আপডেট: মে ১৮, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৭৭ বার

রোজার আগেই যশোরের বাজার দর উর্ধ্বমুখী

মিনা বিশ্বাস : রোজার আগেই যশোরের বাজার দর উর্ধ্বমুখী রমজানে দাম বাড়বে না ব্যবসায়ী ও সরকারের দেয়া এমন আশ্বাস সত্ত্বেও যশোরের বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে চলেছে। রমজানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মধ্যে ছোলা, চিনি, ডাল, সয়াবিন, খেজুরের দাম উর্দ্ধমুখী। দোকান ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। তাই মূল্য তালিকা টাঙ্গানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।
মাস খানেক আগে থেকে সরকার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রনে থাকবে বলে ভোক্তাদের আশ্বস্ত করলেও তা মানা হচ্ছেনা। প্রায় ২০দিন আগে থেকেই ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরের দাম বাড়ানো হয়েছে। রোজায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা এসব পণ্যের অতিরিক্ত দাম ক্রেতাদের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া রোজায় চাহিদার শীর্ষে থাকা খেজুরের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার যশোরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকায়। চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ টাকা থেকে ৭০ টাকায়। দেশী মসুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১শ’ ২০ টাকায়। ইন্ডিয়ান মসুর ডাল ৮০ টাকা, খেসারি ডাল প্রতি কেজি ৭৫ টাকা থেকে ৮০ টাকা, মুগ ডাল ১শ’ ৫ টাকা কেজি, ছোলার ডাল ৮০ টাকা থেকে ১শ’ টাকা, বুটের ডাল ৩৬ টাকা কেজি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আটা ৩০ টাকা কেজি। বড়বাজারের বিক্রেতা রেজাউল বলেন, রোজার সময় মসুর ডালের দাম আরো বাড়তে পারে। ক্রেতা মনা বলেন, রমজানের কেনাকাটা করছি। শুধু ছোলা, চিনি, ডাল নয় সব পণ্যের দামই বেড়েছে বলে মনে হচ্ছে। দোকানভেদে একটু কম বেশি আছে। মূল্য তালিকা জরুরী। আরেক ক্রেতা নিশি বলেন, মাসখানেক আগেও ছোলা কিনেছি। তখনও ৭০ টাকায় পেয়েছি। কিন্তু আজ ৮৫ টাকায় কিনলাম। অনেক দোকানে মূল্য তালিকা মানা হচ্ছেনা। সব দোকানে মূল্য তালিকা ঝোলানো উচিত।
সয়াবিন এক মাসের ব্যবধানে কনটেনার প্রতি বেড়েছে ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। বিভিন্ন ব্র্যান্ড অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে ভোজ্য তেল। এরমধ্যে রূপচাঁদা ৫ লিটার বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ ২০ টাকায়। তীর, ফ্রেস, ভিওলা, মোস্তফা ব্র্যান্ড বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ ১০ টাকা থেকে ৫শ’ ১৫ টাকায়। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২ লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ২শ’ টাকা থেকে ২শ’ ১৫টাকায়। লবন প্রতি কেজি এসিআই, কনফিডেন্স, ফ্রেস ৩২ টাকা। রোজায় চাহিদার শীর্ষে থাকা খেজুর বর্তমানে ৬০টাকা থেকে মানভেদে ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বেড়েছে গরুর মাংসের দাম। শহরের বিভিন্ন মাংসের দোকানে ৪শ’ ৮০ টাকা থেকে ৫শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গরুর মাংস। ক্রেতা সবুজ বলেন, মনে হচ্ছে গরুর মাংস আর কেনা যাবেনা। এ যাবতকালে গরুর মাংসের এটিই সর্বোচ্চ দাম। শুনেছি আরও বাড়বে। আসলে বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭শ’ টাকা থেকে ৭শ’ ৫০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগী ১শ’ ৪০ টাকা, সোনালি ২শ’ ৫০ টাকা, দেশি মুরগী সাড়ে ৩শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা মাহি বলেন, রোজা আসার আগেই সবজি থেকে শুরু করে মাছ মাংসের দাম যেভাবে বাড়ছে নিম্ন বিত্তের কথা না হয় বাদই দিলাম। তাদের কথাতো ভাবাই জায়না। আমার মতো মধ্যবিত্ত যারা তারাই তো খাবারের কষ্টে থাকবে সিয়াম সাধনার মাসটিতে।
মশলা বাজারে রসুনের দাম খানিকটা স্থিতিশীল। বিক্রেতা হারুন বলেন, বাজারে এখন নতুন রসুন আসায় দাম কমেছে। তবে বড় সাইজের চায়না বা থাই রসুনের দাম আগের মতোই আছে। দেশি রসুন ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, চায়না বড় রসুন ২শ’ ২০টাকা, কোরাস পিঁয়াজ ২৫ টাকা কেজি, দেশি পিঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি। আদা ৮০ টাকা কেজি। জিরা ১শ’ টাকা, তুর্কি জিরা ৩শ’ ৪০ টাকা, সিরিয়ান জিরা ৩শ’ ৫০ টাকা। অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা রোজায় বহুল ব্যবহৃত এসব পণ্যের দাম আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বেড়েছে চালের দাম। চাল বাজারে স্বর্ণা, রতœা, আঠাশ, পাইজাম জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকা থেকে ৪৬ টাকা পর্যন্ত। মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৬ টাকা থেকে ৪৮ টাকায়, বাংলামতি ও বাসমতি ৬০ টাকা, নাজির শাইল ৬২ টাকা। সবজি বাজারে আলু প্রতি কেজি ১৫ টাকা, পটল প্রতি কেজি ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা কেজি, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৪০ টাকা, কচুর লতি ৩০ টাকা কেজি। বেগুন প্রতি কেজি মানভেদে ২০ টাকা থেকে ৪০ টাকা, শশা ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা কেজি, সাজনা ৪০টাকা থেকে মানভেদে ১শ’ টাকা কেজি, কাঁচাকলা ২০টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, উচ্ছে ৪০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ২০ টাকা থেকে মানভেদে ৪০ টাকা পর্যন্ত। মিষ্টি কুমড়া ২৫ টাকা কেজি, লাউ ও চালকুমড়া সাইজ অনুযায়ী ৩০ টাকা থেকে ৫০টাকা।

তথ্যসূত্রঃ Daily gramerkagoj