আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৫৬ বার

আমদানি শুল্ক কমলেও যশোরে চালের বাজার চড়া : সবজির দাম নিম্নমুখি

মিনা বিশ্বাস : আমদানি শুল্ক কমলেও যশোরে চালের বাজার চড়া : সবজির দাম নিম্নমুখিদুই দফায় চালের আমদানি শুল্ক কমানোর পরও যশোরের খুচরা বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে চালের দাম। বরং মিনিকেট ও নাজিরশাইল চালের দাম বেড়েছে সামান্য। খুচরা বিক্রেতার বলছেন, পত্রিকা ও টেলিভিশনে চালের আমদানি শুল্ক কমার সংবাদ প্রকাশিত হলেও পাইকারি বাজারে চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
তবে গেল এক মাস যাবত বাড়তে থাকা সবজির দাম কমতে শুরু করেছে। সে সঙ্গে কমেছে সব ধরনের মাংসের দাম। অন্যদিকে ঈদ পার হলেও কমেনি মশলার দাম।
ধানের দাম বৃদ্ধি ও চাল আমদানি কম হওয়াকে যশোরের বাজারে চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মনে করছেন চাল ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে উর্ধ্বমুখি সবজির বাজারে কমেছে সব ধরনের সবজির দাম। সপ্তাহের শুরুতে শনিবার যশোরের হাটখোলা রোড ও বড়বাজারে সব ধরনের চাল কেজিতে ১ টাকা থেকে ৩টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে স্বর্ণা প্রতি কেজি মান অনুযায়ী ৪২ টাকা থেকে ৪৪টাকায় বিক্রি হচ্ছে, কাজললতা ৫০টাকা থেকে ৫৪টাকা, বাসমতি ৬০টাকা, মিনিকেট ৫০টাকা থেকে ৫৪টাকা, নাজিরশাইল ৬৮টাকা। চাল ব্যবসায়ী জাকির হোসেন বলেন, ধানের দাম বাড়ার কারণে চালের দাম বাড়ছে। তাছাড়া চালের আমদানিও বর্তমানে কম। তাই বাজারে তার প্রভাব পড়ছে। তবে খুব বেশি বাড়েনি। আরেক চাল বিক্রেতা সাখাওয়াত হোসেনও ধানের মূল্য বৃদ্ধি ও আমদানি কম হওয়ায় চালের দাম বাড়ছে বলে জানান।
অন্যদিকে সবজি বাজারে আলু প্রতি কেজি ২০টাকা, পটল ২৫টাকা থেকে ৩০টাকা, বেগুন ৪৫টাকা ৫০টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০টাকা, চাল কুমড়া সাইজ অনুযায়ী ২৫টাকা থেকে ৩০টাকা, পেঁপে ২০টাকা, কচুর মুখি ৩০টাকা, কাঁচামরিচ ৮০টাকা, কাঁকরোল ৩০টাকা, উচ্ছে ৬০টাকা, মূলা ৪০টাকা। ক্রেতা শিরিন বলেন, সবজি ছাড়া আমার একটি দিনও চলেনা। তাই সবজির দাম কমায় খুব ভালো লাগছে। এছাড়া কমেছে সবরকম মাংসের দাম। ঈদের পরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১শ’২৫টাকায়, সোনালী ২শ’টাকা, দেশি মুরগি সাড়ে ৩শ’ টাকা, গরুর মাংস সাড়ে ৪শ’ টাকা থেকে ৫শ’ টাকা, খাসির মাংস ৬শ’টাকা কেজি। ক্রেতা রিপন বলেন, ঈদের আগে যে ব্রয়লার মুরগি কিনেছি ১শ’ ৬০ কিংবা ১শ’ ৭০টাকা কেজিতে আজ সেই ব্রয়লার মুরগি কিনেছি ১শ’ ২৫টাকায়। ঈদের সময় সব ধরনের মাংসের দামই বেশি ছিল। মাছের বাজারে কমেছে ইলিশের দাম। ইলিশ সাইজ অনুযায়ী ২শ’ ৫০টাকা থেকে ১হাজার টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। মাংস বিক্রেতা জিতু বলেন, সবরকম মাংসের দামই কমেছে। খাসির মাংস লোকে কম কেনে তাই এটি ৭শ’ টাকা থেকে ১শ’টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬শ’টাকায়। আর যেহেতু ঈদ পার হয়েছে তাই অন্যান্য মাংসের দামও কমেছে। তবে ঈদ পার হলেও কমেনি মশলার দাম। জিরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেচি ৪শ’টাকা কেজি দরে, এলাচ ১হাজার ৮শ’টাকা, দারুচিনি ২শ’৫০টাকা, লবঙ্গ ১হাজার ২শ’ টাকা কেজি। তবে পিঁয়াজ রসুনের দাম আগের মতোই রয়েছে। পিঁয়াজ প্রতি কেজি মান অনুযায়ী ৩০টাকা থেকে ৫০টাকা, রসুন ১শ’ টাকা থেকে ১শ’৪০টাকা, আদা ১শ’২০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেল রূপচাঁদা ৫লিটার ৫শ’ ২০টাকা, ২লিটার ২শ’ ১০টাকা, ফ্রেশ, পুষ্টি, তীর সহ অন্যান্য ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে ৫টাকা থেকে ১৫টাকা করে বেশি। অন্যদিকে খানিকটা কমেছে আটার দাম। বর্তমানে আটা বিক্রি হচ্ছে ২৬টাকা কেজিতে, বুটের ডাল ৩৪টাকা, ছোলার ডাল ৮০টাকা, মসুর ডাল মান অনুযায়ী ৬০টাকা থেকে ১শ’২০টাকা, মুগ ডাল ১শ’ ৩৬টাকা। চিনি ৫৫টাকা থেকে ৬০টাকা। লবন ৩৫টাকা।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj