আপডেট: জুলাই ৩০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৩৮ বার

অনিশ্চিত খুলনা-কলকাতা সোনার তরী এক্সপ্রেস

অনিশ্চিত খুলনা-কলকাতা সোনার তরী এক্সপ্রেসনাম রাখা হয়েছিল, ‘সোনার তরী’ এক্সপ্রেস। অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় পর কলকাতার সঙ্গে খুলনার রেল যোগাযোগের সব প্রস্তুতিও চূড়ান্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নতুন ওই ট্রেনটির চলাচল শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের রেল বোর্ড নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমতি দেয়নি বলে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির একাধিক গণমাধ্যম। রেল সূত্রের খবর, নিরাপত্তার কারণেই মেলেনি সবুজসঙ্কেত।
সে কারণেই আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়ল কলকাতা-খুলনা যাত্রীবাহীট্রেন চলাচল।
প্রতিবেদনে ভারতের রেল বোর্ডের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় দেখা গেছে অতিরিক্ত ভিড় হয়ে যায়। তা নিয়ন্ত্রণ করার মতো ব্যবস্থা ছিল না। ফলে নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। নিরাপত্তার অভাব পূরণ না করে ট্রেন চালানোর অনুমতি দেবে না বোর্ড। এছাড়াও, পরিকাঠামোর সামান্য ত্রুটি এখনও রয়ে গিয়েছে।
শুধু যাত্রীবাহী ট্রেনই নয়। কলকাতা থেকে খুলনা পর্যন্ত নিয়মিত কন্টেনার সার্ভিস (মালগাড়ি) চালানোর যে পরিকল্পনা হয়েছে, আপাতত সেটিরও অনুমতি আসেনি।
ভারতের পেট্রাপোল এবং বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে এক সময় যাত্রী ট্রেন চলাচল করত। কলকাতা থেকে এই লাইন দিয়েই ছুটত উত্তরবঙ্গ ও
অনিশ্চিত খুলনা-কলকাতা সোনার তরী এক্সপ্রেসঅসমমুখী ট্রেনগুলিও। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই লাইনে একটি সেনাদের ট্রেন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ায় তার পরে আর ট্রেন চলেনি। পরে দু’দেশের মধ্যে ওই লাইনটিও ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কিন্তু মানুষের দীর্ঘদিনের চাহিদার কথা মনে রেখে ২০০১ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে দু’দেশের রেল মন্ত্রক আলোচনার পরে পেট্রাপোল ও বেনাপোলের লাইনটি ফের সংযুক্ত করে।
গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরে ট্রেন চলাচলের বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়। ঠিক হয়, এ বছরেই ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এরপর গত ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময়ে ওই রুটে এক দফা পরীক্ষামূলক ট্রেনযাত্রাও করে। তারপরেই ঠিক হয় এ বছর আগস্ট থেকে ওই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করবে নতুন ওই ট্রেনটি।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj