আপডেট: মে ১৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৯৮ বার

শেকড় যশোরের উদ্যোগে ৫ রতœগর্ভা মাকে সম্মাননা প্রদান

মিনা বিশ্বাস : শেকড় যশোরের উদ্যোগে ৫ রত্নগর্ভা মাকে সম্মাননা প্রদানরতœগর্ভা মা জাহান আরা সম্মাননা পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে সন্তানদের বড় করে তোলার সেসব দিনের স্মৃতিচারণ করেন। জীবন সংগ্রামের কথা। এমনিভাবে উত্তরীয় পরিহিত ও সম্মাননা ক্রেস্ট হাতে অন্যান্য রতœগর্ভা মা আলহাজ্ব সখিনা রহমান, জাহানারা বেগম, মোমেনা খাতুন বলে চলেন তাদের সন্তানদের নিয়ে জীবন সংগ্রামের কথা। উপস্থিতিরা তাদের কথা শুনে হয়ে ওঠেন আবেগাপ্লুত। কেউবা দৃপ্ত শপথ নেন, প্রেরণা পান আজ থেকে মাকে আরও বেশি করে ভালোবাসার কিংবা শ্রদ্ধা জানানোর জন্য।
বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে শেকড় যশোরের আয়োজনে রওশন আলী মঞ্চে অনুষ্ঠিত দু-দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন রোববার মায়েদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন ছিল এমনই আবেগঘন। রতœগর্ভা মায়েদের সম্মননা ছাড়াও এদিন মায়েদের খেলা, আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন ও মায়ের কাছে চিঠি লেখা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
এবারে রতœগর্ভা মায়ের সম্মাননা প্রাপ্তরা হলেন জাহান আরা, আলহাজ্ব সখিনা রহমান, জাহানারা বেগম, মোমেনা খাতুন এবং মরণোত্তর জোবেদা খাতুন।
জাহান আরা ঃ রতœগর্ভা এই মা পাবনা জেলায় ১৯২৮ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। এইচএসসি পর্যন্ত শিক্ষা লাভ করেন তিনি। জাহান আরা ও আবুল হোসেন দম্পতির ৬ পুত্র সন্তান। বড় ছেলে ড. আব্দুল্লাহ মোঃ ফারুক পিএইচডি। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ছিলেন। বর্তমানে অবসর নিয়ে ঢাকাতে বসবাস করছেন। দ্বিতীয় সন্তান ড.এস এম হোসেন সাইফ পিএইচডি তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রফেসর। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তৃতীয় ছেলে ডা.এসএম হোসেন শহীদ তিনি অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল এবং আর্মি মেডিকেল অফিসার ছিলেন। ঢাকায় বসবাস করছেন। চতুর্থ ছেলে ডা. এএম হোসেন সা’দ তিনি সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার ছিলেন। বর্তমানে রাজধানীর পপুলার ডায়াগনষ্টিকে দায়িত্ব পালন করছেন। পঞ্চম সন্তান এসএম হোসেন সাঈদ এমকম তিনি যশোরের একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। যশোরেই বসবাস করছেন। ষষ্ঠ সন্তান এএম হোসেন মাসুদ তিনি রাজধানীর পিজেড এ কর্মরত আছেন। সেখানেই বসবাস করছেন।
আলহাজ্ব সখিনা রহমান ঃ রতœগর্ভা এই মা নিজে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করলেও সন্তানদের সুশিক্ষিত করেছেন। সখিনা রহমান ও আলহাজ্ব সিদ্দিকুর রহমান দম্পতির ৫ সন্তান। তাদের প্রথম সন্তান রাজিয়া সুলতানা এমএসসি (গণিত)। তিনি বর্তমানে ঢাকা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে সহকারি পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত। সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। দ্বিতীয় সন্তান রুহুল আমিন তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এজিএম (ফাইন্যান্স ও একাউন্টস্) হিসেবে কর্মরত আছেন। তৃতীয় সন্তান আমির হোসেন তিনি ফার্স্ট সিকিউরিট ইসলামী ব্যাংকে কর্মরত আছেন। চতুর্থ সন্তান শারমীন সুলতানা তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। পঞ্চম সন্তান মেরিনা আফরিন অর্থনীতিতে পড়াশোনা করছেন। তিনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।
জাহানারা বেগম ঃ যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ান তলার রতœগর্ভা মা জাহানারা বেগম ও আব্দুর রহমান দম্পতির ৪ মেয়ে ও ২ ছেলে। তাদের প্রথম সন্তান এসএম জাহিদ ইকবাল যিনি ঢাকাস্থ একটি বেসরকারি কোম্পানীতে মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত। সেখানেই বসবাস করছেন। দ্বিতীয় সন্তান জেসমিন আরা পারভীন একটি কলেজে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। তৃতীয় সন্তান নাজমিন আরা পারভীন যশোরে স্বামী সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন। চতুর্থ সন্তান নাসরিন আরা পারভীন যশোরে এনজিও প্রতিষ্ঠান বাঁচতে শেখায় কর্মরত। পঞ্চম সন্তান এসএম জাফর ইকবাল যশোরে সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন। ষষ্ঠ সন্তান নারগিস আরা পারভীন রাজধানীর একটি কোম্পানীতে মার্চেন্ডাইজার হিসেবে কর্মরত। সেখানেই বসবাস করছেন।
মোমেনা খাতুন ঃ রতœগর্ভা এই মা ১৯৩৮ সালে যশোরের মনিরামপুরের বাঙালীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বেশিদূর লেখাপড়া না করতে পারলেও তিনি সন্তানদের সুশিক্ষিত করেছিলেন। মোমেনা খাতুন ও দ্বীন মোহম্মদ খাঁন দম্পতির ৬ ছেলে ৪মেয়ের মধ্যে প্রথম সন্তান জেবুন্নেছা নোমান তিনি স্নাতক পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। দ্বিতীয় সন্তান দৌলতুন্নেছা তিনি সরকারি চাকুরিজীবী। তৃতীয় সন্তান এমএম দৌলতানা তিনি বিসিএস ক্যাডার। বর্তমানে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে (ঢাকা) কর্মরত। চতুর্থ মোজাম্মেল হক তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে উপজেলা অফিসে কর্মরত। পঞ্চম সন্তান ডা.এনকে আলম। তিনি ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালে সার্জারী কনসালটেন্ট ও যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। ষষ্ঠ সন্তান জিল্লুর রহমান ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং (ঢাকা) এ কর্মরত। সপ্তম সন্তান শরিফুল আযম খাঁন তিনি শারিরীক সমস্যার কারণে বাড়িতে থাকেন। অপর সন্তান মুশতাক আহমেদ তিনি ঝিনাইদহ উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। আরেক সন্তান তিনি রহিমা খাতুন তিনি ঢাকা ইডেন মহিলা কলেজে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।
জোবেদা খাতুন (মরণোত্তর) ঃ রতœগর্ভা মা মরহুমা যশোরের বাঘারপাড়ার জোবেদা খাতুন ও অ্যাড. ছবির আহমেদের ৪ছেলে ও ৬ মেয়ে। প্রথম সন্তান হাজী জাহানারা বেগম তিনি এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। দ্বিতীয় সন্তান দিলারা বেগম তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ বর্তমানে রাজধানীতে বসবাস করছেন। তৃতীয় সন্তান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান তিনি ঢাকাতে কর্মরত। চতুর্থ সন্তান রওশন আরা তিনি দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। যশোরে বসবাস করেন। পঞ্চম সন্তান হোসনে আরা তিনি স্নাতক ডিগ্রিধারী। যশোরে বসবাস করেন। ষষ্ঠ সন্তান হাজী রেহেন আরা বাংলায় এমএ। সপ্তম সন্তান মাহফুজুর রহমান তিনি রসায়নে এমএসসি। রাজধানীতে কর্মরত। অষ্টম সন্তান মহিতুর রহমান তিনি এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। যশোরেই বসবাস করেন। নবম সন্তান প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান তিনি ঢাকায় কর্মরত। দশম সন্তান আঞ্জুমানারা তিনি রসায়নে এমএসসি। যশোরে বসবাস করেন।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj