আপডেট: মে ৩০, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৯১ বার

সড়কের নাম গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা
ঝিনাইদহ শহরের এই সড়কের নাম অগ্নিবীণা

আজাদ রহমান, ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহ শহরের এই সড়কের নাম অগ্নিবীণাছোট হোক আর বড় হোক—সব শহরেই সড়কের নাম থাকে। ঠিকানার জন্য যা জরুরিও বটে। সাধারণত খ্যাতিমান মানুষ, বিখ্যাত স্থাপনা কিংবা বিশেষ কোনো জায়গার নামে সড়কের নামকরণ দেখা যায়। কিন্তু জেলা শহর ঝিনাইদহে দুটি সড়কের নাম রাখা হয়েছে দুটি কালজয়ী বইয়ের নামে। 

গীতাঞ্জলি ও অগ্নিবীণা—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী দুটি কাব্যগ্রন্থের নামে ঝিনাইদহে রয়েছে দুটি সড়ক। ৪৫-৪৬ বছর ধরে সড়ক দুটি শহরের মানুষকে রবীন্দ্র-নজরুলকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাঁরা এই সড়ক নিয়ে গর্বিত। কারণ, বইয়ের নামে সড়কের নামকরণ অন্য কোথাও আছে কি না, তা তাঁদের জানা নেই।

.সড়ক দুটির নামকরণ কীভাবে হলো সে ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, ঝিনাইদহ শহরে স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে বেশির ভাগ সড়কের নামকরণ করা হয়। সে সময়ে ঝিনাইদহে মহকুমা প্রশাসক হিসেবে ছিলেন ইউনুছ আলী চৌধুরী। তিনি সাহিত্যচর্চা করতেন। তাঁর উদ্যোগে কবি, সাহিত্যিক ও মনীষীদের নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণ করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বঙ্গবন্ধু সড়ক, কবি সুকান্ত সড়ক, কবি গোলাম মোস্তফা সড়ক, বাঘা যতীন সড়ক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়ক, কে পি বসু সড়ক ইত্যাদি। এই সড়কগুলোর পাশাপাশি শহরের পায়রা চত্বর থেকে বেরিয়ে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কটির নামকরণ করা হয় অগ্নিবীণা সড়ক আর শিল্পকলা একাডেমির সামনে থেকে পুরোনো হাটখোলা পর্যন্ত গীতাঞ্জলি সড়ক।

ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলি সড়ক
ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলি সড়ক

 

ঝিনাইদহ শহরের গীতাঞ্জলি সড়কশহরের গীতাঞ্জলি সড়কের মাতৃ বাণিজ্য ভান্ডারের মালিক প্রশান্ত সাহা (৬০) বললেন, ‘বসবাস ও ব্যবসার কারণে এই সড়কে আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে আছি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন যে কাব্যগ্রন্থের জন্য, সেটির নামে সড়ক—এই বিষয়টা আমাকে আনন্দিত করে।’

শহরের অগ্নিবীণা সড়কের ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, অগ্নিবীণা কাব্যগ্রন্থের নামে সড়কের নামকরণ নিঃসেন্দেহে একটি ভালো কাজ। আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আমিনুর রহমান জানান, দুটি কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের নামে সড়ক, এটা বিরল ঘটনাই বলতে হয়। সব সময় এই দুই সড়ক মনে করিয়ে দিচ্ছে ওই দুটি কাব্যগ্রন্থের নাম, এটা খুবই ভালো লাগার বিষয়।

তথ্যসূত্রঃ prothom-alo