আপডেট: জুন ২১, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১২৪ বার

শালিখায় ১২ বিদ্যালয়ের দফতরিদের সাদা কাগজে স্বাক্ষর

আবু বাসার আখন্দ, মাগুরা: স্কুলে বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার কথা বলে মাগুরার শালিখা উপজেলার ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরির কাছ থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ভাইয়ের ভয় দেখিয়ে নিউটন বিশ্বাস নামে এক দফতরিকে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। মাগুরার জেলা শিক্ষা অফিস, স্থানীয় সরকারি বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এ উপজেলার ১৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দফতরি-কাম প্রহরী পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ২০১৫ সালে সম্পন্ন হলেও বিভাগীয় জটিলতার কারণে মাগুরাসহ সারা দেশে মোট ১ হাজার ৩২৭ জন কর্মচারী দুই বছর ধরে বিনা বেতনে কর্মরত রয়েছেন। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত ওইসব কর্মচারীর বেতন-ভাতা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি জুন মাসের ৮ তারিখে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অর্থ রাজস্ব শাখার সহকারী পরিচালক নবুয়াত হোসেন স্বাক্ষরিত বাজেট বরাদ্দ সংক্রান্ত পত্রটি ইতিমধ্যে মাগুরা জেলা শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট অন্য দফতরে পৌঁছেছে। যেখানে শালিখা উপজেলার ১৩টি বিদ্যালয়ে কর্মরত দফতরির বেতন-ভাতা হিসেবে ১৮ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৩ টাকা বরাদ্দের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। বিদ্যালয়ের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ ছাড় করা হলেও স্থানীয় কতিপয় অসাধু সরকারি কর্মকর্তার যোগসাজশ এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের অপতৎপরতায় বেশ বেকায়দায় পড়েছেন শালিখার ১৩টি বিদ্যালয়ের ওইসব কর্মচারী। তাদের অভিযোগ, শালিখা উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুণ কুমার ঢালি অফিস আদেশটি গোপন করে স্থানীয় বেতন বঞ্চিত ১৩ জন দফতরির কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা করে আদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্থানীয় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত মাগুরার আড়পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি তফসির হোসেন মোল্লা সোমবার বেতনবঞ্চিত ১৩ জনকে শালিখা উপজেলা পরিষদ মঞ্চের সামনে জড়ো করেন। সেখানে তিনি প্রত্যেকের বেতন-ভাতা চালু করার জন্য ২ লাখ টাকা করে দাবি করেন। যে টাকা নিয়োগকালীন শালিখায় উপজেলা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত অফিসার নাজমুন নাহার, শালিখার বর্তমান শিক্ষা অফিসার অরুণ কুমার ঢালিসহ ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন কর্মকর্তাদের দিতে হবে। ওই টাকা বেতন-ভাতা উত্তোলনের সময় কেটে রাখা হবে এবং তার নিশ্চয়তা হিসেবে প্রত্যেককে ৩শ’ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দিতে নির্দেশ দেন তারা জানান। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপস্থিত গঙ্গারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছাবড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবরা বয়রা, সানি আড়পাড়া, কুপুরিয়া, দেলুয়াবাড়ি, হরিশপুর, কুমোরকোঠা, রামপুর, বরইচারা এবং বাউলিয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১১ জন দফতরি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশনা মেনে স্বাক্ষর করে দেন। কিন্তু দেশনোমুখ পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আলমগীর হোসেন এবং নরপতি বিদ্যালয়ের নিউটন বিশ্বাস স্বাক্ষর না করে সেখান থেকে সরে পড়েন। এ ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতা তফসির হোসেন মোল্লা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ভাই বিমল শিকদারের ভয় দেখিয়ে তাদের মধ্যে আলমগীর হোসেনকে সোমবার শালিখা উপজেলা সদরে তুলে এনে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে অপর দফতরি নিউটন স্বাক্ষর না করায় তাকে মোবাইল ফোনে হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। নিউটন বিশ্বাস বলেন, শালিখার ১২ জনই সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করলেও আমি করিনি। যে কারণে আওয়ামী লীগ নেতা তফসির মোল্লা মন্ত্রীর ভাইয়ের ভয় দেখিয়ে আমাকে গ্রামছাড়া করেছে।

এ বিষয়ে শালিখা উপজেলা শিক্ষা অফিসার অরুণ কুমার ঢালির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি সরকারি বেতন-ভাতা ছাড়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যাদের কাগজপত্র সঠিক আছে তারা ৩০ জুনের মধ্যেই বকেয়া সমুদয় বেতন-ভাতা পাবেন। তবে কোনো উৎকোচ আদায় কিংবা সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত আড়পাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি তফসির হোসেন মোল্লার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে ‘সবকিছুই ফাউকথা’ বলে উল্লেখ করেন।

তথ্যসূত্রঃ Jugantor