আপডেট: জুন ৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৫৫ বার

খালেদা জিয়া চোখের অপারেশন করে দেশের উন্নয়ন দেখতে শুরু করেছেন

এম এ রহিম/আমিনুর রহমান, বেনাপোল থেকে॥ নৌ ও পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি বলেছেন, আল বদর ও দেশদ্রোহী রাজারকারদের দোসর খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনাকালে দেশের উন্নতি করতে পারেনি। দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন দেখছে বিশ্ববাসী। আর খালেদা জিয়া চোখের অপারেশন করে এসে দেশের উন্নয়ন দেখে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। শুক্রবার বিকালে বেনাপোল চেকপোস্ট প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল উদ্বোধন শেষে এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, দেশে আজ ৪ লাখ কোটি টাকা বাজেট হয়। ২০৪১ সালের আগেই উন্নতশীল দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। আর এজন্য দেশে ২৪টি স্থল ও নৌ বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন সচিব অশোক মাধব রায়, যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল হক, শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুস সালাম, যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন, উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজুল হক মঞ্জু, বেনাপোল স্থলবন্দরের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন মজুমদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নৌ ও পরিবহনমন্ত্রী বলেন, বেনাপাল স্থলবন্দরে যে পণ্যজট যানজট লেগে থাকে তা অতি তাড়াতাড়ি সমাধান হবে। ৩ টি ইয়ার্ডে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮ টি শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। বেনাপোল স্থল বন্দরকে অটোমেশান এবং বেনাপোল থেকে যশোর পর্যন্ত ফোর লেন রাস্তা তৈরি করা হবে। একাজ শেষে যানজট আর থাকবে না। বন্দরের নিরাপত্তার জন্য খুব দ্রুত বেনাপোল বন্দরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নেওয়া হবে। তিনি বেনাপোল পৌর মেয়রের প্রশংসা করে বলেন না দেখলে বুঝা যাবে না; এত অল্প সময়ের ভিতর একজন তরুণ নেতা কত বিচক্ষণ না হলে বেনাপোলের এত উন্নয়ন করতে পারে।
এর আগে শুক্রবার বিকালে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান বন্দরের  চেকপোস্ট এলাকায় নবনির্মিত আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল ভবনের অপারেশনাল কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে মন্ত্রী কাস্টম ইমিগ্রেশন এলাকা ঘুরে দেখেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ২৩ অগাস্ট নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান আরো একবার এই আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল এবং বাস টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করেছিলেন। বেনাপোল বন্দরের প্রকৌশলী আবুল খায়ের জানান, সাত কোটি ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫৯৮ টাকা ব্যয়ে তিনতলা আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১২ সালের ২২ এপ্রিলে নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। টার্মিনালটির নিচতলায় যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য কক্ষ ও টোল আদায়ের অফিস রয়েছে। দ্বিতীয় তলায় যাত্রীদের বিশ্রামাগার ও ক্যান্টিন, তৃতীয় তলায় ভিআইপি যাত্রীদের জন্য রেস্টহাউস রয়েছে। এছাড়া এ ভবনের বিপরীতে এক কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ৮৭ টাকা ব্যয়ে বন্দর বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালের ২২ মে। দুতলা এ বাস টার্মিনালের নিচতলায় রয়েছে বিভিন্ন পরিবহনের ১২টি টিকিট কাউন্টার, ৩০ হাজার বর্গফুটের পার্কিং এবং দ্বিতীয় তলায় রয়েছে যাত্রীদের বিশ্রামাগার ও দুটি দোকান।

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha