার সুয়োগ দিয়ে থাকেন। এ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেশবপুরে যোগদানের পর স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বেড়েছে বলে কর্মকর্তা- কর্মচারীদের অভিযোগ।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শেখ আবু শাহীন সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস করার কথা থাকলেও নানা কারণে আসতে দেরি হয়।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj