আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৩৬ বার

পুড়াপাড়া বাজারে খাস জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে পাকা বিল্ডিং

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পুড়াপাড়া বাজারের সরকারি খাস জমিতে রাতারাতি পাকা বিল্ডিং নির্মাণ করা হচ্ছে। আর এই কাজে সহায়তা করছেন মান্দারবাড়ীয়া (জোঁকা) ভূমি অফিসের তহশীলদার আতিয়ার রহমান। খোদ সরকারি কর্মকর্তার সহযোগিতায় খাস জমিতে মার্কেট তৈরি করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, পুড়াপাড়া বাজারে সরকারি খাস জমি রয়েছে ৭ একর ২২ শতক। কিন্তু মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশীলদের সহযোগিতায় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাজারের খাস জমি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করতে থাকায় এখন এক শতক জমিও অবশিষ্ট নেই। এদিকে পুড়াপাড়া বাজারের পুড়াপাড়া-আন্দুলিয়া রাস্তার বকুলতলার মোড়ের কাছে যশোরের চৌগাছা উপজেলার পুড়াপাড়া গ্রামের সুকদেব কুমার তথ্য দিয়ে তার স্ত্রী ও ছোট ভাই উত্তম কুমারের নামে রাস্তার খাস জমি সরকারের কাজ থেকে বন্দোবস্ত গ্রহণ করেন। অথচ উত্তম কুমারের কোটি কোটি টাকা ও অটো মিল রয়েছে। তিনি বন্দোবস্ত পাওয়ার পর চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে জায়গাটি দখলে রাখেন। এরপর সুযোগ বুঝে সুকদেব কুমার সরকারের অনুমোদন ছাড়াই তহশীলদার আতিয়ার রহমানের সহায়তায় পাকা বিল্ডিং এর কাজ শুরু করেন। বিষয়টি বাজারের লোকজন জানতে পেরে মান্দারবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিদুল ইসলামকে জানান । চেয়ারম্যান খবর পাওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় চৌকিদার ও দফাদারকে পাঠিয়ে কাজ বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু সুকদেব কুমার চেয়ারম্যানের নির্দেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কাজ চালাতে থাকেন। এ ব্যাপারে তহশীলদার আতিয়ার রহমান জানান, ‘কিভাবে বন্দোবস্ত অফিস থেকে দিয়েছে তা আমার জানা নেই।’ তবে বন্দোবস্ত আছে বলেই তিনি পাকা ঘর নির্মাণ করছেন বলে জানান আতিয়ার রহমান। জমি বন্দোবস্ত গ্রহণকারী সুকদেব কুমার জানান, ‘আমার স্ত্রী ও ছোট ভাইয়ের নামে আমি জমি বন্দোবস্ত গ্রহণ করে ওই জমি মহেশপুরের শ্যামনগরের রমজান আলীর কাছে ৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি। অথচ সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্ত গ্রহণ করা জমি কারো কাছে হস্তান্তরযোগ্য নয় বলে মহেশপুর এসিল্যান্ড অফিস থেকে বলা হয়েছে। এলাকাবাসী বন্দোবস্ত বাতিলপূর্বক সরকারি খাস জমি পুরনায় উদ্ধারের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj