আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৬৭ বার

সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ একটি পরিবার

চৌগাছা (যশোর): সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ একটি পরিবার যশোরের চৌগাছার কতিপয় সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অসহায় একটি পরিবারকে ভিটাছাড়া করার পাঁয়তারা করছে। দীর্ঘ ২৫ বছর ভিটাবাড়ির ওই জমিতে বসবাস করে আসলেও গত দুই বছর ধরে সন্ত্রাসী মহলটি সমুদয় জমি দখল নিতে মেতে উঠেছে। একের পর এক মামলা-হামলা, ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ নানা ধরনের কর্মকান্ড চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে চৌগাছা রিপোর্টার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অসহায় পরিবারের পক্ষে এমন অভিযোগ করেন খড়িঞ্চা গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে ওমর আলী।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের খড়িঞ্চা মৌজার দাগ নং ১২৮৯ পুরাতন, হাল ৯২৯ ও ২৬০ নং খতিয়ানে মোট ১৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। খড়িঞ্চা গ্রামের মৃত মান্দু মোল্লার ছেলে এলাহী বক্স ও নবিছদ্দিনের স্ত্রী চায়না বিবির নিকট থেকে তিনি ১৮ শতক জমি ক্রয় করেন। ক্রয় সূত্রে তিনি ওই জমির মালিক এবং ভোগদখলের মাধ্যমে সেখানে বছরের পর বছর বসবাস করে আসছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ২০১৫ সালে মোট জমির মধ্যে ৯ শতক জমি চায়না বিবির ওয়ারেশ জাহাঙ্গীর নিজের দাবি করে আদালতে মামলা করেন। মামলার তদন্তে আদালত আমাদের জমি সঠিক বলে রায় প্রদান করেন। এরপর ওই মহল গায়ের জোরে আমার ভিটাবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য মেতে উঠেন। এলাকায় নবিছদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন, মিজানুর রহমান, মিন্টু রহমান, এলাহী বক্সের ছেলে তজিবর রহমান, শুকুর আলী হবিবর রহমান, মৃত মান্দু মোল্লার ছেলে নবিছদ্দিনসহ চিহিৃত সন্ত্রাসীরা নানাভাবে অত্যাচার নির্যাতন শুরু করেন। তাদের অত্যাচার থেকে রেহাই পেতে থানা পুলিশের সহযোগীতা কামনা করি। কিন্তু তাতে কোন ফল পাইনি। থানায় ওই সন্ত্রাসীদের নামে অভিযোগ কারার সাথে সাথে আমার পরিবারের প্রতি অত্যাচার কয়েক গুণ বেড়ে যাই। আমি প্রাণ ভয়ে বাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করি। ওই সন্ত্রাসীরা প্রতিরাতে আমার পরিবারের উপর অত্যাচার চালায়। আমি রাত হলেই নিয়মিত বাড়ি থেকে ওই সন্ত্রাসীদের ভয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে থাকি। এই সুযোগে সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রী সন্তানের উপর নানা ধরনের ভয় ভীতি দেখায়। সম্প্রতি সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে হাজির হয়ে আমাকে খুঁজতে থাকে। তারা আমার না পেয়ে ঘরের জানালা দিয়ে অস্ত্র প্রদর্শন করে আমার পরিবারের সকলকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এখানেই সন্ত্রাসীরা ক্ষান্ত হয়নি।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের মেম্বর আঃ মান্নানের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমার স্ত্রীকে বেধম মারপিট করেন। মারপিট করার পর আমার বাড়ি ভাংচুরসহ নানা তান্ডব চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার বাড়িতে থাকা বিভিন্ন ধরনের গাছ ও শতশত বাঁশ কেটে নিয়ে যায়। ওই সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি আমরা। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আদালতে তারা মামলা করলে আমিও একটি পাল্টা মামলা করি। এর ফলে মহামান্য আদালত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। কিন্তু উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা ১৪৪ ধারাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে আমার ওই জমিতে একটি ঝুপড়ি ঘর নির্মাণ করে। এই ঝুপড়ি ঘরে প্রতি রাতে সন্ত্রাসীরা মাদক নিয়ে আড্ডায় মেতে ওঠে। চিহ্নিত এই সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নিজের ভিটাবাড়িতে নিরাপদে যাতে বসবাস করতে পারি তার ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ সময় ওমর আলীর প্রতিবেশি সামছুল আলম, ইব্রাহীম হোসেন, আলমগীর হোসেন, আশাদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj