আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৮৫ বার

বদলে যাচ্ছে ৩৬০ দুয়ারী

প্রণব দাস : বদলে যাচ্ছে ৩৬০ দুয়ারীবদলে যাচ্ছে অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা যশোরের ঐতিহ্য ও ইতিহাস বহনকারী ৩৬০ দুয়ারী কালেক্টরেট ভবন। ফিরে পাচ্ছে তার নান্দনিক সৌন্দর্য্য। কারণ যশোর জেলা প্রশাসন নিয়েছে মহতী উদ্যোগ। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কালেক্টরেট ভবন ঘিরে কালেক্টরেট চত্বরের সৌন্দর্য্য বৃদ্ধিতে শুরু হয়েছে কাজ।
অতিরিক্তি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কেএম মামুন উজ্জামান বলেন, ব্রিটিশ ভারতের প্রথম জেলা যশোর। সমৃদ্ধ এ জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য। আর এ ঐতিহ্যের অংশ কালেক্টরেট ভবন। তাই কালেক্টরেট এলাকা তার স্বমহিমায় ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই কালেক্টরেট চত্বরের নান্দনিক সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনা হবে। তারই অংশ হিসেবে প্রাথমিক জরিপ কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ভবনের প্রবেশদ্বার নির্ধারণ, কালেক্টরেট চত্বরে ‘ট্রি ম্যানেজমেন্ট’ অর্থাৎ পরিকল্পিত গাছ লাগানো, পুকুরের সৌন্দর্যবৃদ্ধি, পার্ক পুনঃবিন্যাশ করা হবে।
তিনি আরো বলেন, মামলার দীর্ঘসূত্রীতার কারণে কালেক্টরেট চত্বরে যে সব পুরানো গাড়ি পড়ে আছে তা অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
এবিষয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য সুকুমার দাস জানান, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই ভবনেই প্রথম উড়েছিল বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা। এই ভবনেই রয়েছে জেলার প্রধান কোষাগার (ট্রেজারি)। রয়েছে শত বছরের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এই ভবন আর সম্পদ রক্ষায় স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে সেখানে একটি পুলিশ ব্যারাক নির্মাণ করা হয়। ভবনের উত্তর পাশে নিয়াজ পার্কসহ বৃক্ষ রাজিতে সাজানো ছায়া সুনিবিড় পার্ক। সকাল সাঝে প্রশান্তির পরশ নিতে নবীন প্রবীণেরা মিলিত হন এ এলাকায়। তবে বর্তমানে এ এলাকার সৌন্দর্য্য অনেকাংশে ম্লান হয়ে গেছে। প্রবেশ পথে ময়লা আবর্জনার স্তুপ, অবহেলায় পড়ে থাকা মামলায় জব্দ করা বিভিন্ন মামলার আলামত পুরোন গাড়ি। যা দেখে সকলেরই মনে হয় কালেক্টরেট এলাকা যেন আবর্জনা আর পুরনো গাড়ির ভাগাড়। এ থেকে উত্তরণ জরুরী। তাই জেলা প্রশাসনের কালেক্টরেট এলাকাকে নান্দনিক করার উদ্যোগ সফল হবে এটাই আশা। বদলে যাচ্ছে ৩৬০ দুয়ারী
উল্লেখ্য, অবিভক্ত বাংলায় যশোরকে জেলা ঘোষণা করা হয় ১৭৮১ সালে। এর অধীনে ছিল খুলনা, ফরিদপুর, পাবনা, নদীয়া ও চব্বিশ পরগনা জেলার বেশিরভাগ এলাকা। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি রাজস্ব সংগ্রহ ও ঔপনিবেশিক শাসন বজায় রাখার জন্য প্রশাসনিক সংস্কারের দিকে গুরুত্ব দেয়। ১৭৮৬ সালের ৪ঠা এপ্রিল মি. টিলম্যান হেঙ্কেল যশোর কালেক্টরেট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন। তৎকালীন সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা তার প্রস্তাবে সাড়া দিলে ১৭৮৬ সালে যশোর কালেক্টরেটের যাত্রা শুরু হয়। মি. টিলম্যানকে যশোর জেলার প্রথম কালেক্টর নিযুক্ত করা হয়। মুড়লীর একটি পুরাতন কুঠিবাড়িতে তিনি তার কার্যক্রম শুরু করেন। ১৭৯৩ সালে মুড়লী থেকে কসবায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় সরিয়ে আনা হয়। ১৮০১ সালে যশোর জেলার প্রথম কালেক্টরেট ভবন বর্তমানের স্থানে গড়ে তোলা হয়। ১৮৮৫ সালে বর্তমান ভবনটির একতলা নির্মাণ করা হয়। ৩৬০ দরজার এই ভবন ছিল তৎকালীন বাংলার দীর্ঘতম ভবন।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj