আপডেট: জুলাই ২৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৯৫ বার

মহিলা আ’লীগ নেত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে

মহিলা আ’লীগ নেত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছেযশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে শিশু চুরির দায় এড়াতে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মমতাজ পারভীন নামে এক সমাজকর্মী ও জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। শনিবার প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি করেন মমতাজ পারভীনের মেয়ে সাবরিন সুলতানা প্রত্যাশা।
লিখিত বক্তব্যে প্রত্যাশা বলেন, আমার বাবা সাখাওয়াৎ হোসেন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত ৮ জুলাই তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন চিকিৎসকের পরামর্শে মা মমতাজ পারভীন আল্ট্রাসনো করাতে বাবাকে নিয়ে হাসপাতালের নিচতলায় আসেন। আল্ট্রাসনো রুমের সামনে থেকে বাইরে চিৎকার শুনে তিনি বেরিয়ে এসে জানতে পারেন একটি শিশু চুরি হয়েছে। এসময় তিনি ভুক্তভোগীদের আশেপাশে খোঁজখবর নেয়ার পরামর্শ দেন। এসময় অপরিচিত এক ব্যক্তি নিজেকে দুদক কর্মকর্তা দাবি করে মাকে শিশু চুরির সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করেন। অপরিচিত ওই ব্যক্তি পরে তাকে পুলিশের কাছে দিয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমার মা ওই লেবার ওয়ার্ডে একবারও যাননি।’
সম্মেলনে প্রত্যাশা আরও উল্লেখ করেন, বোরকা পরা এক মহিলা শিশুটিকে চুরি করে। আমার মা মমতাজ পারভীন ওই দিন হাসপাতালে বোরকা পরে যাননি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার মা ‘শুকতারা নারী কল্যাণ সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক। এই সংস্থায় তিনি ২০ বছর ধরে সমাজের নারী ও শিশুদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। একই সাথে তিনি ২৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত। বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মমতাজ পারভীনের বড় ছেলে সপরিবারে ওমান প্রবাসী। একমাত্র মেয়ে সাবরিন সুলতানা প্রত্যাশা রাজধানীতে সংস্থার কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। মমতাজের ছোট ছেলে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছেন। স্বামী এএমএম সাখাওয়াৎ হোসেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা।’ সংবাদ সম্মেলন থেকে শিশু চুরির সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করা এবং মমতাজ পারভীনের মুক্তির দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাই যশোর জেনারেল হাসপাতাল থেকে একদিন বয়সী একটি শিশু চুরি হয়। ওই ঘটনার পর স্থানীয় জনতা সন্দেহবশত: মমতাজ পারভীনকে পুলিশে দেয়। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
অন্যদিকে, তোলপাড় সৃষ্টি করা ঘটনাটি তদন্তে একাধিক টিম কাজ শুরু করলেও আজ পর্যন্ত শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তও করা যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ পারভীনের ছেলে এম এম মেহেদী হাসান, ভাই মতিয়ার রহমান ও এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj