আপডেট: সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৫৮ বার

পাঁচ কোটি টাকার লেনদেন

এস এম আরিফ : পাঁচ কোটি টাকার লেনদেনশনিবার জমে উঠেছিল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। ঈদ পরবর্তী চামড়ার দ্বিতীয় হাট ছিল এটি। ভোর থেকে শুরু হওয়া চামড়া বাজার জমজমাট হয়ে উঠে। উর্ধ্বমুখি প্রবণতায় যশোরের রাজারহাটে এদিন ৫ কোটি টাকার চামড়া বিকিকিনি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী মহল খুশি মনে ঘরে ফিরেছেন।
হাট ঘুরে দেখা গেছে, রাজারহাট চামড়ার হাটে পাবনা, নাটোর, নড়াইল, যশোর, ঢাকা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, খুলনা, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, বাগেরহাট, ফরিদপুর, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা চামড়া কেনা-বেচা করতে আসেন। দেশের নানা প্রান্তের দুই হাজারেরও বেশি ব্যবসায়ী চামড়া কেনার আশায় ঈদ পরবর্তী সবচেয়ে বড় হাটে জড়ো হয়েছিলেন। এদিন সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে চামড়া বিক্রি হয়। শনিবারের হাটে চামড়ার দাম বেশ ভালো পেয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। কোরবানি পরবর্তী এখানকার প্রথম হাট বসে মঙ্গলবার। কিন্তু বরাবরই বড় হাট হয় শনিবার। প্রথম হাটে গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৫৫-৬০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল তা ওঠে ৭০-৮০ টাকা পর্যন্ত। ছাগলের চামড়া ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে প্রতিটি ২’শ থেকে ৩শ’ টাকা দরে।
নড়াইলের খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী অরবিন্দু জানান, রাজারহাটে চামড়া বিক্রি করে তিনি ভালো দাম পেয়েছেন। গতকাল যারা হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন যশোরের ধলগ্রামের খুচরা চামড়া ব্যবসায়ী নির্মল দাস ও ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া থেকে আসা কৃষ্ণ কুমার দাস তাদেরই দলের। তারা জানান, চামড়া বিক্রি করতে গিয়ে তিনি আশানুরুপ দাম পেয়েছেন।
ঝিনাইদহের ব্যবসায়ী আব্বাস উদ্দিন জানান, রাজারহাট থেকে চামড়া কিনে নাটোরের আড়তে তিনি বিক্রি করেন। দাম বেশি হলেও তিনি লাভের আশায় চামড়া কিনেছেন। যশোরের হাসিবুল হক চৌধুরী বলেন, ‘৭০-৮০ টাকা বর্গফুটে ভালো মানের চামড়া কিনেছি। ভালো দামে এসব চামড়া ঢাকায় বিক্রি হবে।’
তবে রাজারহাট বাজারের ইজারাদার শেখ হাসানুজ্জামান হাসু অভিযোগ করেন, ঈদের দুদিন আগে খুলনার ফুলতলার সুপার ট্যানারি এ অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোতে আগাম টাকা দিয়ে ২৫ হাজারের বেশি চামড়া সংগ্রহ করায় আমাদের হাটে সরবরাহ কমে গেছে। এভাবে ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এভাবে চললে হাট ইজারা নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে।
কিন্তু মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এখানকার ব্যবসায়ীদের কাছে চামড়া দিয়ে দাম ঠিকমতো না পাবার কারণেই সরাসরি ট্যানারিতে চামড়া সরবরাহ করছে,Ñ এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, দু-একজন অসাধু ব্যবসায়ী এমনটা করায় আমাদের সামগ্রিক ব্যবসায়ে প্রভাব পড়েছে।
রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোমিনুল মজিদ পলাশ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীরা মাদ্রাসার টাকা ঠিকমতো দেয় না একথা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। ট্যানারি মালিকরা আমাদের হাট থেকে চামড়া কিনলে আমরা বাঁচতাম।
তবে হাটে জেলার বাইরে থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কাঙ্খিত দাম প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর সিন্ডিকেটের আধিপত্যের কারণে জেলার বাইরে থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরাও এই বাজারে ঠিকমতো চামড়া কিনতে পারছেন না। হাটে আসা একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, রাজারহাটের পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়া কিনছে। তাদের সঙ্গে আঁতাত ছাড়া বাইরের জেলার কোনো পাইকারি ব্যবসায়ী চামড়া কেনার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে, ওই সিন্ডিকেট এক প্রকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চামড়া কিনছে।
রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল জানান, বাজার চাঙ্গা থাকায় ব্যবসায়ীরা চামড়ার ভালো দাম পেয়েছেন। দুপুরের মধ্যেই বাজারের সব চামড়া বিক্রি হয়ে গেছে। গতকাল হাটে ওঠা ২০ হাজার গরুর চামড়া এবং প্রায় একই সংখ্যক ছাগলের চামড়ার সবটাই বিক্রি হয়ে যায়। এতে লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকা। তিনি সিন্ডিকেটের বিষয়ে বলেন, অভিযোগটি সত্য নয়। সবাই যে যার মতো হাটে কেনা বেচা করছে। প্রশাসনের কড়া নজরদারি থাকায় চামড়া পাচারের কোনো আশংকা নেই বলে জানালেন তিনি।
এ ব্যাপারে যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, রাজারহাটের চামড়া পাচার ঠেকাতে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা দিতে মোকামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী থানাগুলোকে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে কোনোভাবেই চামড়া পাচার না হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, চামড়া পাচার ঠেকাতে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা কড়া নজরদারি রাখছে।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj