আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৬৩ বার

লোহাগড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

শাহজাহান সাজু, লোহাগড়া (নড়াইল) : নড়াইলের লোহাগড়া থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ বিপ্লব কুমার সাহাসহ ১৩ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন উপজেলার কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে লোহাগড়া আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদ হাসানকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া এ মামলায় আসামি করা হয়েছে নড়াইল জেলা আ’লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ সদস্য শেখ শরিফুল ইসলাম এবং নড়াইল সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার মঞ্জুরুল মোর্শেদকে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন এসআই নয়ন পাটোয়ারী, এসআই শিমুল কুমার দাশ, এসআই নাছির উদ্দিন আকন্দ, এসআই মিহির কান্তি পাল ও এসআই শাহিনুর রহমান এবং এএসআই মাসুদুর রহমান, এএসআই তানভীর হোসেন, এএসআই আব্দুল হাকিমসহ চার কনস্টেবল।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ আগস্ট লোহাগড়া পৌরসভা নির্বাচনের আগে ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শেখ শরিফুল ইসলাম, কচুবাড়িয়া এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এ সময় কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ তার লোকজন শরিফুল ইসলামকে ধাওয়া দেন। তিনি প্রাণ বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী বিবেকানন্দ (বিবেক) দাসের বাড়িতে আশ্রয় নেন। নির্বাচনী প্রচারণায় সাথে থাকা জাহাঙ্গীর ওরফে উজ্জলকে চেয়ারম্যান মতিয়ারসহ তার লোকজন ধরে বেধড়ক মারপিট করেন। ২টি পিস্তল ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে মর্মে পুলিশ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীকে খবর দেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আস্ত্র-গুলিসহ জাহাঙ্গীরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। মেয়র প্রার্থী শরিফুলকে আটকের দাবির মাধ্যমে মতিয়ার রহমান, পৌর নির্বাচনকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে রাত ১১টার দিকে তার নেতৃত্বে কাশিপুর ইউনিয়নের প্রায় ২-৩’শ লোকজন দেশি আস্ত্র, লাঠি সোটা, নিয়ে লোহাগড়া থানা ঘেরাও করে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে থানার ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। রক্ষিত অস্ত্র-গোলাবারুদ ভান্ডার, সরকারি মালামাল ও নিজেদের জানমালের রক্ষার্থে পুলিশ ১৫ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি বর্ষণের মাধ্যমে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এবং এ সময় মতিয়ার রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেন। ইটের আঘাতে ৩ অফিসারসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়ে লোহাগড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানকে প্রধান আসামি করে ২১ জনের নাম ও অজ্ঞাত ২’শ উল্লেখ করে ওই রাতে একটি মামলা করেন। ধৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করলেও চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান শারীরিক অসুস্থতার অজুহাতে আদালতকে ফাঁকি দিয়ে কৌশলে নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে হাসপাতালে থাকাবস্থায় জামিনে মুক্ত হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। মামলার ১৩ মাস পর গত ১৬ জুলাই মামলার অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) প্রদান করলে বাধ সাধেন চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। তিনি প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এহেন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা করেছেন বলে জানান সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার সাহা।
মতিয়ার রহমান বলেন, লোহাগড়া থানা মামলা গ্রহণ না করায় এ মামলা দায়ের করতে বিলম্ব হলো। এছাড়া তৎকালীন ওসিসহ পুলিশ সদস্যরা লোহাগড়া থানায় কর্মরত থাকায় ভয়ে মামলা করার সাহস পাননি বলে মামলায় উল্লেখ করেন তিনি।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj