আপডেট: জুন ৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ১৭৪ বার

যশোর শহরে সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে অধিকাংশ এলাকা: পৌরবাসীর ভোগান্তি

ড্রেনেজ নির্মাণের পরও যশোর শহরের নাগরিকদের ভোগান্তি কমেনি। সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে। কোন কোন জায়গায় ড্রেনের পানি উপচে রাস্তায় পড়ঠেছ। গত দুদিনের  বৃষ্টিতে যশোর শহরের বেশকিছু এলাকা তলিয়ে গেছে। হাঁটু পর্যন্ত পানি রয়েছে শহরের শংকরপুর, চোপদারপাড়া, কারবালা, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা, খড়কীসহ বিভিন্ন এলাকায়। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেমের ফলে পানি নিষ্কাশনে সমস্যা বলে নাগরিকরা দাবি করেছেন।
বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরসভা যশোর। ১৮৬৪ সালে এ পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ যশোর পৌরসভার বয়স এখন ১৪৬ বছর। সুপ্রাচীন এই শহরে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি বললে অত্যুক্তি হয় না। শহরের পুরনো অংশে তো বটেই, নতুন অংশেও নেই কোনো পরিকল্পনার ছাপ। যে যার ইচ্ছামতো বাড়িঘর, দোকানপাট তৈরি করে রেখেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের সুবিধা এ শহরে খুবই কম। একটু বৃষ্টি হলেই তাই হাঁটুজল। শহরের অনেকেই বলেন, বর্ষায় যশোর শহরে বসবাসের চেয়ে নরকে বাস করা ভালো।
যশোর শহরের পানি নিষ্কাশিত হয় দুটি পথে। শহরের মধ্য ও উত্তরাংশের পানি চলে যায় ভৈরব নদে। আর দণিাংশের পানি যায় বিলহরিণায়। রাস্তাসহ অপরিকল্পিতভাবে নানা অবকাঠামো নির্মাণের ফলে হরিণার বিল ভরাট হয়ে গেছে অনেকখানি। বিলটি এখন আর শহরের পানি ধারণ করতে পারে না আগের মতো। ভৈরবের পানি ধারণমতা তুলনামূলক বেশি হলেও অপরিকল্পিত কালভার্ট নির্মাণ, কালভার্ট, ড্রেন ও পৌরসভার রাস্তা দখলের কারণে শহরের মধ্য ও উত্তরাংশের পানিও ঠিকমতো নিষ্কাশিত হচ্ছে না। সম্প্রতি এডিবির অর্থায়নে পৌরসভার উন্নত ড্রেনেজ নির্মাণ করা হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে ড্রেনেজ নির্মাণে কোন পরিকল্পনা না থাকায় সেটি কোন কাজে আসছে না। নাগরিকদের এই অসুবিধা নিরসনে যশোর পৌর কর্তৃপরে নেই তেমন কোনও উদ্যোগ। সে কারণে বছরের পর বছর একই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত যশোরে মুষলধারায় বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাট-বাড়িঘর এমনকি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। সদ্য নির্মিত পানি নিষ্কাশনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা যথাযথ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন নাগরিকরা। যশোর এমএম কলেজপাড়ার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ অভিযোগ করে বলেন,  পৌরসভা থেকে মাস দুয়েক আগে যে ড্রেনেজ নির্মাণ করা হয়েছে সেটি একেবারেই অপরিকল্পিত।  যে কারণে এসব ড্রেন দিয়ে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, সামনের বর্ষা মৌসুমে যশোর শহরের অধিকাংশ এলাকায় পানিতে ডুবে যাবে। এসব এলাকা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
একই এলাকার গৃহবধূ আসমা খাতুন বলেন, এমএম কলেজের দক্ষিণ গেটের জেমিন মোড়ে দীর্ঘদিনের সমস্যা। সামান্য বৃষ্টি হলে এখানে হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে থাকে। অথচ এর প্রতিকারে পৌর কর্তৃপক্ষ কোন উদ্যোগ নেয় না। তিনি বলেন, বর্তমানে ওই সড়ক দিয়ে রিকসা-ভ্যানতো দূরের কথা পায়ে হেঁটে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। রেলরোড এলাকার বাসিন্দা আবু জাফর বলেন, এই সড়কের ডালমিল এলাকায় ড্রেন থেকে পানি উপচে রাস্তায় পড়ছে। যে কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে রাস্তা দিয়ে মানুষের পারাপারে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি বলেন, এডিবির অর্থায়নে যেসব ড্রেন তৈরি হয়েছে যশোর শহরে তা যে কোনও কাজেই আসছে না তা প্রমাণিত। কেননা সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের অধিকাংশ এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতার জন্য ড্রেনেজ নির্মাণে অনিয়মের পাশাপাশি ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদীতে অবৈধভাবে দখল করে মাছ চাষের জন্য পাটা দেয়াকে দায়ী করেছেন অনেকে। তারা দাবি করেন, আগে শহরের সব পানি ভৈরব ও মুক্তেশ্বরী নদীতে নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু এখন পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। মতাসীন দলের লোকজন ভৈরব, মুক্তেশ্বরীসহ বিভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করছে। বর্তমানে নদীর অধিকাংশ এলাকাতেই মাছ চাষের নামে পাটা দিয়ে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। যে কারণে শহরের পানি নদীতে ঢুকতে পারছে না। আর এর ফলে শহরে জলাবদ্ধতা বেড়ইে চলছে।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj