আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৪৮ বার

ঝিনাইদহে খাদ্য গুদামের চাল জব্দ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

রাজিব হাসান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে খাদ্য গুদাম থেকে পাচারের সময় ২শত বস্তা উন্নতমানের চাল জব্দের পর ওই দপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার চাল বদল বাণিজ্য ফাঁস হয়ে পড়েছে। দুই বছর ধরে গুদাম থেকে ভালো চাল বের করে দিয়ে সেই লটে পঁচা, মোটা ও নিম্নমানের চাল রাখা হচ্ছে। এতে উপকারভোগী বিশেষ করে আনসার ও পুলিশ সদস্যরা রেশনের চাল খেতে না পেরে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। চাল বদল করতে গিয়ে ৬০ থেকে ৭০ টন চাল রিপ্লেসমেন্ট করতে না পারায় গুদামে ঘাপলার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিন উপজেলার খাদ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে ঝিনাইদহ সদর গুদামের চাল ও গমের মজুদ পরিমাপ করা হচ্ছে। করা হয়েছে তিন দস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। আজ সোমবার তদন্ত কাজ শেষ করে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বাবুল হোসেনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।
শনিবার দিনব্যাপী চালের মজুদ ঠিক আছে কি না, সেটা ওজনের কাজ করা শুরু হয়েছে। এদিকে চালের মজুদ ঠিক করতে ৩০ কেজির বস্তা ২০ কেজি বানিয়ে সংখ্যায় বাড়ানো হচ্ছে- এমন অভিযোগ উঠেছে। একই বিভাগের লোকজন তদন্ত কমিটিতে থাকায় তারাও ঘাপলাবাজির আশ্রয় নেয়া হচ্ছে বলে সাধারণ মিল মালিকেরা অভিযোগ করেছেন। পুলিশের চোখে পলাতক ঝিনাইদহ সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জসিমউদ্দীনও এই মজুদ গণনার সময় উপস্থিত থাকছেন।
বৃহস্পতিবার ১০ টন সরকারি চাল জব্দ ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রেকর্ড হওয়ার পর সিন্ডিকেটের পাঁচ সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন ঈদুল আজহার একদিন আগে চাল ব্যবসায়ী রাজু ও ওবাইদুর রহমান পাটোয়ারী সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সহায়তায় এক’শ টান নিম্নমানের চাল ঢুকিয়ে গুদাম থেকে সমপরিমাণ ভাল চাল বের করে নিয়ে যান। গত দুই বছর ধরে ঝিনাইদহ খাদ্য গুদামে এই চাল বদল বাণিজ্য চলে আসছে। টিআর, জিআর, ধান ও গম কেনাবেচার সঙ্গেও এই চক্র জড়িত। চিকন ধান কেনার অজুহাতে গত মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে কোনো ধান কেনা হয়নি। সব ধান সরবরাহ করেছে সিন্ডিকেট সদস্য রাজু ও ইমাজুল। চাল কেনার সময় মিলারদের কাছ থেকে ৫০ কেজির স্থলে ৫১ কেজি করে চাল গ্রহণ করেন। পরে যখন ওই চাল বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ডেলিভারি দেন তখন ৪৯ কেজি ওজনে নিতে বাধ্য করেন। ফলে মিলাররা চাল দিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তাকে দিয়ে গুদাম থেকে খাদ্য সহকারী পরিদর্শক ফরহাদ ও দারোয়ান আবুজারকে অন্যত্র বদলী করে দিয়েছেন। বর্তমানে গুদামের সাইলো অপারেটিভ মীর মোকাদ্দেস হোসেন ও দারোয়ান পূর্ণ কুমার নাথকে দিয়ে অপকর্ম চলিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে ঝিনাইদহ র‌্যাবের দায়েরকৃত মামলায় এই সিন্ডিকেটের দুই সহযোগী রাকিব ও কিবরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামি ঝিনাইদহ সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন, চাল ব্যবসায়ী ওলিয়ার রহমান ও টিপু সুলতান পলাতক রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি (অপারেশন) মহসিন হোসেন জানান, মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আমরা পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। আশা করি চাল পাচারের সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা ও তদন্ত দলের প্রদান আসাদুল হক জানান, আমরা তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি শনিবার থেকে চাল পরিমাপ করছি। গুদামে ৫০ টন গম ও ১১’শ ৪৪ টন চাল মজুদ থাকার কথা। আমরা ৫নং গুদামের চাল ও গমের ওজন শেষ করেছি। এখনো ২/৩ দিন সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, পরিমাপ শেষ হলেই বোঝা যাবে কত টন চাল বা গম কম আছে।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj