আপডেট: মে ১৩, ২০১৭   ||   ||   মোট পঠিত ৮৮ বার

বৃহত্তর যশোরকে বিভাগ ঘোষণা ও বাস্তবায়ন দাবিতে মানববন্ধন

মোঃ হাসানূজ্জামান বিপুল: বাংলার প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী জেলা বৃহত্তর যশোরকে বিভাগ ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে অদ্য মে ০৬, ২০১৭ শনিবার সকাল ১০:০০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও যশোর ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট খান টিপু সুলতানের সভাপতিত্বে এবং মাগুরা জেলা সমিতি, ঢাকা-এর সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব কাজী শফিকুর রহমান শাকিল-এর সঞ্চালনায় সংগঠনের পক্ষ থেকে অবস্থানপত্র পাঠ করেন বৃহত্তর যশোর সমিতি, ঢাকা-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব কাজী রফিকুল ইসলাম।

দেড় ঘণ্টা ব্যাপি মানববন্ধন ও সমাবেশে বৃহত্তর যশোরকে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিকে সমর্থন করে বক্তব্য প্রদান করেন, সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব শৈলেন্দ্রনাথ সাহা, সহ-সভাপতি সাকুরা সাবের, নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকা-এর সাধারণ সম্পাদক জনাব লেঃ কর্নেল (অব.) হাসান ইকবাল, মাগুরা জেলা সমিতি, ঢাকা-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি জনাব অ্যাড. কাজী রেজাউল হোসেন, মাগুরা জেলা সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়া মাসুদুর রহমান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক অব্দুল মজিদ, যশোর ইনফো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন সিদ্দিকী মিশু, বৃহত্তর যশোর উন্নয়ন ও বিভাগ বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জনাব হাসানুজ্জামান বিপুল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল্লাহ আল-মামুন, সাইদুজ্জামান তুষার, সরদার আব্দুল গফ্ফার, মোঃ নাসিরুল ইসলাম নাসির, মোঃ রবিউল ইসলাম রিংকু, কোষাধ্যক্ষ জনাব মোঃ নাসির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল চৌধুরী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ উজ্জ্বল হোসেন, দপ্তর সম্পাদক জাকারিয়া অর্ণভ, সংগঠনের যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক জনাব মোঃ হাববুর রহমান খান প্রমুখ।

সভায় বক্তারা বলেন, যশোর শুধু বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে পুরাতন জেলাই নয়, সমগ্র ভারতের মধ্যে প্রথম জেলা। যশোর শুধু একটি জেলা নয়, যশোর একটি ইতিহাস, স্বাধীন বাংলার উৎপত্তিস্থল, মহান মুক্তিযুদ্ধের সুঁতিকাগার। তাঁরা বলেন, আজকের বিভাগ খুলনা এক সময়ে যশোরের একটি মহকুমা ছিলো যা যশোর জেলা হবার ৬১ বছর ১৮৪২ সালে মহকুমা এবং ১০০ বছর পর ১৮৮২ সালে জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৮১ সালে ইংরেজ সরকার কর্তৃক তৈরি যশোরের মানচিত্রে উল্লেখ আছে বৃহত্তর খুলনা ছাড়াও যশোরের অধীনে ছিলো ভারতের ২৪ পরগনা, নদীয়া, বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, পাবনা ও ফরিদপুরের অনেকাংশ। যশোরের বেনাপোল বন্দর হতে সরকার বছরে যে ৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব পায় তা দিয়ে যশোরের উন্নয়ন না করে বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার উন্নয়ন করা হয়। যশোরের ফুল, মাছ, সবজীসহ অনেক কিছুই উৎপাদনে শীর্ষে অবস্থান করছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই জেলাটি ভারত বিভক্তের পর থেকে শুধু অবহেলায় সহ্য করেছে। সবচেয়ে হতাশার, আজকের যশোরকে বিভাগ ঘোষণার জন্য দাবি জানাতে হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তারা বলে, এই দাবি শুধু আবেগের নয়, এটি সময়োপযোগী এবং অপরিহার্য। যেসব যুক্তিতে অন্যান্য জেলাকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ব্যবস্থা হিসেবে বিভাগ করার পরিকল্পনা চলছে সেসব যুক্তি ও যোগ্যতার সকল কিছুই বিদ্যমান বৃহত্তর যশোরে। সরকারের চলমান এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যশোরকে বিভাগ ঘোষণা বৃহত্তর যশোরবাসীর প্রাণের দাবি। মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে বৃহত্তর যশোরের চারটি জেলা যশোর মাগুরা, ঝিনাইদহ ও নড়াইলের পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া এবং মেহেরপুরকে অন্তুর্ভুক্ত করে যশোরকে বিভাগ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিএম গাজী সাইফুর রহমান, ডিজিএম মোহসিন হোসাইন, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম, চারটি জেলা ও উপজেলা সমিতির নেতৃবৃন্দসহ বৃহত্তর যশোরের ৫ শতাধিক ব্যক্তি।

তথ্যসূত্রঃ From Email