আপডেট: জুন ১৭, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৪৪ বার

যশোরে মহাসড়ক বেহাল

যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যশোর-ঝিনাইদহ, যশোর-নড়াইল, যশোর-বেনাপোল ও যশোর-খুলনা মহাসড়কে ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন চলাচল করছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে। পাঁচ মাস আগে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালি ব্রিজ ভেঙে পড়ায় দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই রুটের যানবাহনের ওভারলোড চলছে ঝিনাইদহ রুটে। যানজটে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। এবার ঈদে মহাসড়কগুলোতে আরও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। জানা যায়, যশোর অঞ্চলের চারটি মহাসড়কে খানাখন্দ ও যানজটে নাকাল হচ্ছে যাত্রীরা। যশোর-মাগুরা মহাসড়কের সীমাখালি ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঈদের আগে ব্রিজটি চালুর সম্ভাবনাও নেই। ফলে যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ ঈদে ঘরে ফিরতে চরম দুর্ভোগের শিকার হবে বলে মনে করছেন পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা। জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সেখানেও মহাসড়কের জনদুর্ভোগ এড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, এবারের ঈদে দুর্ভোগ কমাতে সার্বিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। মানুষ নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন খুলনা বিভাগীয় সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেন, যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। যশোর-খুলনা মহাসড়কের বকচর এলাকার রাস্তা বেহাল অবস্থা। যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেখানে সাময়িকভাবে মেরামত করলেও দুর্ভোগ কমছে না। যশোর-ঝিনাইদহ-মাগুরা মহাসড়কের অবস্থাও খারাপ। সেই সঙ্গে ওই রুটে যানবাহন চলাচলও বন্ধ রয়েছে। ওই রুটের সব যানবাহন যশোর-ঝিনাইদহ রুট হয়ে মাগুরায় যাচ্ছে। এতে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কে ব্যাপক চাপ পড়ছে। ওভারলোড হওয়ায় ওই রুটে প্রতিদিন যানজটে নাকাল হচ্ছে মানুষ। এভাবে ওভারলোড চললে রাস্তা আরও বিপজ্জনক হবে। ঈদে যাত্রীদের আরও সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হতে হবে। ওই রুটের যানজট কমাতে সীমাখালির ব্রিজটি দ্রুত চালু করা প্রয়োজন বলে জানান সংশ্লিরা। জানতে চাইলে দক্ষিণবঙ্গ বাস ট্রাক মালিক সমিতির আহ্বায়ক পবিত্র কাপুড়িয়া বলেন, যশোর অঞ্চলের মহাসড়কগুলোর বেহাল অবস্থা। যশোর থেকে ঝিনাইদহে যেতে আগে সময় লাগত ৫০ মিনিট। বর্তমানে সময় লাগছে ৩-৪ ঘণ্টা। গাড়ির চাপও বেড়েছে অনেক গুণ। যশোর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাংগীর আলম বলেন, যশোরে মহাসড়কে তেমন সমস্যা নেই। বর্ষাকালে সড়কের দুই জায়গায় গর্ত হতে পারে। সেটি মেরামতের কাজ চলছে। ঈদে মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে বলে আশাবাদী।

তথ্যসূত্রঃ Jugantor