আপডেট: জুন ৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৫৫ বার

সিট কাপড় আর শিশুদের তৈরি পোশাকের দোকানে ভিড়

তুষার আহসান:  খুশির ঈদকে সামনে রেখে সাজপোশাকের আয়োজন চলছে। যশোর শহরের মার্কেটগুলোয় সিট কাপড়ের দোকানগুলোতে তোলা হয়েছে নতুন আইটেমের কাপড়। তৈরি পোশাকের শো-রুমে ডলের গায়ে পরানো হয়েছে নতুন নতুন জামা, প্যান্ট, টি-শার্ট, থ্রি-পিস, লেহেঙ্গা, শাড়ি, ফ্রক, টপ-জিন্স কিংবা প্লাজো। জামা কাপড়ের কোয়ালিটি ও মার্কেট ভেদে এ সবের রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন দাম। ক্রেতার রুচি ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই দোকানে তোলা হয়েছে পোশাক ও কাপড়। তবে অন্যান্য সব দোকান থেকে সিট কাপড় আর শিশুদের তৈরি পোশাকের দোকানে মোটামুটি ভালো কেনাবেচা শুরু হয়েছে।
রমজানের প্রথম শুক্রবারে অন্যদিনের তুলনায় বেচাবিক্রি একটু ভালো বলে জানিয়েছেন বড় বাজারের সিট কাপড়ের কয়েকজন দোকানি। সিটি প্লাজা, মুজিব সড়কের অভিজাত পোশাকের শো-রুম, কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটেও দিনটি খারাপ যায়নি। উদ্বোধনের আগেই স্টেডিয়াম পাড়ায় বেচাকেনা শুরু হয়েছে পৌর হকার্স মার্কেটে। ঈদ উপলক্ষে টেইলার্সেও নেয়া হচ্ছে অর্ডার।
ছেলেদের শার্টের জন্য সিট কাপড়ের দোকানগুলোতে রঙবেরঙের স্টাইপ ও চেকের সূতি ও মিক্সড কাপড় বেশি তোলা হয়েছে। পাঞ্জাবির জন্য তোলা হয়েছে বাহারি চেক-জামদানির কাপড়। তবে আলী স্টোরের স্বত্বাধিকারী আনোয়ারুল ইসলাম লাভলু জানান, ‘ইন্ডিয়ান ও চায়না সূতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। যদিও ঈদের বাজার এখনো শুরু হয়নি।’ এইচএম ক্লথ স্টোরের মালিক রাফিউল আলম বাবু জানান, ‘ঈদ উপলক্ষে কাপড় আনা হয়েছে। আরো অনেক আইটেম আনা হচ্ছে। সরকারি, বেসরকারি ও প্রাইভেট জব হোল্ডাররা বেতন বোনাস পেলেই কেনাকাটা জমে উঠবে।’ গতকাল বড়বাজার ঘুরে জানা যায়, মেয়েদের জন্য প্রিন্টের সূতি কাপড় বেশি চলছে। সূতির উপরে পুঁথি-চুমকি-আয়নার কাজ ও এ্য¤্রয়োডারি করা কাপড়ের চাহিদাও রয়েছে বেশ। তবে ‘জর্জেট ও নেটের কাপড়ের বিক্রি খারাপ হবে না’ বলে আশা করছেন দোকানিরা। এ সব কাপড়ের গজ সাড়ে ৩শ’ টাকা থেকে শুরু। জর্জেট হলে সাড়ে ৬শ’ টাকা থেকে দাম নির্ধারণ হয়েছে।
মুজিব সড়কের অভিজাত দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, শিশুর জামা/ গেঞ্জি-প্যান্ট কিংবা ফ্রক/ গাউন-টাইস আইটেমে ন্যূনতম হাজার টাকা থাকতে হবে ক্রেতার পকেটে। তবে মেয়েদের লেহেঙ্গা, ডিভাইডার ফ্রক, কাতানের লং ফ্রক কিনতে সাড়ে তিন হাজারের নিচে পছন্দসই পোশাক মেলা ভার। পাঞ্জাবির দাম ৮শ’ থেকে শুরু। এই মার্কেটের শো-রুম আরপিএস’র মালিক কাজী এম এ হায়াত রাজু জানান, ‘এই মার্কেটে সব দোকানগুলোতেই কোয়ালিটি মেইনটেইন করে পোশাক তোলা হয়। কাপড়গুলো টেকসই। রঙও জলে না। তাছাড়া মার্কেট ঘুরে ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী পোশাক এই মার্কেটে মিলতে বাধ্য। আমাদের এখানে শিশু-কিশোরদের যে সব কালেকশন রয়েছে তা ক্রেতার হাতের নাগালেই।’
কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের আদিত্ত্ব ফ্যাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি মইনুল হাসান মুকুল জানান, ‘বৃহস্পতিবার থেকে বেচাবিক্রি শুরু হয়েছে। সব বয়সীদের জন্য তৈরি পোশাকের আয়োজন রয়েছে এই মার্কেটে। জামা ও প্যান্টের পিস, পাঞ্জাবিও পাওয়া যাচ্ছে। যশোরে সব থেকে কম দামে ভালো পোশাক আমাদের এই মার্কেটেই পাবেন ক্রেতারা।’ এখানের দোকান ঘুরে দেখা যায়, শার্টের পিস ৩শ’ এবং প্যান্টের সাড়ে ৩শ’ থেকে শুরু। শিশুদের পোশাকের দাম বয়স ভেদে বিভিন্ন রকম। তবে ১০/১২ বছরের বাচ্চার জন্য কোয়ালিটি ভেদে ১ থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
পৌর হকার্স মার্কেটের সেক্রেটারি মোহাম্মদ লাভলু জানান, ‘স্থান পরিবর্তন হওয়ায় মার্কেটটি এখনো সব ক্রেতাদের নজরে আসেনি। তাছাড়া বেতন বোনাস অনেকেই পাননি। তবে রমজানের প্রথম শুক্রবার বেচাবিক্রি ভাল হয়েছে। এই মার্কেটে ১৪৭টি দোকানের মধ্যে ৪০টির মতো দোকানে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। খুব কম মূল্যে সব ধরণের পোশাক আমাদের মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে। বেশি দামেও আছে। তবে তা আকাশচুম্বি না।’

তথ্যসূত্রঃ Samajer Katha