আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৮৮ বার

মহম্মদপুরে সোনালী আঁশের সুদিন

এস আর এ হান্নান : মহম্মদপুরে সোনালী আঁশের সুদিনমাগুরার মহম্মদপুরে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক এলাকায় পাট কাটা শুরুও করেছেন কৃষক। এছাড়া আমন ধান রোপণের জন্য অনেক এলাকার কৃষকরা আগেভাগেই ক্ষেতের পাট কেটে ফেলেছেন। ফলে বাজারে নতুন পাট উঠতেও শুরু করেছে। স্থানীয় হাট-বাজারে প্রতিমণ শ্রেণিভেদে ১৬৫০ টাকা থেকে ২০৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অনেক বছর পর ফের ফিরেছে সোনালী আঁশের সেই সুদিন। এ অবস্থায় সোনালী আঁশে, কৃষক হাসে। এ আঁশের আশানুরূপ দাম পেয়ে কৃষকের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে, তেমনি আনন্দ বাইছে কৃষক পরিবারেও।
মৌসুমের শুরুতে ভয়াবহ খরার কবলে পড়লেও পরবর্তী সময়ে অনুকূল আবহাওয়া বিরাজ করায় একই সাথে সার-সেচ এবং কীটনাশক প্রয়োগ ও নিবিড় যতœ আর পরিচর্যায় সোনালী আঁশ উৎপাদনে দেখা দেয় সোনালী সম্ভাবনা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১০ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিলো ১০ হাজার ৭০০ হেক্টরে।
উপজেলার কৃষক চলতি বছর দেশি এবং ভারতীয় বিভিন্ন জাতের পাট আবাদ করেন। তবে দেশি জাতের তুলনায় ভারতীয় জাতের পাট চাষ হয়েছে অনেক বেশি। এ বছর দেশি ও ভারতীয় বিভিন্ন জাতের পাট বীজের পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল ‘জেআরও’ এবং ‘ও৯৮৯৭’ তোষা জাতের পাট চাষও হয়েছে ব্যাপক পরিমাণ জমিতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠে মাঠে দন্ডায়মান সবুজ পাটের মহাসমারোহ; সবুজের সেই হাতছানি কাটার ধুমও পড়ে গেছে। আমন রোপণের জন্য অনেক এলাকার কৃষক বেশ আগেই পাট কেটে ফেলেছেন। এছাড়া উপজেলা সদরের ঘোপ বাওড়ে মধুমতি নদীর পানি প্রবেশ করায় কৃষকরা কোমর বেঁধে পাট কাটছেন। অনেক কৃষক শ্রমিক নিয়োগ করে তড়িৎ ক্ষেতের পাট কর্তনের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। এরই মধ্যে হাট-বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। ‘সোনালী আঁশ’ খ্যাত পাটের আশানুরুপ দাম পাওয়ায় কৃষকের মুখেও ফুটে উঠছে হাসির ঝিলিক।
উপজেলার রাহাতপুর গ্রামের কৃষক সোলাইমান মোল্যা বলেন, মৌসুমের শুরুতে পাটের অবস্থা খুবই খারাপ ছিলো। পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাটের বর্তমান বাজার মূল্য বহাল থাকলে কৃষক আরো বেশি পাট চাষ করবেন বলেও তার ধারণা।
উপজেলা কৃষি অফিসার আতিকুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর পাটের দামও আশানুরূপ। পাটের দরপতন না ঘটলে আগামী মৌসুমে উপজেলায় ব্যাপকহারে পাট চাষের সম্ভাবনার কথাও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
অপরদিকে পাটের দর নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সন্তুষ্টি প্রকাশ ঘটলেও অনেক এলাকার চাষিরা পাট জাগ (পঁচানো) দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। উপজেলার উঁচু এলাকার কৃষক পানির অভাবে পাট পঁচাতে মহাভোগান্তিতে পড়েছেন। অনেকেই রাস্তার দুইপাশে পাট ফেলে রেখেছেন। নিরুপায় হয়ে অনেক এলাকার কৃষক-খানাখন্দক, পুকুর, ডোবা ও বৃষ্টির পানিতে ভরাট হওয়া গর্তেও পাট পচাতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পাটের আঁশের রঙ খারাপ হবে। সঙ্গত: কারণে এসব পাটের দামও কম পাবেন কৃষকরা।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj