আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭১ বার

শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল’র ১৭তম হত্যা বার্ষিকী পালিত

১৭ বছরেও এ হত্যার বিচার হয়নি এটা কল্পনা করতে পারি না : পীযূষ ভট্টাচার্য্যআওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য পীযূষ কান্তি ভট্টাচার্য্য বলেছেন, সন্ত্রাসী ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কলম ধরায় সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলকে হত্যা করা হয়েছে। ১৭ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু এ হত্যার বিচার হয়নি। এটা কল্পনা করতে পারি না। তিনি বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) উদ্যোগে শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের ১৭তম হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে রোববার দুপুরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএফইউজে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি মনোতোষ বসু, জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি হারুণ অর রশীদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তোতা, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌল্লা, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক এইচআর তুহিন, স্পন্দনের বার্তা সম্পাদক শিকদার খালিদ, জেইউজের নেতা ওহাবুজ্জামান ঝন্টু, আমিনুর রহমান মামুন, সাজ্জাদ গণি খান রিমন, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু ও যশোর কলেজের উপাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জেইউজের সভাপতি সাজেদ রহমান। সঞ্চালনা করেন জেইউজের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান মিলন।
১৭ বছরেও এ হত্যার বিচার হয়নি এটা কল্পনা করতে পারি না : পীযূষ ভট্টাচার্য্য
বক্তারা বলেন, সমাজের নানা অন্যায় অনাচারের বিরুদ্ধে শামসুর রহমান শক্তহাতে কলম ধারায় তাকে জীবন দিতে হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে আইনি মারপ্যাঁচ দুর করে এ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার চার্জশীট বাতিল করে পুনঃতদন্ত দাবি করেন। একইসাথে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের বিচারের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দাবি জানান।
এদিকে এ হত্যা মামলার পুনঃ তদন্তসহ বিচার কার্যক্রম তরান্বিত করার দাবি জানিয়ে যশোরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহীদ সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবলের ১৭তম হত্যাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ২০০০ সালের ১৬ জুলাই এর এ হত্যার দিনকে স্মরণ করে রোববার কর্মসূচির মধ্যে ছিল সকাল সাড়ে
১৭ বছরেও এ হত্যার বিচার হয়নি এটা কল্পনা করতে পারি না : পীযূষ ভট্টাচার্য্য৯টায় প্রেসক্লাব যশোরে উপস্থিতি ও কালো ব্যাজ ধারণ, সকাল ১০টায় শোক পদযাত্রা ও শহীদের কবর জিয়ারত, সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, নৃশংস এ হত্যামামলার পুনঃ তদন্ত ও বিচার তরান্বিত করার দাবিতে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান এবং সাড়ে ১১টায় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে স্মরণসভা ও দোয়া অনুষ্ঠান।
প্রেসকাব যশোর, যশোর সংবাদপত্র পরিষদ, বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন (জেইউজে), সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নাালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন যশোর জেলা শাখা, দৈনিক গ্রামের কাগজ, দৈনিক সমাজের কথা, দৈনিক স্পন্দন বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালন করে।
সকালে প্রেসক্লাব যশোর চত্ত্বরে কালোব্যাচ ধারণ শেষে সাংবাদিকরা শহরের কারবালা কবরস্থানের সমাধিতে পু®পস্তবক অর্পণ করে শামছুর রহমান কেবলের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করেন।
এরপর জেইউজে’র পক্ষ থেকে বেলা ১১টায় নৃশংস এ হত্যাকান্ডের পুনঃ তদন্ত ও বিচার তরান্বিত করার দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মামুন উজ্জামান। প্রেসক্লাব যশোর মিলনাতয়নে প্রেসক্লাব যশোরের উদ্যোগে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এসএম তৌহিদুর রহমান।
স্মৃতিচারণ ও হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান তোতা, একরাম-উদ-দৌল্লা, ফকির শওকত, গ্রামের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মবিনুল ইসলম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সহসভাপতি মনোতোষ বসু, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি নূর ইসলাম, যশোর ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
১৭ বছরেও এ হত্যার বিচার হয়নি এটা কল্পনা করতে পারি না : পীযূষ ভট্টাচার্য্য
উল্লেখ্য, প্রথিতযশা সাংবাদিক শামছুর রহমান কেবল ২০০০ সালের ১৬ জুলাই জনকন্ঠ যশোর অফিসে কর্মরত অবস্থায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। নির্মম এই হত্যাকান্ডের ১৭ বছর পার হলেও অদ্যাবধি এর বিচার সম্পন্ন হয়নি; বরং গত ১২ বছর ধরে আইনের মারপ্যাঁচে আটকে রয়েছে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj