আপডেট: জুলাই ২৬, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১০৮ বার

বাল্য বিয়ের কারণে প্রাণ গেলো সপ্তম শ্রেণির মুন্নির

আজিজুল হক, : বেনাপোল (যশোর): সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী  মুন্নি (১৪)। লেখা-পড়ায় ভালো থাকলেও তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বাবা-মা জোর করে ৪ মাস আগে বিয়ে দেয় পাশের ইউনিয়ন বাহাদুরপুরের ঘিবা গ্রামে।
 
সোমবার (২৪ জুলাই) জামাই আসে শ্বশুর বাড়ি বউ নিতে। কিন্তু মুন্নি তার সঙ্গে যেতে নারাজ। কিন্তু বাবা-মা জোর করে জামাইয়ের সঙ্গে তাকে পাঠানোর চেষ্টা করে। এতে মেয়ে পালিয়ে নানার বাড়ি আশ্রয় নেই। সেখানে ও গিয়ে মা তাকে  জোর করে বাড়ি আনার চেষ্টা করলে সে গলায় ওড়না পেচিয়ে  আত্মহত্যা করে।

মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) রাত ৮টায় পোর্টথানা পুলিশ মুন্নির মরদেহ নানা আলমের বাড়ি বারোপোতার কেষ্টপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করে।

মুন্নি বেনাপোল পোর্টথানার পুটখালী ইউনিয়নের বারোপোতা গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে।

বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম শহীদ বিষয়টা বাংলানিউজকে নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে মুন্নির মরদেহ তারা উদ্ধার করে। তবে তার শরীরে  বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন থাকায় সন্দেহ হচ্ছে এটা আত্মহত্যা না হত্যা। এ কারনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় কোনো ভাবে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। প্রশাসন সতর্ক থাকলে কোনো না কোনো কৌশল অবলম্বন করে ছেলে,মেয়েদের অবিভাবকরা বাল্য বিয়ে দিচ্ছেন। প্রশাসন বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে  ছেলে-মেয়েদের অবিভাবকদের সাজা দিয়ে বিয়ে কিছু কিছু বিয়ে বন্ধ করলে ও মূল অপরাধী যারা বয়স বাড়িয়ে  জন্ম সনদ দিচ্ছে সেই জন্য প্রতিনিধিরা থাকছে ধরা-ছোয়ার বাইরে।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুস ছালাম জানান, তিনি যোগদানের পর থেকে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সব চেয়ে বেশি কাজ করছেন। এবিষয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক ও পেয়েছেন। বাল্য বিয়েতে সহযোগীতাকারী যে কোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য দিতে পারলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানান তিনি।

তথ্যসূত্রঃ Bangla News 24.com