আপডেট: মে ২১, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৮৯ বার

বিপর্যস্ত ২১ জেলার জনজীবন

বিপর্যস্ত ২১ জেলার জনজীবন একদিকে প্রচন্ড গরম, আর তার সাথেই অব্যাহত লোডশেডিংয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলে লোডশেডিং। এক ঘণ্টা পর পর বিভিন্ন এলাকায় দেওয়া লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানার উৎপাদন। চিংড়ি ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানাগুলোর উপর এর তীব্র প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয়ভাবে উৎপাদন এবং ভারত থেকে আমদানি করার পরও এ অঞ্চলের মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মিটছে না। এ অঞ্চলে ৪৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েই যাচ্ছে। শহর এলাকায় ১১১ মেগাওয়াট এবং পল্লী এলাকায় ৩৩৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল। এ চাপ সামলাতে দিন-রাত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা করে দিনে ৪ থেকে ৬ বার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপডিকো) তথ্য মতে, শুক্রবার ছুটির দিনে পিকআওয়ারে (রাতে) দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একুশ জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। সরবরাহ হয় ৯শ’ দশমিক ৮ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৪৪৮ মেগাওয়াট। ভারত থেকে আমদানি করা ৪৮১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ৩৮০ মেগাওয়াটই নেওয়া হয় জাতীয় গ্রিডে। অফপিক আওয়ারে (দিনে) ৮৬৬ দশমিক ৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে কোনও ঘাটতি ছিল না।
তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরমে জনসাধারণের মাঝে অস্বস্তিকর অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে শ্রমজীবীদের অবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। অব্যাহত লোডশেডিং-এর কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। তাপদাহ বৃদ্ধির কারণে নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
বেসরকারি আবহাওয়া অফিস টোনা (বিডাব্লিউওটি) নড়াইলের আবহাওয়াবিদ পারভেজ আহমেদ পলাশ বলেন, গত কয়দিন ধরে বাতাসে আদ্রতা বেড়ে যাওয়ায় ভ্যাপসা গরম পড়েছে। একই সঙ্গে তাপমাত্রাও বেড়েছে। শনিবারও প্রায় প্রতিটি এলাকায় আরও ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা বেড়েছে। এ অবস্থা আরও তিন সপ্তাহ থাকতে পারে। মৌসুমী বায়ু প্রবেশ করলেই আবহাওয়ারে এই বৈরিভাব কমে যাবে। আগামী ২৫ মে পর্যন্ত প্রতিদিনই বিক্ষিপ্তভাবে দমকা হাওয়া, বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। দেশের অধিকাংশ জায়গায় ভ্যাপসা গরমে মানুষ অতিষ্ট।
ওজোপাডিকোর আওতাভুক্ত দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলো হচ্ছে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা। বরিশাল বিভাগের বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালি, বরগুনা ও ঝালকাঠি এবং ঢাকা বিভাগের গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারিপুর, শরিয়তপুর ও রাজবাড়ি।
ওজোপাডিকো’র প্রধান প্রকৌশলী হাসান আলী তালুকদার জানান, বিদ্যুতের সামান্য ঘাটতি তো আছেই। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় জরুরি সংস্কার কাজের জন্য ৩ ঘণ্টা থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২ মে হঠাৎ করে ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ ছিল। যে কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়। ওই সময় ওজোপাডিকোর ২১ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj