আপডেট: মে ১৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৬৭ বার

কোটচাঁদপুরে দু’মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে ছাত্র ও যুবলীগের তিন নেতা গ্রেফতার

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহিন, যুবলীগ নেতা কৃষ্ণ ও রাজু আহম্মেদ ধর্ষণের দায়ে বুধবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন। শাহিন কোটচাঁদপুর রেলস্টেশন পাড়ার ফজলুর রহমানের ছেলে। গ্রেফতারকৃত অন্য দুই ধর্ষক হচ্ছেন স্টেশনপাড়ার হারেজ আলীর ছেলে রাজু আহম্মেদ ও বাজেবামুনদা গ্রামের যুবলীগের ওয়ার্ড সভাপতি শ্রীকান্তের ছেলে কৃষ্ণ কুমার। পুলিশ আজগার আলী ও সবুজ নামে আরো দুই ধর্ষককে খুঁজছে। ধর্ষকদের মধ্যে দুইজন কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জাহিদুল ইসলাম জিরের দেহরক্ষী বলে অভিযোগ উঠেছে। কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে থানায় বুধবার দুপুরে ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং-৯/২০১৭। তিনি জানান, শেখ শাহিন, রাজু আহম্মেদ ও কৃষ্ণ নামে তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এছাড়া আজগার আলী ও সবুজ নামে আরো দুই ধর্ষককে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মামলার এজাহার, পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার কালীগঞ্জ উপজেলার নলডাঙ্গা ও মনোহরপুর গ্রামের দুই মেয়ে কোটচাঁদপুরে আসে সুন্দরবন এক্সপ্রেসে ঢাকায় যাওয়ার জন্য। তারা গার্মেন্টসে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিল। রাতে তারা ট্রেনের জন্য কোটচাঁদপুরে প্লাটফর্মে অপো করছিল। এ সময় যুবলীগ নেতা কৃষ্ণ, রাজু, সবুজ, আজগার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহিন তাদের উঠিয়ে প্রথমে বিহারিপাড়া ও পরে সরকারি কেএমএইচ ডিগ্রি কলেজের পেছনে রিকশাচালক আজিমের কলোনীতে নিয়ে যান। সেখানে আজিমের স্ত্রীর সহায়তায় সারারাত ধরে মেয়ে দুইটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালান। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৬০ হাজার টাকায় রফা করা হয়। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনাটি জানাজানি হয়ে পড়লে পুলিশ বুধবার তাদের গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়।
কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জাহিদুল জানান, ধর্ষকরা তার কোন দেহরী নয়। কৃষ্ণের বাবা চা বিক্রেতা ও রাজুর মা ভিাবৃত্তি করে। তারা ছাত্র ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের কোন্দল থাকায় বিষয়টি নিয়ে গেম খেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, আমি ট্রেনিংয়ে ঢাকায় আছি। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে পুলিশ কোন আপোস করবে না। মেয়ের চাচা বদরুজ্জামান ও নিকটাত্মীয় মতিয়ার রহমান জানান, মেয়ে দুইটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। তারা যার যার নাম বলছে এবং চিনতে পেরেছে পুলিশ তাদের আসামি করছে। কোটচাঁদপুর থানার ওসি বিপ্লব কুমার সাহা জানান, বুধবার বিকালে ডাক্তারী পরীার জন্য মেয়ে দু’টিকে ঝিনাইদহে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাকিল আহম্মেদ জানান, যদি এমন ঘটনা ঘটেই থাকে তবে আমিও এ ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি। তিনি আরো জানান, যেহেতু কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ শাহিন গ্রেফতার হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা হয়েছে আমরা তাকে বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠাবো।

তথ্যসূত্রঃ Daily Loksomaj