আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৮৫ বার

চৌগাছার কাঁঠাল যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ॥ ভাল দামে খুশি চাষি

অমেদুল ইসলাম, চৌগাছা॥ যশোরের চৌগাছায় চলতি মৌসুমে কাঁঠালের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর চৌগাছার কাঁঠাল খুলনা, ভোলা, ঝালুকাটি, বরিশাল ও বাগেরহাটসহ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্র জানিয়েছে কাঁঠাল চাষে কৃষককে আরও উদ্বুদ্ধ করতে নিরলস ভাবে কাজ করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, যশোরের চৌগাছা উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামই কাঁঠাল চাষের জন্য অত্যান্ত উপযোগী। এক সময় এ জনপদের মানুষ পতিত জমিতে শুধু পারিবারিক চাহিদা মেটানোর জন্য কাঁঠাল গাছ লাগাতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বাজারে জাতীয় এই ফলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তা বানিজ্যিক ভাবে চাষ শুরু হয়েছে। চৌগাছার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চালে কাঁঠাল ব্যাপক ভাবে উৎপাদিত হওয়ায় প্রত্যেক মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ক্রেতারা চলে আসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সোমবার সরেজমিন চৌগাছার মেইন কাঁঠাল হাটে যেয়ে দেখা যায় কাঁঠাল বেচাকেনায় ব্যস্ত ক্রেতা বিক্রেতা। এ সময় কথা হয় কাঁঠাল বিক্রেতা উপজেলার পাঁচনামনা গ্রামের তাইজেল হোসেনের সাথে। তিনি জানান, এবছর আবহাওয়া ভাল থাকায় কাঁঠালের ফলন মোটামুটি ভাল হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন লাভ নেই। কারন কাঁঠাল যখন উঠতে শুরু করে ঠিক সেসময় বাজার দর ছিল একেবারেই কম। কিন্তু এখন শেষ সময়ে এসে কাঁঠাল কমে গেছে কিন্তু বাজার দর বেড়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমের শুরুতে ১শ কাঁঠল সর্বোচ্চ ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা দরে। বছরের শুরুতে প্রায় অর্ধেকরও কম দামে কাঁঠাল বিক্রি করে অনেক চাষি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছে। তবে এখন যারা কাঁঠাল বিক্রি করছেন তারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার হাজরাখানা, পেটভরা, নারায়নপুর, আন্দারকোটা, চাঁদপাড়া. বেলেমাঠ, কংশারীপুর, বড়খাঁনপুর, গুয়াতলী, কাবিলপুর, আন্দুলিয়া, মির্জাপুর, জগদীশপুর, স্বর্পরাজপুর, কান্দি আড়পাড়া, মাড়–য়া, দক্ষিনসাগর, পাতিবিলা, মুক্তদাহ, নিয়ামতপুর, হয়াতপুর, দেবীপুরসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চালে ব্যাপক ভাবে কাঁঠালের চাষ হয়েছে। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যেমন বরিশাল, পটুয়াখালি, খেদাপাড়া, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, নোয়াখালী, পিরোজপুর, ভোলা, ঝালকাঠি জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা চৌগাছায় ছুঁটে আসেন। দেশের এ সব জেলা থেকে আসা ব্যাপারীরা বলেন, অন্যান্য বাজারের তুলনায় চৌগাছায় ব্যবসা করে সকলেই বেশ লাভবান হয়। তাই মৌসুম শুরু হলে সকলেরই এই হাটের দিকে ছঁটে আসেন। ভোলা জেলা থেকে কাঁঠাল ক্রয় করতে আসা ব্যাপারী সাদেক হোসেন বলেন, চৌগাছার উৎপাদিত কাঁঠাল অন্য যে কোন এলাকার থেকে বেশ সুস্বাদু, তাই এখানকার কাঠালের চাহিদা বাজারে বরাবরই একটু বেশি থাকে। আমাদের লাভ কিছুটা কম হলেও ওই অঞ্চলে এখানকার কাঁঠালের চাহিদা থাকায় আমরা প্রতিবছর এখানে ছুঁটে আসি। একই কথা বলেন খুলনার ব্যাপারী আব্দুল মালেক, রুপসার ওসমান গনি ও ঝালুকাঠি জেলার মহাসিন আলী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম শাহাবুদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় কাঁঠালের ভাল ফলন হয়েছে। মৌসুমের প্রথম দিকে পবিত্র রমজান মাস থাকায় বাজারদর কিছুটা খারাপ হলেও বর্তমানে তা অনেকাংশে পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে কাঁঠালের দাম ভাল হওয়ায় সকলেই বেশ খুশি। কাঁঠাল চাষ আরও বৃদ্ধির লক্ষে উপজেলা কৃষি অফিস নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha