আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১২৫ বার

যশোর জিমনেসিয়ামে পিনপতন নিরবতায় চলেছে যোগ অনুশীলন

যশোর জিমনেসিয়ামে পিনপতন নিরবতায় চলেছে যোগ অনুশীলনশনিবার সকাল সাড়ে ১০টা, যশোর জিমনেসিয়ামের বাইরে উৎসুক ক্রীড়া চর্চাকারীদের ভিড়। ভিতরে তখন পিনপতন নিরবতার সাথে চলছে যোগ অনুশীলন। বিভিন্ন বয়সী শতাধিক মানুষ পরম আগ্রহে অনুসরণ করছেন যোগ প্রদর্শকের বাণী। এ এক ভিন্ন আয়োজন। এক কথায় পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার সংযোগের ব্যতিক্রম উৎসব। যে আয়োজন করেছিল যশোরের পতঞ্জলী যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এবারই সর্বপ্রথম এ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে যশোরে উদযাপিত হয়েছে যোগ দিবস।
সকাল সাড়ে ৯ টায় এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান। এ সময় অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের উপাধ্যক্ষ আত্মবিভানন্দ মহারাজ, পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিপংকর দাস রতন, সরকারি সিটি কলেজের শিক্ষক অনুপ কুমার প্রমুখ। উদ্বোধনী আলোচনা পর্বে অতিথিবৃন্দ বলেন, আমরা দেখি প্রত্যেকেই স্বয়ংসম্পূর্ন এক স্বতন্ত্র সত্ত্বা। সংসারের সংগে আমাদের যোগ রয়েছে বস্তু ও বিশ্বের সঙ্গেও যোগ রয়েছে, কিন্তু যাকে বলা হয় মূল সত্ত্বা তার সাথেই কোন যোগ নেই। শুধু বস্তুযোগ নিয়ে জীবন কাটালে জীবন হয় গতানুগতিক, অর্থহীন। মন চায়, গতানুগতিকতার উর্ধ্বে বৃহত্তর চেতনা লাভ করতে। সংসার, অর্থ ও বস্তু সম্পদের সাথে যোগ প্রকৃত যোগ নয়। প্রকৃত যোগ হচ্ছে সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে মিলন। যে মিলন আত্মাকে উপলব্ধিকরে দেহ ও আত্মাকে একাকার করা। এটি এমন একটি অনুশীলন যার দ্বারা ব্যক্তি সুষম উপায়ে নিজের আত্মশক্তির বিকাশ করতে সক্ষম হয়। আত্মজ্ঞান লাভের এটি অন্যতম মাধ্যম।
এ আয়োজন নিয়ে পতঞ্জলী যোগ গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক মানিক রক্ষিত বলেন, বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় হিংসা, হানাহানি আর অবক্ষয় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে যা পুনরুদ্ধার করতে পারে যোগ। এটি এমন একটি মাধ্যম যা দেহ ও মনকে সুস্থ রাখে। অনেকের শুভ চিন্তা আর সহযোগিতায় এ আয়োজন করতে পেরে ভালো লাগছে। এর মাধ্যমে যশোরের মানুষ নতুন করে জীবনে চলার পাথেয় খুজে পাবে। আগামীতে আরো বড় পরিসরে এ আয়োজনের চিন্তা আছে। গ্রামের কাগজ এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল। আগামীতেও গ্রামের কাগজ ও অন্যান্য সহায়ক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা পাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য যোগ বা মেডিটেশনের বহুমুখী মনোদৈহিক উপকারিতা বিবেচনা করে ২০১৫ সালে জাতিসংঘের ৬৯তম সাধারণ অধিবেশনে ২১ জুনকে ‘বিশ্ব যোগ দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj